নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, হলদিবাড়ি: মাত্র ১২ ঘণ্টায় ধৃত ১০ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আবহে শুক্রবার শিলিগুড়ি সংলগ্ন বাগডোগরা ও উত্তর দিনাজপুর থেকে ওই অনুপ্রবশকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে, বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামবাসীদের সঙ্গে বৈঠক করছে বিএসএফ। সেনা বাহিনীও গ্রামের উপর নজর রাখছে।
এদিন দুপুরে বাগডোগরার পিকনিক স্পট এমএম তরাই এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছিল এক ব্যক্তি। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে খবর পেয়ে অভিযুক্তকে ধরে বাগডোগরা থানার পুলিসের হাতে তুলে দিয়েছে সেনা বাহিনী। পুলিস সূত্রের খবর, ধৃতের নাম আশরাফুল আলম। বাংলাদেশের রংপুরে ধৃতের বাড়ি। রাজশাহী জেলা হয়ে নদী পেরিয়ে এপারে আসে ধৃত। সে এখান থেকে জম্মু-কাশ্মীরে পাড়ি দিত বলে জানিয়েছে। সে কখনও পাঁচ দিন, আবার কখনও পাঁচ মাস আগে এপারে আসার কথা পুলিসি জেরায় জানিয়েছে।
শিলিগুড়ি পুলিস কমিশনারেটের ডেপুটি পুলিস কমিশনার (পশ্চিম) বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলেন, ওই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিনই সকালে প্রতিবেশী উত্তর দিনাজপুর জেলার দাসপাড়া গ্রাম থেকে ধরা পড়েছে আরও ন’জন বাংলাদেশি। বিএসএফ জানিয়েছে, দাসপুর গ্রামে ওই বাংলাদেশিদের সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন কিষানগঞ্জ সেক্টরের জওয়ানরা। তাঁরা গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় অভিযুক্তদের আটক করে। বাংলাদেশের দিনাজপুর ও নরসিন্দী জেলায় ধৃতদের বাড়ি। প্রায় এক বছর আগে ধৃতরা এখানে আসে। ওরা শ্রমিকের কাজ করতে রাজস্থানে পাড়ি দিয়েছিল। সেখান থেকে তারা বাংলাদেশে ফেরার জন্যই ওই সীমান্তে জড়ো হয়েছিল।
ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধের আবহে ওই বাংলাদেশিদের পাকড়াও করার ঘটনা নিয়ে স্থানীয় এলাকায় শোরগোল পড়েছে। বিএসএফ সূত্রে খবর,অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও পাচার রুখতে সীমান্তে নজরদারি কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গ্রামবাসীদের সঙ্গে বৈঠক করে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিন জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নতুন বস্তি ও অধিকারী পাড়ার গ্রামবাসীদের নিয়ে বৈঠক করে বিএসএফ। বৈঠকে বিএসএফ জানিয়েছে, গ্রামে অনুপ্রবেশকারী বা অচেনা ব্যক্তি দেখলেই তাদের জানাতে। সংশ্লিষ্ট সীমান্তে প্রায় ১৬ কিমি এলাকা উন্মুক্ত। ফলবাড়ির সর্দারপাড়া, ফাঁসিদেওয়ার বন্দরগছ সহ বিভিন্ন সীমান্তে জওয়ানরা গ্রামবাসীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেনা গোয়েন্দারাও বিভিন্ন সীমান্তে গিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন।