সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: পশ্চিম মেদিনীপুরের সুশান্ত ঘোষ, উত্তর ২৪ পরগনার তন্ময় ভট্টাচার্যের পর এবার পশ্চিম বর্ধমানের বংশগোপাল চৌধুরী। মহিলা ঘটিত ব্যাপারে এবার নাম জড়াল বাম জামানার এই প্রাক্তন মন্ত্রীর। এবং এমন একটা সময়ে যখন সিপিএমের রাজ্য সম্মেলন সবেমাত্র শেষ হল।
Advertisement
মঙ্গলবার সম্মেলনের ছিল প্রকাশ্য সমাবেশ। আর সেই সময়ই সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম সহ অন্যান্য নেতৃত্বের সঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী ও আসানসোলের প্রাক্তন সিপিএমের এমপি বংশগোপাল চৌধুরীর ছবি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় দু’টি পোস্ট ভাইরাল হয়। সেখানে বংশগোপালের চরিত্র নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করা হয়। একটি পোস্ট করেছেন রত্না দাস নামে এক মহিলা। নিজেকে তিনি সিপিএমের মহিলা নেত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। অন্য পোস্টটি হয়েছে জুঁই বসু নামে আর এক মহিলার ফেসবুক পেজ থেকে। এই দু’টি পোস্ট ঘিরেই সরগরম জেলা রাজনীতি। যদিও বংশগোপাল বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এসব চক্রান্ত। দু’দিনের মধ্যেই আমি নোংরামির মোক্ষম জবাব দেব। আমাকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে।’
এদিন, ফেসবুক পেজে রত্নাদেবী বংশগোপালের বিরুদ্ধে অশালীন কিছু মন্তব্য করে লিখেছেন, ‘আমার এ পোড়া দেশে অভয়া, তিলোত্তমারা শুধু বিচার পায়নি তা নয় বন্ধু। এই পোড়া দেশে কোনও নারীই তাঁর সাথে ঘটে যাওয়া অপরাধের বিচার পায় না। কী হবে এই সম্মেলন করে? রাত বারোটার পর যখন এই সম্মেলনে আগত বা নির্বাচিত নেতাদের লাম্পট্য জাগ্রত হবে।’
এদিন ফোনে ধরা হয় রত্নাদেবীকে। তিনি পোস্টটি করেছেন বলে স্বীকার করে বলেন,‘ আমি মুর্শিদাবাদের সিটু জেলা কমিটির সদস্য ও সিপিএমের মহিলা সংগঠনের জেলানেত্রী। বংশগোপাল চৌধুরী গভীর রাতে মেসেঞ্জারে আমাকে অশালীন মেসেজ করতেন। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও বিষয়টি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে আমি ইচ্ছাকৃত ভাবেই নিজের হোয়াটাস অ্যাপ নম্বর উনাকে দিয়েছিলাম। তারপর একই ভাবে হোয়াটসঅ্যাপেও মেসেজ করতে থাকেন বংশোগোপালবাবু। সেই সব তথ্য প্রমাণ হিসেবে আমি স্কিনশর্ট করে রেখেছি। গত নভেম্বর মাসে আমাদের জেলা সম্পাদককে সেই সব তথ্য প্রমাণ তুলে দিয়েছিলাম। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন দল ব্যবস্থা নেবে। তারপর দেখি সিপিএমের রাজ্য সম্মেলনে সেই নেতা, মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে। এরপর মাথা ঠিক না রেখে জেলা সম্পাদককে ফোন করি। তিনি আমাকে বলেন, উনি তো আর আপনাকে বিরক্ত করছেন না। এটা কী বিচার! আমি তাই বিষয়টি ফেসবুকে পোস্ট করি। আমার মনে হয়, সমাজের বিষয়টি জানা প্রয়োজন। পোস্ট করার পর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে যোগাযোগ করি। উনি জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’ তবে, জুঁইদেবী ফোন ধরেননি। তিনি পোষ্টে বংশগোপালকে ‘চরিত্রহীন’ বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে মেসেজ করা হয়েছিল। তারও কোনও জবাব দেননি গভীররাত পর্যন্ত।
দু’টি পোস্টই উল্কার গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। নানা জনের নানা কমেন্টের বন্যা বইতে থাকে। সিপিএমে নেতাদের চরিত্র নিয়ে সাধারণ মানুষও প্রশ্ন তোলে। যা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে শিল্পাঞ্চলের সিপিএম নেতৃত্বকে। বিষয়টি নিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন কেটে দেন। ভয়েস মেসেজেরও কোনও উত্তর দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলেও জবাব মেলেনি।’
ফেসবুকে সেই বিতর্কিত পোস্ট।
এদিন, ফেসবুক পেজে রত্নাদেবী বংশগোপালের বিরুদ্ধে অশালীন কিছু মন্তব্য করে লিখেছেন, ‘আমার এ পোড়া দেশে অভয়া, তিলোত্তমারা শুধু বিচার পায়নি তা নয় বন্ধু। এই পোড়া দেশে কোনও নারীই তাঁর সাথে ঘটে যাওয়া অপরাধের বিচার পায় না। কী হবে এই সম্মেলন করে? রাত বারোটার পর যখন এই সম্মেলনে আগত বা নির্বাচিত নেতাদের লাম্পট্য জাগ্রত হবে।’
এদিন ফোনে ধরা হয় রত্নাদেবীকে। তিনি পোস্টটি করেছেন বলে স্বীকার করে বলেন,‘ আমি মুর্শিদাবাদের সিটু জেলা কমিটির সদস্য ও সিপিএমের মহিলা সংগঠনের জেলানেত্রী। বংশগোপাল চৌধুরী গভীর রাতে মেসেঞ্জারে আমাকে অশালীন মেসেজ করতেন। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও বিষয়টি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গেলে আমি ইচ্ছাকৃত ভাবেই নিজের হোয়াটাস অ্যাপ নম্বর উনাকে দিয়েছিলাম। তারপর একই ভাবে হোয়াটসঅ্যাপেও মেসেজ করতে থাকেন বংশোগোপালবাবু। সেই সব তথ্য প্রমাণ হিসেবে আমি স্কিনশর্ট করে রেখেছি। গত নভেম্বর মাসে আমাদের জেলা সম্পাদককে সেই সব তথ্য প্রমাণ তুলে দিয়েছিলাম। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন দল ব্যবস্থা নেবে। তারপর দেখি সিপিএমের রাজ্য সম্মেলনে সেই নেতা, মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে। এরপর মাথা ঠিক না রেখে জেলা সম্পাদককে ফোন করি। তিনি আমাকে বলেন, উনি তো আর আপনাকে বিরক্ত করছেন না। এটা কী বিচার! আমি তাই বিষয়টি ফেসবুকে পোস্ট করি। আমার মনে হয়, সমাজের বিষয়টি জানা প্রয়োজন। পোস্ট করার পর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে যোগাযোগ করি। উনি জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’ তবে, জুঁইদেবী ফোন ধরেননি। তিনি পোষ্টে বংশগোপালকে ‘চরিত্রহীন’ বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে মেসেজ করা হয়েছিল। তারও কোনও জবাব দেননি গভীররাত পর্যন্ত।
দু’টি পোস্টই উল্কার গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। নানা জনের নানা কমেন্টের বন্যা বইতে থাকে। সিপিএমে নেতাদের চরিত্র নিয়ে সাধারণ মানুষও প্রশ্ন তোলে। যা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে শিল্পাঞ্চলের সিপিএম নেতৃত্বকে। বিষয়টি নিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন কেটে দেন। ভয়েস মেসেজেরও কোনও উত্তর দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলেও জবাব মেলেনি।’
ফেসবুকে সেই বিতর্কিত পোস্ট।



