Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিশেষ যন্ত্রে সোনার চেন কেটে লুট

বিশেষ যন্ত্রে সোনার চেন কেটে লুট
  • ৬ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: মহিলাদের গলা থেকে নিপুনভাবে সোনার চেন হাতসাফাইয়ের আন্তঃজেলা গ্যাংয়ের হদিশ পেল বাঁকুড়া পুলিস। ইতিমধ্যে ওই মহিলা গ্যাংয়ের চার সদস্যকে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের বাড়ি হুগলির চুঁচুড়া থানা এলাকায়। ব্যান্ডেলের লোকপাড়া ভাঙা বস্তি এলাকা থেকে গ্যাংয়ের কাজ পরিচালনা করা হতো। ওই চার মহিলা সম্প্রতি বাঁকুড়া শহরে ‘অপারেশন’ সারতে ঢোকে। তাদের আসার খবর পেয়ে শহরের কেঠারডাঙ্গা এলাকায় সাদা পোশাকের পুলিস ওৎ পেতে অপেক্ষা করছিল। সেখানকার একটি উৎসবে কয়েকজন মহিলার গতিবিধি পুলিসের সন্দেহজনক ঠেকে। তখনই তাদের পিছু নেন পুলিস কর্মীরা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চারজনকে পাকড়াও করে সটান সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত চার মহিলার নাম সোনালী কুর্মি, দুর্গি রাও, সুনীতা রাজবংশী ও সবিতা সরকার। ব্যান্ডেলের লোকপুর ভাঙাবস্তি এলাকার একাধিক ঝুপড়িতেই তারা বাস করত। তবে তাদের অন্য জায়গায় বাড়ি থাকতে পারে বলে পুলিস আধিকারিকরা মনে করছেন। পুলিসের নজর এড়ানোর জন্যই তারা বস্তির গোপন ডেরায় বেশিরভাগ সময় থাকত বলে তদন্তকারীদের অনুমান।  
Advertisement
বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, আন্তঃজেলা গয়না চুরি চক্রের চার মহিলা সদস্যকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। ওই গ্যাংয়ের সঙ্গে আরও কারা জড়িত তাও জানার চেষ্টা চলছে।  
এক পুলিস আধিকারিক বলেন, নিপুনভাবেই ধৃতরা মহিলাদের গলার সোনার চেন হাতসাফাই করত। কোনও যন্ত্রের সাহায্যে তারা গলার চেন কেটে নিতে বলে আমাদের অনুমান। টেনে ছিঁড়ে নিলে মহিলারা টের পেতে পারেন, সেই কারণেই তারা যন্ত্র ব্যবহার করত বলে আমরা মনে করছি। যদিও তারা ঠিক কী ধরনের কাটিং মেশিন ব্যবহার করত সেব্যাপারে এখনও ধৃতরা মুখ খোলেনি। বিষয়টি জানতে তাদের জেরা করা হচ্ছে। 
উল্লেখ্য, পুজো বা উৎসবের মরশুমে কলকাতার পাশাপাশি জেলাস্তরেও মহিলা কেপমারদের উপদ্রব দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর আগে বাঁকুড়ায় বাচ্চা কোলে মহিলা কেপামারের গ্যাং দাপিয়ে বেড়ানোর অভিযোগ ওঠে। ছাতনায় সরকারি বাসে এক স্কুল শিক্ষিকার আড়াই লক্ষ টাকার গয়না নিয়ে সম্প্রতি এক মহিলা কেপমার চম্পট দিয়েছে। বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দা ওই শিক্ষিকা ছাতনা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। ওই কেপমারদের কোলে শিশু থাকছে বলে প্রত্য‌ক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ভিড়ের মধ্যে ট্রেনে বা বাসে তারা প্রথমে ‘টার্গেট’ বাছা‌ই করছে। তারপর কখনও সেই শিশুকে চিমটি কেটে কাঁদিয়ে কোলে দিয়ে পোশাক ঠিক করার নামে হোক অথবা পাশে বসে নানা কৌশলে দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে মহিলা কেপমাররা ‘অপারেশন’ সারছে। নিপুন হাতে কাজ ‘ফিনিশ’ করার পর তারা চম্পট দিচ্ছে। ছাতনার ঘটনায় দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের (এসবিএসটিসি) বাসের পাশের সিটে বসা মহিলা কেপমারের শিকার হন ওই শিক্ষিকা। তবে বাঁকুড়া শহরে ‘অপারেশন’ চালানোর আগেই মহিলা গ্যাংয়ের সদস্যরা পুলিসের পাতা জালে ধরা পড়ে যায়।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ