Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বসন্তের পলাশে রঙিন পুরুলিয়া, ভিড় বাড়ছে পর্যটকদের  

বসন্তের পলাশে রঙিন পুরুলিয়া, ভিড় বাড়ছে পর্যটকদের
 
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
পিনাকী ধোলে, পুরুলিয়া: শীতের জীর্ণতা সরিয়ে নব সাজে সেজে উঠছে প্রকৃতি। বসন্তের আগুনে জ্বলচ্ছে পলাশ, শিমুল। বসন্তে প্রকৃতির রূপবদলের সাক্ষী হতে পুরুলিয়ায় ভিড় জমাচ্ছেন পর্যটকরা। গা ভাসিয়ে দিচ্ছেন উজাড় করা প্রকৃতির রূপে। বসন্তে শান্তিনিকেতনকে রীতিমতো টেক্কা দিয়ে পর্যটকদের ফেভারিট ডেস্টিনেশন হয়ে উঠছে পুরুলিয়া। আগামী দোলেও ব্যাপক পর্যটক সমগমের আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। 
Advertisement
বসন্ত মানেই রবি ঠাকুরের শান্তিনিকেতন। ভুবনডাঙার মাঠ, বাউলের সুর, কোপাইয়ের জলে চাঁদের ঝিকিমিকি আলো-সবকিছুই যেন নেশার মতো। তবে, গত কয়েক বছর ধরে রাজনীতির ছোঁয়ায় বদলে গিয়েছে শান্তিনিকেতনের পরিবেশ। ধীরে ধীরে মানুষের কাছে বসন্ত উদযাপনের পছন্দের তালিকায় উঠে এসেছে পুরুলিয়ার নাম। বসন্তে পুরুলিয়ার অনন্য রূপের কথা পর্যটকদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ইন্টারনেটে। ফলে ভিড় বাড়ছে ক্রমশ। সবার মুখে একটাই কথা-বসন্তে পলাশের অগ্নিশিখা দেখার টানেই পুরুলিয়া ছুটে আসা। 
পলাশ দেখার নেশায় উত্তরবঙ্গ থেকে স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েদের নিয়ে পুরুলিয়ার অযোধ্যায় এসেছেন দেবাশিস সরকার। তিনি বলছিলেন, গত কয়েক বছর ধরেই ভাবছিলাম বসন্তে পুরুলিয়া আসব। ছেলের মাধ্যমিক পরীক্ষার শেষ হতেই এবার বেরিয়ে পড়েছিলাম। মন ভরে গেল। তাঁর সংযোজন, এর আগে শীতে পুরুলিয়া এসেছি। কিন্তু, বসন্তের সৌন্দর্য অপূর্ব। 
কলকাতা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে পুরুলিয়া এসেছিলেন সন্দীপন নিয়োগী। তিনি বলেন, পলাশ বনের ছবি যেদিন ইন্টেরনেটে দেখেছিলাম, সেদিন থেকেই কবে পুরুলিয়া আসব, শুধু সেই ভাবনাটা ছিল। অবশেষে ইচ্ছা পূরণ হল। পলাশের প্রেমে পড়ে গিয়েছি। বসন্তে বারবার পুরুলিয়া আসতে চাই। 
শুধুই কি বাইরের পর্যটকরা, পুরুলিয়ার লোকও পরিবার নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে পলাশ বন দেখতে। পুরুলিয়া থেকে সিরকাবাদ হয়ে অযোধ্যা যাওয়ার পথে রাস্তা দু’ধারে রয়েছে পলাশের বন। অযোধ্যা পাহাড়ে দাঁড়িয়ে পুরুলিয়া শহরের বাসিন্দা জয়রাম মাহাত বলছিলেন, ছোট থেকেই তো পলাশ দেখে আসছি। কিন্তু, গত কয়েক বছর ধরে পলাশ নিয়ে মাতামাতি শুরু হয়েছে। তাই ভাবলাম, স্ত্রীকে নিয়ে একটু ঘুরেই আসি। কয়েকটা ছবি তুলে দিই। 
তবে, বসন্তে শুধু পলাশই নয়, আছে পুরুলিয়ার নিজস্ব লোকগান ঝুমুর, লোকনৃত্য ছৌ, সঙ্গে পাতাপোড়া মাংস, দেশি মুরগির পাতলা ঝোল আর মোটা চালের ভাত। দোলের সময় পুরুলিয়ার একাধিক জায়গায় বসন্ত পরবেরও আয়োজন হয়ে থাকে। হোটেলগুলিতে থাকে বিশেষ ব্যবস্থাও। দোল পূর্ণিমার রাতে চাঁদের আলোয় কোনও পাহাড়ী টোলায় বসে ‘পিঁদাড়ে পলাশের বন পালাব পালাব মন’ গানের সুরে হৃদয় যে কারও আন্দোলিত হতে বাধ্য।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ