Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিষ্ণুপুরে ২৪ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন ধ্রুপদী সুরযজ্ঞের সূচনা 

বিষ্ণুপুরে ২৪ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন ধ্রুপদী সুরযজ্ঞের সূচনা 
  • ৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: আজ, শনিবার বিষ্ণুপুরে টানা ২৪ ঘণ্টা ধরে ধ্রুপদী সুরের যজ্ঞ বসবে। পুরসভা সংলগ্ন একটি বেসরকারি ভবনে আয়োজিত ওই যজ্ঞে দুই শতাধিক সঙ্গীতশিল্পী সুরসাধনায় মজবেন। বিষ্ণুপুর ঘরানা সহ শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের নানা ধারার সুরে যজ্ঞকে আলোকিত করবেন শিল্পীরা।  শনিবার সকাল ১০টায় সুরযজ্ঞ শুরু হবে। তা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। রবিবার সকাল ১০টায় তা সম্পূর্ণ হবে। গত ৩৩ বছর ধরে অভিনব ওই সুরযজ্ঞ অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। তা দেখতে দূর দূরান্তের সঙ্গীতপ্রেমীরা আসেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন। 
Advertisement
উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিষ্ণুপুর রামশরণ মিউজিক কলেজের অধ্যক্ষ সুজিত গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, বিষ্ণুপুর ঘরানার সঙ্গীতের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে সুরযজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবার তা ৩৪তম বর্ষে পড়ল। ওই অনুষ্ঠানে সঙ্গীতপ্রেমীদের মধ্যে বিপুল সাড়া পাওয়া যায়। আজ, শনিবার তার শুভারম্ভ হবে। রবিবার শেষ হবে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোনও সময় সুর বন্ধ হবে না। নিরবচ্ছিন্নভাবে তা চলবে। সেই জন্যই সুরযজ্ঞ নাম দেওয়া হয়েছে। 
সুরযজ্ঞের অন্যতম আহ্বায়ক তপন গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, সঙ্গীতাচার্য অমরনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের স্মৃতি উদ্দেশ্যে প্রথম অখণ্ড সুরযজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতকে ভালোবেসে প্রতিবছর দূর দূরান্ত থেকে শিল্পীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এবারও দুই শতাধিক শিল্পী থাকবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহকুমা শাসক, বিধায়ক, পুরসভার চেয়ারম্যান সহ বিশিষ্টরা উপস্থিত থাকবেন। 
বিষ্ণুপুরের শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের শিল্পীদের একাংশের বক্তব্য, প্রতিবছর আমরা ওই দিনটার অপেক্ষায় থাকি। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের শ্রোতা খুবই কম। কিন্তু, সুরযজ্ঞ অনুষ্ঠান কেবলমাত্র শাস্ত্রীয় সঙ্গীতেরই অনুষ্ঠান। যাঁরা আসেন, তাঁরা খুবই মনোযোগ সহকারে গান শোনেন। শিল্পীরাও গান পরিবেশন করে তৃপ্তি পান। 
বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তন্ময় ঘোষ বলেন, বিষ্ণুপুর মন্দিরের জন্য যেমন বিখ্যাত। তেমনই বিষ্ণুপুরে সঙ্গীতের নিজস্ব একটা ঘরানা রয়েছে। ওই  সঙ্গীতের টানে বাইরে থেকে বহু পর্যটক আসেন। তাই শাস্ত্রীয় সঙ্গীত চর্চার মাধ্যমে এখনও বিষ্ণুপুরের বেশ কিছু শিল্পী নিজস্ব ঘরানাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। মূলত তাঁদের উদ্যোগেই প্রতিবছর সুরযজ্ঞ অনুষ্ঠান হয়। বিষ্ণুপুরবাসী হিসেবে তাঁদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।
সম্পর্কিত সংবাদ