বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: জানো, ওরা সবাই দুর্গাপুজোর সময় আসে যখন, কী হইহই হয়! পুজো শেষ। ওরাও আর আসে না। যাই হোক, যেখানেই থাক, ভালো থাক। ওদের কেরিয়ারের পথে আমরা তো আর কাঁটা হতে পারি না। মাঝবয়সি কাজরিকে গল্প করছিলেন অশীতিপর বনলতা চৌধুরী। সল্টলেক সেক্টর ১ –এর এই বাড়িতে সময় থমকে আছে। বনলতা একাই থাকেন। স্বামী মারা গিয়েছেন বছর তিন হল। মেয়ে আমেরিকায়। দেওয়ালের ছবিতে তিনি, স্বামী, আর তাঁর কোলে কোঁকড়া চুলের ছোট্ট রূপসা। ওর তখন তিনবছর বয়স। পিছনে পুরীর সমুদ্রগর্জন। পাশেই রূপসার বিয়ের ছবি। বনলতারই বিয়ের শাড়ি পরনে। মেয়েকে কী ভীষণ সুন্দর লাগছে না কাজরি!
Advertisement
কাজরি ‘অ্যাকম্পেনি পার্সন’। এজেন্সি থেকে পাঠিয়েছে বনলতার নিঃসঙ্গতা ঘোচাতে। তাই বলে তিনি তো আর রোবট নন, তাঁরও মা আছেন, আছে ক্লাস সেভেনে পড়া মেয়ে। একদিন তাঁরও এই অবস্থা হবে না তো—চোখের কোন চিকচিক করে ওঠে। স্বামী ও মেয়ের নানা গল্প বলেই চলেন বনলতা। হলুদ বাল্বের আলো। সামনে লাল চায়ের কাপ। কাজরিরর মাঝে মাঝে মনে হয়, এই বাড়িতে এক-একটা সেকেন্ড যেন এক-একটা মিনিটের সমান!
এই পেশা দেখে অনেকেরই মনে পড়ে যেতে পারে অনেকটা টনিক সিনেমার ৭৫ বছরের বৃদ্ধ জলধর সেনকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া ট্রাভেল এজেন্ট টনিকের কথা। অথবা ‘মিঃ হ্যারিগেনস ফোন’ এর বৃদ্ধ ব্যবসায়ী জন হ্যারিগেনকে অর্থের বিনিময়ে গল্প শোনাতে আসা তরুণ ক্রেগ পুল হ্যারিগেনের কাহিনি।
দেশে জনসংখ্যার প্রতি ১০০ জনে ১০ জনেরই বয়স ষাটের ঊর্ধ্বে। তাঁদের দেখবে কে? ছেলেমেয়েরা অধিকাংশই বিদেশে। কে তাঁদের বাজারটা করে দেবে, পেনশন তুলে আনবে, দেবে মোবাইল রিচার্জ করে, ধরে ধরে নিয়ে যাবে পোস্ট অফিসে, কে নিয়ে যাবে লাইফ সার্টিফিকেট আনতে? হাসপাতাল-নার্সিংহোমেই বা সঙ্গী হবে কে বা কারা? এইসব বৃদ্ধ-বৃদ্ধার অনেকেরই টাকার অভাব তেমন নেই, সময়ও অফুরান। কিন্তু, কথা বলার, দু’দণ্ড গল্প করার মতোও সঙ্গী নেই দোতলা-তিনতলা বিশাল বাড়িতে। তাই তৈরি হয়েছে নতুন পেশা ‘অ্যাকম্পেনি পার্সন’।
বছর তিনেক হল এই পেশায় আসা টালিগঞ্জের কাজরি দত্ত বলেন, ‘নেতাজিনগরের এক ভদ্রমহিলার বাড়ি যাই। তিনি বই পড়তে ভালোবাসেন। কিন্তু চোখের সমস্যার জন্য পড়তে পারেন না। কোনোদিন রবীন্দ্রনাথ পড়ে শোনাই। পড়ে শোনাতে কখনও বের করি শেক্সপিয়র। কেউ শুধু গল্প করতে ভালোবাসেন। শুনে যাই তাঁর কথা।’ এই পরিষেবার খরচ কত? মূলত সল্টলেক, নিউটাউন এবং দক্ষিণ কলকাতায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের এই পরিষেবা দেওয়া এক জনপ্রিয় সংস্থার অন্যতম শীর্ষকর্তা সুশীল শর্মা বলেন, ‘বয়স্কদের সঙ্গে করে ব্যাঙ্কে, বাজারে যাওয়া থেকে শুরু করে গল্প করা—ঘরোয়া সব কাজই করেন আমাদের অ্যাকম্পেনি পার্সনরা। প্রতি দু’ঘণ্টার ফি ৫০০ টাকা!’
শহরের হাজার হাজার বৃদ্ধ মানুষ বাইরে থাকা ছেলেমেয়ের অভাব বোধ করছেন প্রতি মুহূর্তে। কিন্তু কী আর করবেন তাঁরা! বাঁচতে হবে তো, সেই অভাব পূরণ করতে তৈরি হয়েছে এক ‘অন্য পৃথিবীর’ নতুন পেশা। বয়স্কদের পরিষেবা দিতে এখন দেশে প্রায় প্রতিমাসে একটি করে নতুন সংস্থা বেরচ্ছে। এক সিনিয়র চিকিৎসক বলেন, ‘কেন জানেন? দেশে এল্ডারলি কেয়ার-এর বাজার বিশাল।’ ঠিক কত? ‘টাকার অঙ্কে প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটির!’
এই পেশা দেখে অনেকেরই মনে পড়ে যেতে পারে অনেকটা টনিক সিনেমার ৭৫ বছরের বৃদ্ধ জলধর সেনকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া ট্রাভেল এজেন্ট টনিকের কথা। অথবা ‘মিঃ হ্যারিগেনস ফোন’ এর বৃদ্ধ ব্যবসায়ী জন হ্যারিগেনকে অর্থের বিনিময়ে গল্প শোনাতে আসা তরুণ ক্রেগ পুল হ্যারিগেনের কাহিনি।
দেশে জনসংখ্যার প্রতি ১০০ জনে ১০ জনেরই বয়স ষাটের ঊর্ধ্বে। তাঁদের দেখবে কে? ছেলেমেয়েরা অধিকাংশই বিদেশে। কে তাঁদের বাজারটা করে দেবে, পেনশন তুলে আনবে, দেবে মোবাইল রিচার্জ করে, ধরে ধরে নিয়ে যাবে পোস্ট অফিসে, কে নিয়ে যাবে লাইফ সার্টিফিকেট আনতে? হাসপাতাল-নার্সিংহোমেই বা সঙ্গী হবে কে বা কারা? এইসব বৃদ্ধ-বৃদ্ধার অনেকেরই টাকার অভাব তেমন নেই, সময়ও অফুরান। কিন্তু, কথা বলার, দু’দণ্ড গল্প করার মতোও সঙ্গী নেই দোতলা-তিনতলা বিশাল বাড়িতে। তাই তৈরি হয়েছে নতুন পেশা ‘অ্যাকম্পেনি পার্সন’।
বছর তিনেক হল এই পেশায় আসা টালিগঞ্জের কাজরি দত্ত বলেন, ‘নেতাজিনগরের এক ভদ্রমহিলার বাড়ি যাই। তিনি বই পড়তে ভালোবাসেন। কিন্তু চোখের সমস্যার জন্য পড়তে পারেন না। কোনোদিন রবীন্দ্রনাথ পড়ে শোনাই। পড়ে শোনাতে কখনও বের করি শেক্সপিয়র। কেউ শুধু গল্প করতে ভালোবাসেন। শুনে যাই তাঁর কথা।’ এই পরিষেবার খরচ কত? মূলত সল্টলেক, নিউটাউন এবং দক্ষিণ কলকাতায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের এই পরিষেবা দেওয়া এক জনপ্রিয় সংস্থার অন্যতম শীর্ষকর্তা সুশীল শর্মা বলেন, ‘বয়স্কদের সঙ্গে করে ব্যাঙ্কে, বাজারে যাওয়া থেকে শুরু করে গল্প করা—ঘরোয়া সব কাজই করেন আমাদের অ্যাকম্পেনি পার্সনরা। প্রতি দু’ঘণ্টার ফি ৫০০ টাকা!’
শহরের হাজার হাজার বৃদ্ধ মানুষ বাইরে থাকা ছেলেমেয়ের অভাব বোধ করছেন প্রতি মুহূর্তে। কিন্তু কী আর করবেন তাঁরা! বাঁচতে হবে তো, সেই অভাব পূরণ করতে তৈরি হয়েছে এক ‘অন্য পৃথিবীর’ নতুন পেশা। বয়স্কদের পরিষেবা দিতে এখন দেশে প্রায় প্রতিমাসে একটি করে নতুন সংস্থা বেরচ্ছে। এক সিনিয়র চিকিৎসক বলেন, ‘কেন জানেন? দেশে এল্ডারলি কেয়ার-এর বাজার বিশাল।’ ঠিক কত? ‘টাকার অঙ্কে প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটির!’



