Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিষ্ণুপুরে দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত তিন শিশুর বাবার নাম আবাসের তালিকায়

বিষ্ণুপুরে দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত তিন শিশুর বাবার নাম আবাসের তালিকায়
  • ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত সন্তানদের সৎকার করেই আবাস যোজনার টাকা চাইতে দিল্লি উড়ে গিয়েছিলেন বিষ্ণুপুরের বরামারার তিন হতভাগ্য পিতা। তাঁদের কাতর আর্জি কানে ঢোকেনি মোদি সরকারের। তবে কথা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ১২ লক্ষ উপভোক্তার বাড়ির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে টাকা দেওয়ার ছাড়পত্র দিয়েছেন তিনি। তাতে বরামারা গ্রামের সন্তানহারা তিন পিতা জয়দেব সর্দার, প্রশান্ত সর্দার ও চণ্ডি সর্দারের নামও রয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে মোবাইলে মুখ্যমন্ত্রীর সেই অনুষ্ঠান দেখছিলেন ‌জয়দেববাবুরা। সন্তান হারানোর বেদনার মাঝেই তাঁদের মনে লাগে এক টুকরো খুশির ছোয়া। বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন, বরামারায় মাটির দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত তিন শিশুর পরিবারের নাম বাংলার বাড়ির প্রকল্পের তালিকায় রয়েছে। তাঁদের অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা ঢুকে যাবে। 
Advertisement
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বিষ্ণুপুরের বাঁকাদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বরামারা গ্রামে বৃষ্টির জেরে মাটির দেওয়াল ধসে পড়ে। পাশেই খেলছিল রোহন সর্দার, নিশা সর্দার ও অংশু সর্দার নামে তিন শিশু। তাদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। ঠিক ওই সময়েই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আবাস যোজনার টাকা আদায়ের জন্য দিল্লিতে ধর্না কর্মসূচি চলছিল। পরের দিনই তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন বরামারা গ্রামে আসেন। তাঁর সঙ্গে দিল্লি উড়ে যান মৃত তিন শিশুর পিতারা। কিন্তু তারপর একবছর পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্র সরকার আবাস যোজনার টাকা দেয়নি। তবে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতি তিনি রেখেছেন।
বরামারা গ্রামের বাসিন্দা জয়দেব সর্দার বলেন, আমরা সন্তানদের ফিরে পাব না। কেন্দ্রের আবাস তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও আমরা পাকা বাড়ি পাইনি। পেলে হয়তো আমাদের সন্তানহারা হতে হতো না। তবুও অধিকার ছিনিয়ে আনতে সন্তানের সৎকার সেরেই আমরা দিল্লিতে ধর্নামঞ্চে হাজির হয়েছিলাম। কিন্তু তাতেও মোদি সরকারের মন গলেনি। মুখ্যমন্ত্রী বাড়ির জন্য টাকা দিচ্ছেন। এতে আমরা খুশি। একই মন্তব্য করেছেন একই দুর্ঘটনায় মৃত অপর দুই শিশুর পিতা প্রশান্ত এবং চণ্ডি সর্দার। জয়দেববাবুর স্ত্রী মধুমিতা সর্দার বলেন, আগে পাকা বাড়ি পেলে আমার ছেলেকে হারাতাম না। আমরা কোনও রাজনীতি চাইনি। তবুও আমাদের মতো আর কারও কোল যাতে শূন্য না হয়, সেজন্য আমার স্বামী সন্তান হারানোর ক্ষত বুকে নিয়েই দিল্লি গিয়েছিলেন। তাতেও কেন্দ্র সরকারের মন গলেনি। মুখ্যমন্ত্রী পাকা বাড়ির জন্য টাকা ছেড়েছেন। এতে আমরা খুশি।  
সম্পর্কিত সংবাদ