Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বেসরকারি স্কুলকে টেক্কা দিয়ে ছাত্র টানতে সরকারি স্কুলগুলিতে এবার বিভিন্ন উদ্যোগ 

বেসরকারি স্কুলকে টেক্কা দিয়ে ছাত্র টানতে সরকারি স্কুলগুলিতে এবার বিভিন্ন উদ্যোগ 
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: প্রাথমিক স্কুলের আনন্দ পরিসর বসছে মাইথন জলাধারের পাশে। সেখানে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে ক্যুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ দিচ্ছেন পড়ুয়ারা। সোমবার জামুড়িয়ার কুনুস্তোড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নবান্ন উৎসবের আয়োজন করা হয়। শিক্ষাবর্ষ শেষে এখন প্রতি স্কুলেই পিকনিকের আয়োজন করা হচ্ছে। অবৈতনিক প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়াদের গলায় ঝুলছে আই কার্ড, স্কুল সেজে উঠছে মনীষীদের ছবিতে। বেসরকারি স্কুলকে টেক্কা দিয়ে পড়ুয়া আনতে শিল্পাঞ্চলের সরকারি স্কুলগুলি নানা উদ্যোগে যেন আনন্দের হাট বসেছে। বেসরকারি স্কুলের মোটা টাকা ফি, অন্যদিকে কেন্দ্রের বঞ্চনায় সরকারি স্কুলগুলিতে মেলেনি কম্পোজিট গ্র্যান্ডের টাকাও। তবু অস্বস্তি বাঁচাতে অসম লড়াইয়ে জিততে মরিয়া সরকার পোষিত স্কুলগুলির শিক্ষক-শিক্ষিকারা। 
Advertisement
জামুড়িয়া ১ নম্বর সার্কেলের কাঁটাগড়িয়া ফ্রি প্রাইমারি স্কুল। স্কুল থেকে সম্প্রতি পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মাইথন। বাসে করে তাঁদের নিয়ে যাওয়ার সময়ে বোঝার উপায় ছিল না যে, তারা অবৈতনিক প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়া। ভালো পোশাক, সবার গলায় স্কুলের নাম লেখা রিবনে ঝুলছে আই কার্ড। মাইথন যাওয়ার উদ্দেশ্য আনন্দ পাঠাশালায় ক্যুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ। আনন্দ পাঠশালা সরকারি স্কুলগুলিতে প্রতি শনিবার শেষ পিরিয়ডে হয়। সেখানে প্রথাগত শিক্ষার বাইরে শিক্ষক-শিক্ষিকারা মুক্ত এলাকায় পড়ুয়াদের নিয়ে শিক্ষামূলক কিছু করেন। সেই কাজ করতেই পড়ুয়াদের নিয়ে সুদূর মাইথন পাড়ি দিলেন শিক্ষকরা। আনন্দে মেতে ওঠে পড়ুয়ারা। তাদের হাসিমুখ দেখে খুশি অভিভাবকরাও। 
পাশাপাশি সোমবার কুনুস্তোড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা পড়ুয়াদের নিয়ে নবান্ন উৎসব পালন করল। নতুন গোবিন্দভোগ চাল দিয়ে নলের গুড়ের পায়েস খেয়ে নবান্নর স্বাদ নিল পড়ুয়ারা। কাঁকসা ব্লকের বাঁশকোপা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত হয় পিকনিক। ভুরিভোজের আয়োজন হয় সেখানে। কুলটি থানার মিঠানি প্রাথমিক বিদ্যালয় বছর শেষে আনন্দ পরিসরে বার্ষিক উৎসব পালন করল। সেখানেও পড়ুয়াদের জন্য সুস্বাদু খাবারের আয়োজন ছিল। 
শিল্পাঞ্চলের এই কয়েকটি স্কুলই নয়, প্রায় প্রতিটি স্কুলই অভিনব উদ্যোগ নিয়ে পড়ুয়া, অভিভাবকদের নজর কাড়ছে। শিক্ষার মানও আগের থেকে উন্নত হয়েছে। পাশাপাশি আনন্দ পরিসরে নতুন তাঁরা কী করলেন, তার উপর প্রশাসনিক নজরদারি রয়েছে। সর্বোপরি শিল্পাঞ্চলের সরকারি স্কুলে পড়ুয়া কমছে, তাই নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবার কোমর বেঁধেছেন শিক্ষকরা। তাঁরাই আন্তরিকভাবে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন। বেসরকারি স্কুল থেকে কোন অংশেই যে সরকারি স্কুলগুলি পিছিয়ে নেই, তা প্রমাণ করে অভিভাবকদের মনে সাড়া ফেলাই লক্ষ্য। এর ফলে বেসরকারি স্কুলে পড়ুয়াদের ভর্তির হিড়িক ঠেকানো সম্ভব হতে পারে।। অতিরিক্ত জেলাশাসক সঞ্জয় পাল বলেন, আমাদের বহু স্কুলে অত্যন্ত ভালো মানের পঠনপাঠন হয়। ধারাবাহিক স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে তা আমরা দেখেছি। বেশ কিছু স্কুল পড়ুয়াদের মনোরঞ্জনে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ