সংবাদদাতা, কাটোয়া: কেতুগ্রামের চেঁচুড়িতে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার ৯ দিন পর ফরেন্সিক টিম তদন্তে আসে। মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ চার সদস্যের দল অকুস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে। প্রতিটি জায়গা তাঁরা ঘুরে দেখেন। ঘটনার এতদিন পর ফরেন্সিক টিম আসায় তদন্ত নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন বিরোধীরা। সিপিএম নেতা মিজানুল কবীর ধীরাজ বলেন, কবে বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে, আর এতদিন পর ফরেন্সিক টিম আসছে। প্রমাণ লোপাট হয়ে যেতে পারে।
Advertisement
প্রসঙ্গত, ৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ বিস্ফোরণ হয়। কেতুগ্রাম-১ ব্লকের আনখোনা অঞ্চলের চেঁচুড়ি গ্রামের বাসিন্দা মেহেবুব আলমের বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তাঁর পুরনো বাড়িতে বোমা মজুত করা ছিল। মেহেবুব আলমরা দু’ভাই। তাঁরা বাড়িতে কেউ থাকেন না। কর্মসূত্রে মেহেবুব আলম কলকাতায় থাকেন বহু বছর ধরে। বিস্ফোরনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে বাড়ির শৌচালয়ের পাশের কংক্রিটের পিলার ভেঙে গিয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, বিধানসভা ভোটের আগের রাতেই কেতুগ্রামের চেঁচুড়িতে বোমা মেরে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করা হয় তৃণমূলের বুথ সভাপতি মিন্টু শেখকে। ঘটনায় জখম হয়েছিলেন মিশির শেখ ওরফে নজরুল ইসলাম। সেদিন চেঁচুড়ি গ্রামের বাসিন্দা বুথ সভাপতি মিন্টু শেখ তাঁর এক সঙ্গী তৃণমূল কর্মী মিশির শেখকে বাইকে চাপিয়ে ফিরছিলেন। ফেরার পথে চেঁচুড়ি গ্রামের মাঠের রাস্তায় তাঁদের বাইক আটকে দাঁড়ায় কয়েকজন। অভিযোগ, এরপরেই মিন্টুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। তারপর তাঁকে বোমা মারা হয়। ঘটনায় বোমার শব্দ পেয়ে গ্রাম থেকে সবাই ছুটে আসেন। মিন্টু শেখ অকুস্থলেই মারা যান। আর মিশির শেখকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি ককরা হয়। মৃতের স্ত্রী তুহিনা খাতুন ঘটনায় গ্রামের প্রাক্তন সিভিক ভলান্টিয়ার ভুলন শেখ সহ ১০ জনের নামে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ফরেন্সিক টিমের সদস্যরা প্রথমে কেতুগ্রাম থানায় যান। তারপরে তাঁরা চেঁচুড়িতে যান। সেখানে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন। গ্রামের অনেকেই বলছিলেন, গ্রামে নাকি খুঁজলে এখনও প্রচুর মজুত করে রাখা বোমা পাওয়া যাবে।



