সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে। সেই সময়ই দাসপুর থানার পলাশপাই খালের পাড় বাঁশের চাঁচ দিয়ে পাইলিং করা নিয়ে বিতর্ক চরমে উঠেছে। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কাঁচা বাঁশ ও বাঁশের চাঁচি দিয়ে ওই খালের পাড়টি বাঁধাইয়ের কাজ করছিলেন। ঘাটাল মহকুমা সেচ ও জলপথ দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার উজ্জ্বল মাখাল ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমরা ওই ঠিকাদারকে পলাশপাই খালের বাঁধটি সংস্কারের কাজ দিয়েছিলাম। কিন্তু ওভাবে পাইলিং করতে বলা হয়নি। তিনি স্থানীয়দের অনুরোধে বাঁধের রাস্তাটি চওড়া করার জন্য চাঁচ ও বাঁশ দিয়ে বেশ কিছুটা অংশ পাইলিং শুরু করেছিলেন বলে খোঁজ নিয়ে জানলাম। আমরা খবর পেয়ে তা ঠিকাদারের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। সম্প্রতি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য বাজেটে টাকা বরাদ্দ হয়েছে। তারপর মন্ত্রী, সাংসদ, রাজ্যস্তরের আমলাদের নিয়ে ঘাটাল শহরে বার বার মিটিং হওয়ার পর থেকে এই ইস্যু নিয়ে বাজার গরম। শাসক দলের নেতা-কর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত। সবার মধ্যেই মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ নিয়ে একটা ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই পলাশপাই খাল বাঁশের চাঁচ দিয়ে পাইলিংয়ের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিরোধীরা শুরু করেন তির্যক মন্তব্য। বিজেপি নেতা সুজিত পাল বলেন, পলাশপাই খাল বাঁধ সংস্কারের জন্য বাঁশের পাতলা চাঁচ ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই সমস্ত চাঁচি দিয়ে মেলায় অস্থায়ী শৌচাগার ঘেরা হয়। আর খুঁটি হিসেবে শালকাঠের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে কাঁচা বাঁশ। একটা ভারী বৃষ্টি হলেই সমস্ত মাটি ফের খালে গিয়ে ভর্তি হবে। এভাবে সরকারের টাকাগুলো নষ্ট করা হচ্ছে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজও এভাবে হবে। মাস্টার প্ল্যানের জন্য বাজেটে টাকা বরাদ্দ হয়েছে ঠিকই কিন্তু ওই টাকাও এভাবে নষ্ট হবে।
Advertisement
তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ শ্যামপদ পাত্র বলেন. ঠিকাদারের ওভাবে কাজ করার কথা ছিল না। ওয়ার্ক অর্ডারে চাঁচ দিয়ে কাজ করার কথা বলা নেই। তবুও কেন ঠিকাদার তা করেছিলেন, সেটা খোঁজ নিতে মন্তব্য করব। সেচদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার জানিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যেই ঠিকাদার নিয়মবিরুদ্ধ কাজ সরিয়ে নেবে।



