Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিষ্ণুপুর বাস টার্মিনাসে চালককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ, চাঞ্চল্য

বিষ্ণুপুর বাস টার্মিনাসে চালককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ, চাঞ্চল্য
  • ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বিষ্ণুপুর বাস টার্মিনাসে এক চালককে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। মৃতের নাম মধুসূদন গুঁই। শুক্রবার তাঁকে জখম অবস্থায় বাস টার্মিনাসে পড়ে থাকতে দেখা যায়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁকে মারধর করে খুন করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। পুলিস জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ঘটনায় অপর এক বাসের চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতের নাম শেখ সফিরুদ্দিন ওরফে কিরণ। তার বাড়ি গড়বেতা থানা এলাকায়। 
Advertisement
বাঁকুড়া জেলা বাস ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর শাখার কার্যকরী সভাপতি তথা বিষ্ণুপুর পুরসভার ১৯নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অতনু মণ্ডল বলেন, আমাদের সংগঠনের সদস্য মধুসূদনবাবুর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার পুলিস তদন্ত করছে। 
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুর শহরের কৈলাসতলার বাসিন্দা মধুসূদনবাবু(৫৭) দীর্ঘ প্রায় ৩০বছর ধরে বাস চালাচ্ছেন। তিনি বাঁকুড়া-নাড়িচা রুটে একটি বেসরকারি বাস চালাতেন। শনিবার বাড়ি আসতেন। বাকি দিন বাসেই থাকতেন। বৃহস্পতিবার রাতে যাত্রী নিয়ে বিয়েবাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে বাস খারাপ হয়ে যায়। অন্য একটি বাসে যাত্রীদের তোলা হয়। খারাপ বাসটির মেরামত করে বিষ্ণুপুর বাস টার্মিনাসে আসতে মধুসূদনবাবুর গভীর রাত হয়ে যায়। বাসটিকে পার্কিং করার সময় পিছনে থাকা একটি বাসে ধাক্কা লাগলে ওই বাসের কর্মচারীদের সঙ্গে বচসা হয়। তারপর মধুসূদনবাবু টার্মিনাসে জখম অবস্থায় পড়ে ছিলেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ তাঁকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা ১২নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলারকে খবর দেন। তিনি বাড়িতে খবর পাঠান। পরিবারের লোকজন তাঁকে টোটোয় চাপিয়ে প্রথমে বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু, শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে তাঁকে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যু হয়। তা জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। টার্মিনাসে বাসের ধাক্কা লাগায় তাঁকে মারধর করা হয়েছে। তার জেরেই মৃত্যু হয়েছে বলে শনিবার সকালে পরিবারের লোকজন বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে পুলিস সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে। সন্দেহজনক পাঁচ বাসকর্মীকে আটক করে। পরে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মৃতের স্ত্রী চন্দনা গুঁই বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে রিজার্ভে বাস নিয়ে যাওয়ার কথা আমাকে জানিয়েছিলেন। শুক্রবার সকালে বাস টার্মিনাসে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর পেয়ে প্রথমে আমার ছেলে যায়। সে টোটোয় করে বাড়িতে নিয়ে আসে। কিন্তু, ওই সময় স্বামী কথা বলতে পারছিলেন না। বুকে কষ্ট হচ্ছে বলে ইশারায় জানিয়েছিলেন। তারপরেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু, শেষ রক্ষা হয়নি। বাসে ধাক্কা মারাকে কেন্দ্র করে অন্য বাসের কর্মচারীদের সঙ্গে ঝামেলার খবর পাই। স্বামীকে মারধর করা হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ। তাছাড়া শরীরে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে। সেই জন্য স্বামীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিসের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ