সংবাদদাতা, করিমপুর: সরকারি হাসপাতালের রক্ত পরীক্ষায় ধরা পড়েনি ডেঙ্গু। কিন্তু বেসরকারি ল্যাবরেটরি থেকে পরীক্ষায় ডেঙ্গু জীবাণুর মিলল রক্তে। গত দু’ মাসে থেকে করিমপুর ও আশপাশের এলাকার বহু মানুষ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। বিশেষ করে দিন ১৫ থেকে করিমপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অভয়পুর গ্রামে একাধিক মানুষ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালের পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা না পড়লেও বাইরের ল্যাব থেকে পরীক্ষা করলে অনেকের ডেঙ্গু এনএস১ ধরা পড়ছে। আর তাতেই মানুষ ভয় পাচ্ছেন এবং বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অভয়পুর গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য রিয়া সরকার মণ্ডল বলেন, এই গ্রামের প্রায় কুড়ি জন মানুষ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। বাইরের ল্যাব থেকে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে গ্রামে আক্রান্ত প্রায় সকলেরই প্রাথমিকভাবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। যদিও করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে পাঁচজন ডেঙ্গু সাসপেক্টেড রোগী এবং বারোজন জ্বরে আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে। করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালের সুপার মনীষা মণ্ডল জানান, অভয়পুর গ্রামে এখনও পর্যন্ত হাসপাতালে এসে এলাইজা পদ্ধতিতে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে একজন ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গিয়েছে। জ্বর এলেই সেই রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত বলা যায় না। বাইরে ল্যাব থেকে কিট পরীক্ষা রিপোর্টে যাই পাওয়া যাক তা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। কোনও রোগী হাসপাতালে এসে এলাইজা পদ্ধতিতে রক্ত পরীক্ষা করানোর পর যদি তাঁর শরীরে ডেঙ্গুর জীবানু ধরা পড়ে তবেই তাঁকে ডেঙ্গু আক্রান্ত বলা যায়। ওই গ্রামের মানুষকে আশ্বস্ত করতে ইতিমধ্যেই জ্বরে আক্রান্ত সমস্ত রোগীর শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে সেই রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি। যদিও আগের থেকে ওই গ্রামের পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো হয়েছে। তাই অযথা আতঙ্কের কারণ নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, এখন প্রত্যেক জায়গায় আনাচে কানাচে হাজারো ল্যাব গজিয়ে উঠেছে। তাদের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বরে আক্রান্ত রোগীর রক্ত সংগ্রহ করছেন এবং কিট পরীক্ষা করছেন। বিনিময়ে রোগীর অনেক টাকা খরচ হলেও তাতে সঠিক রিপোর্ট পাওয়া যায় না। এছাড়াও কিছু গ্রামীণ চিকিৎসক রোগীকে ডেঙ্গু আক্রান্ত বলছেন এবং চিকিৎসা করছেন। ডেঙ্গু আক্রান্ত বলে রোগীকে অ্যান্টি বায়োটিক খাওয়াচ্ছেন এবং মোটা টাকা নিচ্ছেন। অথচ ওই চিকিৎসক জানেন যে, ডেঙ্গু রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে নেই। এই মরশুমে কারও জ্বর হতে পারে। আর জ্বর হলে রোগীকে বাইরের কোনও ল্যাবে না নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসা দরকার। এখানেই সঠিক চিকিৎসা পাবেন। করিমপুর ১ ব্লকের বিডিও দেবদত্ত চক্রবর্তী বলেন, ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন করতে সোমবার ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভয়পুর গ্রামের গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের নিয়ে প্রচার করা হয়েছে।



