Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিসর্জনে অশান্তি রোখাই চ্যালেঞ্জ, শোভাযাত্রায় ‘কিশোর গ্যাং’ নজরে পুলিসের

বিসর্জনে অশান্তি রোখাই চ্যালেঞ্জ, শোভাযাত্রায় ‘কিশোর গ্যাং’ নজরে পুলিসের
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: একদিনই জগদ্ধাত্রী পুজো হয় কৃষ্ণনগরে। সেইমতো আজ, সোমবার কৃষ্ণনগরে ভাসান। প্রথম দিনের ভাসানে মূলত সাঙের প্রতিমা শোভাযাত্রা করে নিরঞ্জন হবে। কিন্তু, সেই শোভাযাত্রায় ‘কিশোর গ্যাং’ চিন্তা বাড়াচ্ছে পুলিসের। বিগত বছরগুলিতে অশান্তির ঘটনায় তাদেরই সামনের সারিতে দেখা গিয়েছিল। যদিও শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করা নিয়ে বধ্যপরিকর পুলিস। যার জন্য বিশাল পুলিসবাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে প্রথম ভাসানের রাতে। প্রায় দেড় হাজার পুলিসকর্মী শহরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। যাতে কোনওরকম অশান্তির ঘটনা ঘটলেই দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সেই সঙ্গে কালীপুজোর ভাসানের মতো জগদ্ধাত্রী পুজোর ভাসানেও ঘরা বা গদা এবং বাঁশ নিষিদ্ধ করেছে পুলিস। তবে এর পাশাপাশি, এবছর ভাসানের সময়টাও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ বিগত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, প্রথম দিনের ভাসান প্রক্রিয়া শেষ হতেই পরের দিন বেলা গড়িয়ে যাচ্ছে। তবে এবছর সেই প্রথা ভেঙে সময় মতো প্রতিমা নিরঞ্জন চাইছে শহরবাসীও। যদিও শেষ পর্যন্ত তা আদৌ বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। 
Advertisement
কৃষ্ণনগর শহরের জগদ্ধাত্রীর বিসর্জনের পুরনো রীতি হল ঘট বিসর্জন। প্রতিমা বেরনোর আগে সোমবার সকালে বিশাল শোভাযাত্রা করে ঘট নিয়ে বেরবে বিভিন্ন পুজো কমিটি। কিন্তু দেখা যায়, সেই ঘট বিসর্জন শেষ হতে দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা হয়ে যায়। যার ফলে সাঙের প্রতিমা বেরতে দেরি হয়। পুলিস প্রশাসনের তরফে এবছরও প্রতিটি পুজো কমিটিকে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হচ্ছে। সেই সময় পুজো কমিটিগুলি আদৌ মানবে কি না সেটাই বড় প্রশ্নের। 
শহরবাসীদের অনেকেই জানান, বহু বছর আগে বুড়িমার ভাসান সূর্য ওঠার আগেই হয়ে যেত। কিন্তু, সেসব এখন অতীত। কারণ সম্প্রতি বেশ কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, চাষাপাড়া বারোয়ারির বুড়িমার ভাসান হচ্ছে পরের দিন অর্থাৎ দ্বিতীয় দিনের ভাসানের দুপুর বেলা। যা শহরবাসীর অনেকেই মেনে নিতে পারেন না। তাই এবছর অন্তত সেই প্রথা ভাঙুক চাইছেন  শহরবাসী। তাঁদের কথায়, এই দীর্ঘ সময় ভাসান প্রক্রিয়া বাইরের লোকজনের কাছে অনেক সমস্যার। যা শহরের জগদ্ধাত্রী পুজোকে অজান্তেই পিছিয়ে দিচ্ছে। কারণ পুজো আরও বড় হবে যখন অন্যান্য জেলার লোকজনও আসবে। 
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এক আধিকারিক বলেন, ‘আমাদের পুলিসের লোকজন থাকবে যারা পুজো কমিটিগুলিকে কখন বেরতে হবে তা বলবে। আমরাই চাই নির্বিঘ্নে শান্তিপূর্ণভাবে সময়মতো ভাসান হোক। তার জন্য অতিরিক্ত পুলিস ফোর্স আনা হয়েছে।’
জগদ্ধাত্রী পুজোর ভাসানের সঙ্গে অশান্তিরও একটা যোগ রয়েছে। চলতি বছরে দুর্গাপুজোতেও ব্যাপক অশান্তি হয়েছিল পুজো কমিটিগুলির মধ্যে। তাতে দেখা যায়, অধিকাংশ স্বল্প বয়সি যুবকরাই মারপিটের সঙ্গে জড়িত। এমনকী তাদের মধ্যে অনেকের বয়স আঠারো বছরের নীচে। তারাই মদ্যপ অবস্থায় বাঁশ হাতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল। এক যুবককে গণপিটুনিও দেয়। বিগত বছরেও ভাসানের অশান্তিতে এই স্বল্প বয়সিদের সামনে দেখা গিয়েছে। তাদের সকলেই ‘কিশোর গ্যাং’ বলেই চেনে। এই গ্যাংই পুলিসের চিন্তার কারণ। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, ভাসানে ঝামেলার সঙ্গে যুক্ত অনেকেই মাইনর হয়। যার ফলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়ে সমস্যা হয়।
পুলিস প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০টি বাইক বাহিনী শহরে টহল দেবে। এছাড়াও দু’টি ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ওয়াচটাওয়ার বসানো হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিস সুপার, ডিএসপি, ইন্সপেক্টর, ওসি, আইসি, কনস্টেবল সহ বিভিন্ন পদমর্যাদার প্রায় দেড় হাজার পুলিস ফোর্স থাকবে।
সম্পর্কিত সংবাদ