Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হোয়াটসঅ্যাপে স্ত্রীকে ‘সুইসাইড বার্তা’ পাঠিয়ে আত্মঘাতী বিএসএফ জওয়ান

রাতে ওড়িশার বাড়িতে স্ত্রীকে ‘সুইসাইড বার্তা’ পাঠিয়ে সকালে আত্মঘাতী হলেন এক বিএসএফ জওয়ান! সোমবার সকালে নিউটাউনের

হোয়াটসঅ্যাপে স্ত্রীকে ‘সুইসাইড বার্তা’ পাঠিয়ে আত্মঘাতী বিএসএফ জওয়ান
  • ১০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: রাতে ওড়িশার বাড়িতে স্ত্রীকে ‘সুইসাইড বার্তা’ পাঠিয়ে সকালে আত্মঘাতী হলেন এক বিএসএফ জওয়ান! সোমবার সকালে নিউটাউনের শুলংগুড়ি এলাকায় ভাড়াবাড়ির ভিতর থেকে তাঁর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। বাড়ি থেকে মিলেছে সুইসাইড নোটও। প্রাথমিক তদন্তে পুলিস ও বিএসএফ জানতে পেরেছে, ব্যক্তিগত সমস্যার কারণেই আত্মঘাতী হয়েছেন তিনি। তাঁর আর্থিক সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়ও ছিল। মৃত জওয়ানের নাম সূর্যকান্ত দাস (৩৮)। ওড়িশার বাসিন্দা ওই জওয়ান নিউটাউনে বিএসএফের সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়ারের হেডকোয়ার্টারে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। শুলংগুড়ি এলাকায় তিনি ভাড়া থাকতেন। ইকোপার্ক থানার পুলিস একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র একমাস আগেই নিউটাউনের শুলংগুড়িতে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন এই বিএসএফ জওয়ান। সেখান থেকেই কর্মস্থলে যাতায়াত করেছিলেন। রবিবার রাতে তিনি স্ত্রীকে হোয়াটস অ্যাপে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেখানে মানসিক অবসাদের উল্লেখের সঙ্গেই আত্মহত্যা করতে পারেন বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। ওই মেসেজ দেখেই পরিবারের সদস্যারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু, চেষ্টা করেও তাঁর ফোনে যোগাযোগ করতে পারেননি পরিবারের উদ্বিগ্ন সদস্যরা। তাই সোমবার সকালে উদ্বেগকে সঙ্গে নিয়েই বিএসএফ জওয়ানের স্ত্রী, ভাই সহ পরিবারের সদস্যরা নিউটাউনে আসেন। শুলংগুড়িতে এসে দেখেন, ভাড়া বাড়ির ওই ঘরটি বন্ধ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় দরজা ভাঙতেই দেখা যায়, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলছেন বিএসএফ জওয়ান।
খবর পাওয়ার পর বিএসএফ কর্তৃপক্ষ এবং ইকোপার্ক থানার পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিস ওই জওয়ানের ঘর থেকেও একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে। বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসকরা জওয়ানকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। পুলিস জানিয়েছে, ভাড়া ঘরটির দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। তিনি আত্মঘাতীই হয়েছেন। ব্যক্তিগত কারণেই এই ঘটনা বলেই জানা গিয়েছে। মৃতের স্ত্রী বা পরিবারের তরফে কোনও অভিযোগ করা হয়নি। বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যক্তিগত কারণের সঙ্গে আর্থিক সমস্যা ছিল। অফিস সংক্রান্ত কোনও কারণ বা অভিযোগ সুইসাইড নোটে পাওয়া যায়নি। তাঁর পরিবার যাতে মৃত্যুকালীন সমস্ত আর্থিক সুবিধা পায়, তার জন্য বিএসএফ একটি পৃথক তদন্ত করছে।  বিএসএফ জওয়ানের দেহ অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ