সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় জিনাতের আতঙ্ক কাটলেও বিষ্ণুপুরে দলছুট মারকুটে হাতি চিন্তা বাড়িয়েছে। রবিবার রাতে তার হামলায় বিষ্ণুপুরের গোঁসাইপুর গ্রামের নবীন বিশ্বাস জখম হয়েছেন। তাঁকে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাতির শুঁড়ের আঘাতে মাটিতে পড়ে গেলেও কোনওরকমে হামাগুড়ি দিয়ে লুকিয়ে পড়ায় এযাত্রায় প্রাণে বেঁচেছেন। দলছুট ওই হাতিটি এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চরকির মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। মানুষ দেখলেই আক্রমণ করছে। হাতিটি বর্তমানে জয়পুরের জঙ্গলে রয়েছে। তবে সন্ধ্যা নামলেই সে বেরিয়ে আসছে। সেই জন্য বনদপ্তরের তরফে একাধিক রেঞ্জ এলাকায় সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। বনদপ্তরের বিষ্ণুপুর পাঞ্চেত ডিভিশনের আধিকারিক রাজু সরকার বলেন, দলছুট একটি হাতি জয়পুরের জঙ্গলে রয়েছে। তবে হাতিটি নির্দিষ্ট একটি জায়গায় থাকছে না। তা সত্ত্বেও বনকর্মীরা হাতির গতিবিধির উপর নজর রেখেছেন। হাতির হানায় এক যুবক জখম হয়েছেন। তাঁর চিকিৎসা করানো হচ্ছে। জখম নবীন বিশ্বাস বলেন, রবিবার আমি বাজার থেকে বাইকে বাড়ি ফিরছিলাম। গ্রামে পৌঁছতেই বাসিন্দাদের চিৎকার শুনতে পাই। হাতি আসার খবর পেয়ে আমি গ্রামের ফুটবল মাঠের ধারে বাইকটি রেখে দিই। কিছুটা এগতেই হাতিটি আমার দিকে তেড়ে আসে। পিছন ফিরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও হাতিটি শুঁড়ে করে আমাকে আঘাত করে। আমি পড়ে গিয়েছিলাম। হামাগুড়ি দিয়ে কোনওরকমে পালাতে সক্ষম হই। পরে গ্রামবাসীরা ও বনকর্মীরা আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করে। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শনিবার ওই হাতিটি পশ্চিম মেদিনীপুরের দিক থেকে বাঁকাদহ এলাকায় ঢোকে। পূর্ণবয়স্ক পুরুষ হাতিটির দু’টি ছোট দাঁত রয়েছে। সে এতটাই ক্ষিপ্ত হয়ে রয়েছে যে, একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত কার্যত দৌড়ে বেড়াচ্ছে।



