সৌরভ বড়াল, সিউড়ি: গোরুর দুধে পরিস্রুত জল মেশালে ঘনত্ব কমে। বেড়ে যায় পরিমাণ। কিন্তু পুষ্টিগুণে কোনও হেরফের হয় না। অর্থাৎ, খাঁটি গোরুর দুধ জল মেশালেও খাঁটিই থাকে। এখন সেই গোরুর দুধ ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। তবে জলে নয়, রাসায়নিক পদার্থ ও হরমোন প্রয়োগে। ফলে, বাজারের আর পাঁচটি খাবার, তেল ও অন্যান্য সামগ্রীর মতো নিরাপদ নয় খাটালের গোরুর দুধ। যা নিয়মিত খেলে বিপদের প্রবল ঝুঁকি থাকছে গর্ভবতী মহিলা ও শিশুদের। প্রি-ম্যাচুওর ডেলিভারি থেকে শুরু শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসের আশঙ্কা থাকছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকদের একটা বড় অংশ। তাঁরা অবিলম্বে খাটালগুলিতে নজরদারি চালানোর দাবি তুলেছেন। এখন প্রশ্ন হল, গোরুর দুধে কীভাবে মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকারক রাসায়নিক ও হরমোন? মূলত খাটালের গোরুর দুধ নিয়ে এমন অভিযোগ উঠেছে। দুধের পরিমাণ বাড়াতে অবৈজ্ঞানিকভাবে অতিমাত্রায় অক্সিটোসিন হরমোন প্রয়োগ করা হচ্ছে গাভিদের। একাধিক খাটালে এটাই এখন দস্তুর। সিউড়ি সহ আশেপাশের শহর ও গ্রামেগুলিতে প্রচুর খাটাল রয়েছে। সেই সব খাটাল থেকে দুধ এনে শহরের বাড়ি বাড়ি বিক্রি করছেন গোয়ালারা। অভিযোগ, তাঁরা অতিরিক্ত লাভের আশায় গাভিদের অক্সিটোসিন হরমোনের ইঞ্জেকশন দিচ্ছেন। পাশাপাশি, লাভের পরিমাণ আরও বাড়াতে অপরিস্রুত জলও মেশানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। চিকিৎসকদের মতে, এই ভেজাল দুধ শিশুরা নিয়মিত পান উপকারের চেয়ে অপকার হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। নানা ধরনের অসুখেও ভুগতে পারে। যেমন, শ্রবণশক্তির ভারসাম্যহীনতা, দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া প্রভৃতি। গর্ভবতী মহিলাদেরও এই দুধ এড়িয়ে চলা উচিত। আর নিতান্ত খেতে হলে সঠিকভাবে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ফোটাতে হবে। তা না হলে গর্ভপাতের সম্ভাবনা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। অস্বাভাকি শিশুরও জন্ম হবে। প্রসবের পর রক্তক্ষরণের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেবে।
Advertisement
সিউড়ি হাসপাতালের চিকিৎসক জিষ্ণু ভট্টাচার্য বলেন, ‘অক্সিটোসিন হরমোন যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে গরুর দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। আর সেই দুধ দীর্ঘদিন পান করলে মানুষের শরীরে খারাপ প্রভাব পড়ে। মহিলাদের ফার্টিলিটির ক্ষেত্রে নানান সমস্যা দেখা দেয়। শিশুদের রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা কমে যায় এবং তাদের সাধারণ ভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে নানা শারীরিক বাধার সৃষ্টি হয়। এছাড়াও সাধারণ মানুষের যে স্বাভাবিক স্ট্রেস তৈরি হয় সেই স্ট্রেস থেকে লড়াই করার শারীরিক ক্ষমতাও কমিয়ে দেয় এই দুধ। এই বিষয়টি কেউই নজর দেন না। অবিলম্বে খাটালগুলিতে নজরদারি চালানো উচিত প্রশাসনের।’
জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিক ও চিকিৎসক প্রসেঞ্জিৎ বটব্যাল বলেন, ‘গবাদি পশু শুধু নয়, সেখান থেকে প্রাপ্ত খাদ্যটিও যাতে সুরক্ষিত ও নিরাপদ থাকে তার জন্য আমরা বহুবার রাজ্য ও জেলাস্তরে বৈঠক করেছি। অন্যান্য সরকারি বিভাগে যারা এই হরমোনের বিষয়টি দেখার দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের সঙ্গে কাজ করতে আমরা সদা তৎপর।’ জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক শুভব্রত ঘোষও মেনে নিয়েছেন, দুধের ক্ষতিকারক দিকটি।
জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিক ও চিকিৎসক প্রসেঞ্জিৎ বটব্যাল বলেন, ‘গবাদি পশু শুধু নয়, সেখান থেকে প্রাপ্ত খাদ্যটিও যাতে সুরক্ষিত ও নিরাপদ থাকে তার জন্য আমরা বহুবার রাজ্য ও জেলাস্তরে বৈঠক করেছি। অন্যান্য সরকারি বিভাগে যারা এই হরমোনের বিষয়টি দেখার দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের সঙ্গে কাজ করতে আমরা সদা তৎপর।’ জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক শুভব্রত ঘোষও মেনে নিয়েছেন, দুধের ক্ষতিকারক দিকটি।



