Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁশের সাঁকো ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন নবগ্রাম ও খড়গ্রামের মাঝে

বাঁশের সাঁকো ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন নবগ্রাম ও খড়গ্রামের মাঝে
  • ৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, কান্দি: গত সপ্তাহে ব্রাহ্মণী নদীতে ভেঙে পড়েছিল বাসিন্দাদের তৈরি বাঁশের সাঁকো। এরপর নবগ্রাম ও খড়গ্রাম ব্লকের বেশকিছু গ্রাম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে সমস্যায় পড়েন কয়েক হাজার বাসিন্দা। গত শনিবার ওই ভাঙা সাঁকো পরিদর্শন করেন স্থানীয় দুই বিধায়ক। তাঁরা জাফরপুর ও নামুযাদবপুরের মাঝে নদীর উপর কজওয়ে তৈরির জন্য নবান্নে আবেদন করেছেন। 
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জাফরপুর ও নামুযাদবপুর গ্রামের সংযোগ হিসেবে ব্রাহ্মণী নদীতে প্রায় ১২বছর আগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছিলেন স্থানীয়রা। ওই সাঁকো প্রায় ৮০ ফুট লম্বা ও ১০ ফুট চওড়া ছিল। প্রতিবছর এর রক্ষণাবেক্ষণও করতেন স্থানীয়রা।
তবে গত ২৯ ডিসেম্বর দুপুরে বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে একটি চারচাকা গাড়ি নীচে পড়ে যায়। ওই গাড়িতে থাকা চালক সহ ছয় আরোহী জখম হয়েছিলেন। দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙা সাঁকো আর জোড়া দিতে দেওয়া হয়নি বলে বাসিন্দাদের দাবি। ফলে সমস্যায় পড়েছেন নবগ্রাম ও খড়গ্রামের অন্তত ২০টি গ্রামের বাসিন্দারা। বহুবছর ধরেই ওই জায়গায় একটি কজওয়ে কিংবা ফুটব্রিজের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয়রা। কিন্তু সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় বাসিন্দারা বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। যার উপর দিয়ে বা‌ইক ও ছোট চারচাকা গাড়ি যাতায়াত করত। কিন্তু দুর্ঘটনার পর সাঁকো বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন ওই এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা। জাফরপুর গ্রামের বাসিন্দা হাসেম শেখ বলেন, বছরের এই সময় নদীর হাঁটু জল ঠেলে পারাপার করা গেলেও বর্ষার কয়েকমাস যাতায়াত পুরো বন্ধ হয়ে যাবে। অথচ ওই সেতু পেরিয়ে বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ পারাপার করেন। তাই আমরা স্থায়ী সমাধানের দাবি জানাচ্ছি।
ভাঙা সাঁকো পরিদর্শনে গিয়েছিলেন নবগ্রামের বিধায়ক কানাইচন্দ্র মণ্ডল ও খড়গ্রামের বিধায়ক আশিস মার্জিত। সেইসময় বাসিন্দারা বিধায়কদের কাছে স্থায়ী সমাধানের দাবি করেন। এবিষয়ে নবগ্রামের বিধায়ক বলেন, বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত সমর্থন করা যায় না। যেহেতু এটি দুই বিধানসভার মধ্যেই পড়ছে। তাই এতদিন কারা কাজ করবেন তা নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। সম্প্রতি খড়গ্রামের বিধায়কের সঙ্গে আমিও যৌথভাবে এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেখানে একটি কজওয়ে তৈরির আবেদন করা হয়েছে দুই বিধায়কের পক্ষ থেকে। খড়গ্রামের বিধায়ক বলেন, ইতিমধ্যেই নবান্নে কজওয়ে তৈরির আবেদন করা হয়েছে। তাতে দুই বিধায়ক স্বাক্ষর করেছি। আশা করি বর্ষার আগেই এই কাজ শেষ হবে। কয়েক হাজার বাসিন্দার সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ