সংবাদদাতা, মায়াপুর: নবদ্বীপের প্রখ্যাত নৈয়ায়িক বুনো রামনাথের স্মৃতি তলিয়ে যেতে বসেছে সময়ের অতলে। তাঁর ভিটে অবহেলিত। একটি স্ট্যাচু ছাড়া, বুনো রামনাথের স্মৃতি মুছে গিয়েছে। হেরিটেজ ঘোষণা হলেও জায়গাটি সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়নি। এমনকী হেরিটেজ কমিটির লাগানো ফলকেও নেই তাঁর নামের উল্লেখ।
Advertisement
এককালে শোভাবাজারের রাজা নবকৃষ্ণ দেবের সভায় এক দিগ্বিজয়ী পণ্ডিতকে তর্কযুদ্ধে হারিয়ে নবদ্বীপের মান রক্ষা করেছিলেন তিনি। অষ্টাদশ শতাব্দীতে রামনাথ তর্কসিদ্ধান্ত ছিলেন ন্যায়শাস্ত্রের অদ্বিতীয় পণ্ডিত। তাঁর আদি নিবাস ছিল পূর্ব বর্ধমান জেলার ধাত্রীগ্রাম থেকে প্রায় ১০ কিমি দূরে অবস্থিত সহজপুর গ্রামে। সেখান থেকে তিনি সপরিবারে নবদ্বীপে চলে আসেন সংস্কৃত চর্চার উদ্দেশ্যে। নবদ্বীপের পশ্চিমপ্রান্তে বনজঙ্গলে ঘেরা এক এলাকায় তাঁর বাস হওয়ায় তিনি ‘বুনো রামনাথ’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি ছাত্র পড়াতেন। ন্যায়শাস্ত্র শেখার জন্য দূরদূরান্ত থেকে ছাত্ররা আসত তাঁর কাছে। রামনাথ ও তাঁর স্ত্রীর ছিল দারিদ্রের অহংকার। দারিদ্রের সংসারে খাদ্য বলতে শুধুমাত্র মোটা চালের ভাত আর তেঁতুলপাতার ঝোল। তবুও তিনি কখনও রাজানুগ্রহ নেননি। কারণ, তাঁর কাছে বিদ্যা ছিল শুধুমাত্র জ্ঞানের পিপাসা মেটানোর হাতিয়ার। নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধির জন্য বিদ্যাকে ব্যবহার করা রামনাথের নীতিবিরুদ্ধ কাজ।
ব্রিটিশ শাসনকালে নবদ্বীপে সংস্কৃত চর্চার অবস্থা ক্রমেই শোচনীয় হয়ে পড়ে। ব্রিটিশদের কাছ থেকে সংস্কৃত চর্চার জন্য কোনও অর্থ সহায়তা পাওয়া যাবে না, তা বুঝতে পারেন নবদ্বীপের পণ্ডিতবর্গ। তাই সংস্কৃতকে বাঁচাতে ১৮৮৬ সালে তাঁরা নবদ্বীপে বুনো রামনাথের ভিটেতেই প্রতিষ্ঠা করেন দেশের অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাকেন্দ্র ‘বঙ্গ বিবুধ জননী সভা’। এর মূল লক্ষ্য ছিল সংস্কৃত ভাষার পঠনপাঠন ও প্রচার।
নবদ্বীপে সংস্কৃত চর্চার অন্যতম অগ্রদূত এই বঙ্গ বিবুধ জননী সভা। স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় আমৃত্যু এই শিক্ষা সংগঠনের সভাপতি ছিলেন। শুরুতে এখানে সংস্কৃত পঠনপাঠন ও উপাধি প্রদানের কাজ হতো। পরে কালের নিয়মে তা বন্ধ হয়ে যায়। বঙ্গ বিবুধ জননী সভা বুনো রামনাথের ভিটে কিনে নিয়ে সেখানেই টোল প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তীতে ১৯৪৯ সালে এই বাড়িতেই ভাড়া দিয়ে সংস্কৃত কলেজ চলত। ১৯৪৯ থেকে ২০০২ পর্যন্ত সংস্কৃত কলেজটি চালু ছিল। তবে অধ্যাপক ও ছাত্রের অভাবে কলেজটি বর্তমানে বন্ধ। নবদ্বীপের হারানো গৌরব সংস্কৃত চর্চাকে পুনরুজ্জীবিত করতে নবদ্বীপ বঙ্গ বিবুধ জননী সভা আবারও সক্রিয় হয়েছে। বর্তমানে এখানে পৌরোহিত্য ও চণ্ডীপাঠের ক্লাস হয়।
বঙ্গ বিবুধ জননী সভার সম্পাদক নবদ্বীপ বিদ্যাসাগর কলেজের সংস্কৃতের অবসরপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান অরুণকুমার চক্রবর্তী বলেন, হেরিটেজ ঘোষণা হয়েও আখেরে কোনও লাভ হয়নি। হেরিটেজ কমিটি থেকে যে ফলকটা লাগিয়ে দিয়ে গেছে সেটাও ত্রুটিপূর্ণ। ফলকে ‘বুনো রামনাথের ভিটে’ বা ‘বঙ্গ বিবুধ জননী সভা’ কিছুই উল্লেখ নেই। বদলে ‘সংস্কৃত মহাবিদ্যালয়’ হিসেবেই এই স্থানকে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ বুনো রামনাথের ভিটে হিসেবেই কিন্তু এটা হেরিটেজ হয়েছে। সংস্কৃত কলেজ হিসেবে কিন্তু হেরিটেজ হয়নি। হেরিটেজ কমিটির কাছে এই ব্যাপারে অবজেকশন দিয়েও কোনও লাভ হয়নি।
ব্রিটিশ শাসনকালে নবদ্বীপে সংস্কৃত চর্চার অবস্থা ক্রমেই শোচনীয় হয়ে পড়ে। ব্রিটিশদের কাছ থেকে সংস্কৃত চর্চার জন্য কোনও অর্থ সহায়তা পাওয়া যাবে না, তা বুঝতে পারেন নবদ্বীপের পণ্ডিতবর্গ। তাই সংস্কৃতকে বাঁচাতে ১৮৮৬ সালে তাঁরা নবদ্বীপে বুনো রামনাথের ভিটেতেই প্রতিষ্ঠা করেন দেশের অন্যতম প্রাচীন শিক্ষাকেন্দ্র ‘বঙ্গ বিবুধ জননী সভা’। এর মূল লক্ষ্য ছিল সংস্কৃত ভাষার পঠনপাঠন ও প্রচার।
নবদ্বীপে সংস্কৃত চর্চার অন্যতম অগ্রদূত এই বঙ্গ বিবুধ জননী সভা। স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় আমৃত্যু এই শিক্ষা সংগঠনের সভাপতি ছিলেন। শুরুতে এখানে সংস্কৃত পঠনপাঠন ও উপাধি প্রদানের কাজ হতো। পরে কালের নিয়মে তা বন্ধ হয়ে যায়। বঙ্গ বিবুধ জননী সভা বুনো রামনাথের ভিটে কিনে নিয়ে সেখানেই টোল প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তীতে ১৯৪৯ সালে এই বাড়িতেই ভাড়া দিয়ে সংস্কৃত কলেজ চলত। ১৯৪৯ থেকে ২০০২ পর্যন্ত সংস্কৃত কলেজটি চালু ছিল। তবে অধ্যাপক ও ছাত্রের অভাবে কলেজটি বর্তমানে বন্ধ। নবদ্বীপের হারানো গৌরব সংস্কৃত চর্চাকে পুনরুজ্জীবিত করতে নবদ্বীপ বঙ্গ বিবুধ জননী সভা আবারও সক্রিয় হয়েছে। বর্তমানে এখানে পৌরোহিত্য ও চণ্ডীপাঠের ক্লাস হয়।
বঙ্গ বিবুধ জননী সভার সম্পাদক নবদ্বীপ বিদ্যাসাগর কলেজের সংস্কৃতের অবসরপ্রাপ্ত বিভাগীয় প্রধান অরুণকুমার চক্রবর্তী বলেন, হেরিটেজ ঘোষণা হয়েও আখেরে কোনও লাভ হয়নি। হেরিটেজ কমিটি থেকে যে ফলকটা লাগিয়ে দিয়ে গেছে সেটাও ত্রুটিপূর্ণ। ফলকে ‘বুনো রামনাথের ভিটে’ বা ‘বঙ্গ বিবুধ জননী সভা’ কিছুই উল্লেখ নেই। বদলে ‘সংস্কৃত মহাবিদ্যালয়’ হিসেবেই এই স্থানকে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ বুনো রামনাথের ভিটে হিসেবেই কিন্তু এটা হেরিটেজ হয়েছে। সংস্কৃত কলেজ হিসেবে কিন্তু হেরিটেজ হয়নি। হেরিটেজ কমিটির কাছে এই ব্যাপারে অবজেকশন দিয়েও কোনও লাভ হয়নি।



