সংবাদদাতা, বোলপুর: এবছরও বসন্ত উৎসব হবে না বলে জানিয়ে দিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ। এ বছর দোল পূর্ণিমা ১৪ মার্চ। কিন্তু তার আগেই ১১ মার্চ বিশ্বভারতীর রীতি ও ঐতিহ্য মেনে ঘরোয়াভাবে বসন্ত উৎসব উদযাপন করা হবে। মূলত, বহিরাগত পর্যটকদের দৌরাত্ম্য ও ভিড় এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে। শান্তিনিকেতন ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত। ক্যাম্পাসের ভিতরের স্থাপত্য ও ভবন সহ পড়ুয়াদের নিরাপত্তা যাতে অটুট থাকে তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
Advertisement
পৌষ উৎসব ও বসন্ত উৎসব বিশ্বভারতীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। একটা সময় পর্যন্ত দেশ তো বটেই, বিদেশ থেকেও হাজার হাজার পর্যটক আসত এই দু’টি উৎসবে। করোনা মহামারী ও প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর আমলে সেই ঐতিহ্য বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। তবে, প্রতিবছর যেভাবে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে, তাতে ক্যাম্পাস কতটা সুরক্ষিত থাকবে সে বিষয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন। তার প্রেক্ষিতেই বেশ কয়েক বছর ধরে বিশ্বভারতী ঘরোয়াভাবে বসন্ত উৎসব উদযাপন করছে। গতবারেও দোল পূর্ণিমার পরিবর্তে অন্য দিন বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছিল বিশ্ববিদ্যালয়। সেই ধারা এবারেও অপরিবর্তিত রাখা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বিনয়কুমার সোরেন, বিভিন্ন ভবনের ডিরেক্টররা, প্রতিটি বিভাগের অধ্যক্ষ, অধ্যাপক ও আধিকারিক সহ অন্যান্যরা। বৈঠক শেষে জনসংযোগ আধিকারিক বলেন, দোলের দিনের ১৪ মার্চের পরিবর্তে ১১ মার্চ আমরা বসন্ত উৎসব আয়োজন করব। গত বছরের মত এবারেও ঘরোয়াভাবে এই উৎসব হবে।’ শান্তিনিকেতন কর্মী পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক দেবাশিস রায় বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান সর্বসাধারণের জন্য নয়। কেবলমাত্র বিশ্বভারতীর ছাত্রছাত্রী, কর্মী, অধ্যাপক, আধিকারিক ও আশ্রমিকদের নিয়েই উদযাপন করা হবে। রীতি মেনে আগের দিন সন্ধ্যায় বসন্ত বন্দনা, বৈতালিক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর, পরের দিন সকালে বৈতালিকের পর চিরাচরিতভাবে ‘ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল’ গান গেয়ে শোভাযাত্রা করে পাঠভবনের গৌড় প্রাঙ্গণে বসন্ত উৎসবের সূচনা হবে। রাতে অনুষ্ঠিত হবে নৃত্যনাট্য। ছাত্রছাত্রী ও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে, সেজন্যই এই সিদ্ধান্ত।’



