Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিষ্ণুপুরে পোল্ট্রি ফার্মগুলোর আশপাশে বাড়ছে শিয়ালের উপদ্রব, উৎপাত বেড়েছে ভামেরও

বিষ্ণুপুরে পোল্ট্রি ফার্মগুলোর আশপাশে বাড়ছে শিয়ালের উপদ্রব, উৎপাত বেড়েছে ভামেরও
  • ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: পোল্ট্রি ফার্মের মরা মুরগি খেয়ে হৃষ্টপুষ্ট হচ্ছে বনের শিয়াল। বংশ বাড়িয়ে লোকালয়ে হানা দিচ্ছে ধূর্ত শিয়ালের দল। বাঁকুড়া জেলায় শিয়ালের অস্বাভাবিক বংশবৃদ্ধিতে বনকর্মীরা বেশ উদ্বিগ্ন। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় প্রচুর সংখ্যক পোলট্রি ফার্ম গড়ে উঠেছে। সেখানকার মরা মুরগির লোভে শিয়ালের দল জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে চলে আসছে। শিয়াল সর্বভুক প্রাণী হলেও অতি সহজেই মুরগির মাংস পেয়ে যাওয়ায় অন্যান্য খাবারে তাদের অরুচি হচ্ছে। তারা ক্রমে পূর্ণ মাত্রায় মাংসাশি প্রাণী হয়ে উঠেছে। শিয়াল ছাড়াও মুরগির লোভে লোকালয়ে হিংস্র প্রকৃতির জন্তু ভামের উৎপাতও বেড়েছে। 
Advertisement
বিষ্ণুপুর বনবিভাগের এক আধিকারিক বলেন, শিয়ালের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গিয়েছে। এলাকায় পোলট্রি ফার্মের সংখ্যা বেড়েছে। ফার্মের মরা মুরগি জঙ্গলের ধারে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। তা খেয়ে খেয়ে শিয়াল বেশ হৃষ্টপুষ্ট হচ্ছে। মূলত খাবারের লোভেই তারা লোকালয়ে চলে আসছে।   
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে সন্ধ্যা নামলেই গ্রামেগঞ্জে শিয়ালের ডাক শোনা যেত। তাদের খুব কমই চোখে দেখা যেত। কিন্তু এখন তারা দিনের বেলাতেই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। শুধু তাই নয়। আগে অপুষ্টিতে ভোগা শিয়ালদের স্থানীয় ভাষায় ‘খেকুরে শিয়াল’ বলা হত। আর এখন অধিকাংশ শিয়াল পোলট্রি ফার্মের মরা মুরগি খেয়ে  তারা বেশ হৃষ্টপুষ্ট হয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়। তারা এখন পুর্ণাঙ্গ মাংসাশি প্রাণী হয়ে উঠেছে। এমনকি দিন দিন সাহস বেড়ে যাওয়ায় লোকালয়ে দিনের বেলাতেই ঘোরাঘুরি করছে। জঙ্গলের রাস্তায় মানুষ দেখলে ভয়ে পালানো তো দূরের কথা, রীতিমতো তেড়ে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে শিয়ালের কামড়ে মানুষ জখমও হচ্ছেন। 
বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা সর্বানন্দ মজুমদার বলেন, শিয়ালের দল লাগোয়া জঙ্গল থেকে শহরেও ঢুকে পড়ছে। কিছুদিন আগে হাঁটতে গিয়ে চৌকানের জঙ্গল থেকে শিয়ালের আক্রমনের মুখে পড়েছিলেন এক ব্যক্তি। 
জয়পুরের তাঁতিপুকুর এলাকার বাসিন্দা বিজয় লোহার বলেন, শিয়ালের দল আগে ইঁদুর, খরগোশ, গিরগিটি সহ জঙ্গলের মধ্যে ছোট ছোট প্রাণী শিকার করে খেত। বর্তমানে আমাদের এলাকায় প্রচুর পোলট্রি ফার্ম গড়ে উঠেছে। ফার্মের মরা মুরগি এবং পচা ডিম জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। তা খেয়ে শিয়ালরা বেশ হৃষ্টপুষ্ট হচ্ছে। সেজন্য এখন আর ‘খেকুরে শিয়াল’ দেখা যায় না। এখন তাদের জঙ্গলে খাবার খুঁজে বেড়াতে হচ্ছে না। অনায়াসেই তা পেয়ে যাচ্ছে। সেজন্য পোলট্রি ফার্ম এলাকায় তারা সর্বক্ষণ ঘুরে বেড়াচ্ছে। আগে দিনের বেলায় শিয়াল দেখা যেত না। এখন ফার্ম লাগোয়া রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করলে শিয়ালর দল তেড়ে আসছে। শুধু তাই নয়। মুরগির লোভে হিংস্র প্রকৃতির জন্তু ভামের উৎপাতও বেড়েছে। এমন ব্যাপার আগে দেখা যেত না।
সম্পর্কিত সংবাদ