সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতীর বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ করলেন শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার। তাঁর অভিযোগ, শান্তিনিকেতনের সুবর্ণরেখা মোড় সংলগ্ন পান্থশালার জমির একটি অংশ বিশ্বভারতী ফেন্সিং দিয়ে ঘিরে রেখেছে। ফলে, দীর্ঘদিন ধরে শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট ওই জায়গায় মেরামত ও সংস্কার করতে পারছে না। পান্থশালার উন্নয়ন এবং সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য অবিলম্বে ফেন্সিং অপসারণের দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বিনয়কুমার সোরেনকে চিঠি লেখেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মসচিব অশোক মাহাত ট্রাস্টের এই আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, চিঠি হাতে পাইনি তবে, সামান্য বিষয় নিয়ে একটু বেশিই হইচই হচ্ছে।
Advertisement
প্রসঙ্গত, বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠার আগে শান্তিনিকেতন আশ্রম পরিচালনা করত ট্রাস্ট। আশ্রম প্রাঙ্গণের আম্রকুঞ্জ, ছাতিমতলা, উপাসনা গৃহ, পাঠভবন লাইব্রেরি, শান্তিনিকেতন গৃহ প্রভৃতি জায়গাগুলি শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের নামে রয়েছে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট এলাকার কমবেশি ১৬ একর জমি শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের নামে নথিভুক্ত। তবে ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেই সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ করছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেগুলি বিশ্বভারতীর ক্যাম্পাসের মধ্যেই রয়েছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিশ্বভারতী কখনওই শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের শত্রু নয়। প্রাক্তন বিতর্কিত উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর আমল ছাড়া কখনওই সংঘাত হয়নি। ফলে সীমানা নিয়ে প্রশ্ন উঠেনি। কিন্তু, আচমকা এই ধরনের চিঠি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলেছে। প্রসঙ্গত, ট্রাস্টের সম্পাদক চিঠিতে লেখেন, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিটি শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের হেফাজতে রয়েছে। সেখানে বিশ্বভারতীর ফেন্সিং রয়েছে। তার দরুন মেরামতের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। অনেকে সেখানে প্রস্রাব করে জায়গাটি দূষিত করছেন। দ্রুত ফেন্সিং সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত কর্মসচিব বলেন, এই ধরনের কোনও চিঠি এখনও হাতে আসেনি। তবে, এগুলি শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট ও বিশ্বভারতীর আভ্যন্তরীণ বিষয়। সেগুলি আলোচনা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ খোলা রয়েছে। চিঠি লিখে, বাইরে হইচই না করে প্রাথমিকভাবে আলোচনায় বসা উচিত। তাহলে সহজেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়।



