নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের কাজে ‘ফাঁকিবাজি’র প্রমাণ মিললে বন্ধ করে দেওয়া হবে কর্মীদের বেতন। বৃহস্পতিবার এমনই কড়া বার্তা দিয়েছেন জলপাইগুড়ির জেলাশাসক শমা পারভীন। গত দু’মাসে জেলায় বিএসকে’র ১১ জন কর্মীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে এদিন জানান তিনি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ওইসব কর্মীর বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ ওঠায় প্রথমে শোকজ করা হয়েছিল। এরপর সন্তোষজনক উত্তর না মেলায় জেলাশাসকের নির্দেশে তাঁদের অনেকেরই বেতন আটকে দেওয়া হয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে এদিন জেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে মাল মহকুমার উন্নয়ন নিয়ে রিভিউ বৈঠকে জেলা প্রশাসনের কর্তারা জানিয়ে দেন, মাল মহকুমায় বিএসকে’র চার কর্মীকে ইতিমধ্যেই শোকজ করা হয়েছে। আরও বেশ কয়েকজনের কাজকর্মের উপর নজর রাখা হচ্ছে। অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা ঠিকমতো বাংলা সহায়তা কেন্দ্রে বসছেন না। ফলে মানুষ পরিষেবা নিতে গিয়ে ফিরে আসছে। ‘ফাঁকিবাজি’ বন্ধ না হলে ওইসব কর্মীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বৈঠক শেষে জেলাশাসক বলেন, জেলায় মোট ৮৬টি বাংলা সহায়তা কেন্দ্র। এখান থেকে নিখরচায় বহু পরিষেবা পাওয়া যায়। তাছাড়া বিএসকে’তে বিদ্যুৎ বিল জমা দিলে ছাড় মেলে। কোথাও কোথাও প্রচারে খামতি রয়েছে। কিছু বিএসকে’র কর্মী ঠিকমতো তাঁদের দায়িত্ব পালন করছেন না। গত দু’মাসে আমরা ১১ জন কর্মীকে শোকজ করেছি। তাঁদের বেতনও আটকে দেওয়া হয়। বিএসকে’তে ফাঁকিবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে আগামী দিনেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজ্য সরকারের সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে তৈরি হয়েছে বাংলা সহায়তা কেন্দ্র। রাজ্য সরকারের যে কোনও প্রকল্পে আবেদন করা থেকে বিদ্যুৎ বিল জমা দেওয়া কিংবা মিউটেশন ফি প্রদান, সব কাজই বিএসকে থেকে করা যায়। পুরসভা এলাকায় বিএসকে থেকে অনলাইন ট্রেড লাইসেন্স, ই-বিল্ডিং প্ল্যান, ই-মিউটেশনও করা যাচ্ছে। কিন্তু জলপাইগুড়ি জেলায় বহু বিএসকে ঠিকমতো কাজ করছে না বলে অভিযোগ। এনিয়ে গত নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে বৈঠকে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএসকে কর্মীদের কার্যত ধমক দেন জেলাশাসক। এদিনের বৈঠকেও যেসব বিএসকে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে, তাদের কর্মীদের ধরে ধরে কারণ জানতে চাওয়া হয়। সেইসঙ্গে আরও বেশি মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি বাংলা সহায়তা কেন্দ্রকে টার্গেট বেঁধে দেওয়া হয়েছে এদিন।