Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিষ্ণুপুরে ধরপাকড় শুরু হতেই খাতড়ায় সক্রিয় বালি মাফিয়ারা  

বিষ্ণুপুরে ধরপাকড় শুরু হতেই খাতড়ায় সক্রিয় বালি মাফিয়ারা
 
  • ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বিষ্ণুপুরে পুলিসি ধরপাকড় শুরু হতেই খাতড়া মহকুমার দিকে নজর দিয়েছে বালি মাফিয়ারা। খাতড়া মহকুমা এলাকার তালডাংরা, সিমলাপাল, সারেঙ্গা, রাইপুর সহ অন্যান্য ব্লক এলাকায় বালি মাফিয়াদের সক্রিয়তা হঠাৎ বেড়ে গিয়েছে। জয়পাণ্ডা, শিলাবতী, কংসাবতী সহ অন্যান্য নদী ও জোড়বাঁধ থেকে দেদার বালি ও মাটি কেটে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। এর আগেও ওইসব এলাকা থেকে বেআইনিভাবে বালি উত্তোলন করা হয়। তার ফলে নদী ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। নদী তীরের রাস্তাঘাট ধসে গিয়েছে। আগামী দিনে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে বলে গ্রামবাসীরা আশঙ্কা করছেন। 
Advertisement
বিষয়টি নিয়ে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন ও ভূমিদপ্তরের আধিকারিকরা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি তথা তালডাংরার বাসিন্দা অনুসূয়া রায় বলেন, বালি ও মাটি পাচারের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সংবাদমাধ্যমের কাছে বিষয়টি শুনেছি। সাধারণত নদীঘাট নিলামে তোলার পর বালি উত্তোলনের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ফলে বেআইনি বালি উত্তোলনের ব্যাপারে বিস্তারিত না জেনে কোনও মন্তব্য আমি করতে পারব না। তবে নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সেচমন্ত্রীর দ্বারস্থ হব। শীঘ্রই মন্ত্রীর সঙ্গে আমার দেখা করার কথা রয়েছে। তাঁর গোচরে বিষয়টি আমি আনব। সিমলাপালের বাসিন্দা আখতার খান, সুশোভন শতপথী বলেন, বেআইনিভাবে বালি উত্তোলনের ফলে নদীগর্ভে যত্রতত্র গভীর খাদের সৃষ্টি হচ্ছে। সেই খাদ ভরাট করতে বর্ষার সময় আশাপাশের মাটি, বালি সেখানে গিয়ে জমা হচ্ছে। তারফলে পাড়ে ভাঙন ধরছে। প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে জঙ্গলমহলের বিভিন্ন গ্রাম নদী গর্ভে আগামী দিনে তলিয়ে যাবে। 
উল্লেখ্য, বাঁকুড়ায় চলতি মরশুমে বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। পুলিস, প্রশাসন ও ভূমিদপ্তরের নাকের ডগায় মাফিয়ারা বালি পাচার করছে। মাফিয়া আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বালি পাচারে বাধা পেয়ে পুলিসের উপর আক্রমণ করতেও পিছুপা হচ্ছে না। সোনামুখী, বিষ্ণুপুর সহ অন্যান্য থানা এলাকায় পুলিস মাফিয়া আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে। ওন্দা থানার পুলিসও ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু বালি ভর্তি ট্রাক্টর পুলিস বাজেয়াপ্ত করেছে। তারমধ্যে নম্বর প্লেট বিহীন ট্রাক্টরও রয়েছে। তুলনায় খাতড়া মহকুমায় সেভাবে অভিযান শুরু হয়নি। সেখানে মাফিয়ারা সক্রিয়তা বৃদ্ধি করেছে। তারফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট, বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি, ভূমিক্ষয় ও নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কায় বাসিন্দারা ফের প্রমাদ গুনতে শুরু করেছেন।
সম্পর্কিত সংবাদ