Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সীমান্তের বাসিন্দাদের ছোট ব্যবসায় উৎসাহিত করছে বিএসএফ

পাচারচক্রে স্থানীয়দের জড়িয়ে পড়া রুখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বিএসএফ। কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের, বিশেষ করে মহিলাদের ছোট ব্যবসায় উৎসাহিত করা হচ্ছে।

কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সীমান্তের বাসিন্দাদের ছোট ব্যবসায় উৎসাহিত করছে বিএসএফ
  • ১৮ জুন, ২০২৫ ১৬:০৬
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: পাচারচক্রে স্থানীয়দের জড়িয়ে পড়া রুখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বিএসএফ। কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের, বিশেষ করে মহিলাদের ছোট ব্যবসায় উৎসাহিত করা হচ্ছে। হাতে-তৈরি সামগ্রী বিক্রির জন্য বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে সীমান্ত এলাকায় আউটলেট তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে পর্যটকদের হাত ধরে বাংলার এই সামগ্রী এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও পৌঁছে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই তাতে যথেষ্ট সাড়া মিলেছে। নদীয়া জেলার কৃষ্ণগঞ্জ সীমান্তের গেদে-কাদিপুর এলাকায় এই প্রকল্প বিশেষভাবে কার্যকর হয়েছে। 

Advertisement

গেদে সীমান্ত দিয়ে নিয়মিত বাংলাদেশ ও ভারতের পর্যটকদের যাতায়াত হয়। এতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তৈরি সামগ্রী সরাসরি পর্যটকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। মহিলাদের পাশাপাশি গ্রামের পুরুষ ও অল্পবয়সি বেকার যুবকদেরও স্বনিযুক্তির লক্ষ্যে ধূপকাঠি তৈরি, মৌমাছি পালন ইত্যাদির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণ ও উদ্যোগে বিএসএফ সরাসরি সহযোগিতা করছে। মহিলাদের ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যে বিএসএফ একটি নতুন প্ল্যাটফর্মও চালু করেছে। সেখানে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যাদের তৈরি করা সামগ্রী সীমান্তের বিএসএফ আউটলেটে প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। এর ফলে তাঁদের আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বনির্ভরতার পথে তাঁরা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছেন।
বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের এক আধিকারিক বলেন, কাজ না থাকার জন্য সীমান্তের অনেকেই অপরাধ জগতের সঙ্গে নিজেদের জড়িয়ে ফেলে। সামান্য কিছু টাকার জন্য পাচারচক্রের ক্যারিয়ার হিসেবে তারা নেমে যায়। সেই প্রবণতা দূর করতেই সকলকে বিভিন্ন কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিএসএফের তরফে একটি নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেখান থেকে তারা বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করতে পারবে। প্রত্যন্ত এলাকায় মানুষজনের হাতে কাজ বাড়বে। বাইরের পর্যটকরাও সেই জিনিস কিনতে পারবে।
সীমান্ত এলাকায় পাচার রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ মোকাবিলায় নিরাপত্তার পাশাপাশি জোর দেওয়া হচ্ছে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপরেও। এই লক্ষ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের উদ্যোগে সীমান্ত এলাকাগুলিকে ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ’ প্রকল্পের আওতায় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল, সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটানো এবং নতুন প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। ইতিমধ্যেই একাধিক এলাকায় জোরকদমে সেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে গ্রামবাসীদের আয় বৃদ্ধির দিকে। পাশাপাশি, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফের সঙ্গে স্থানীয়দের সম্পর্ক দৃঢ় করতে নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ।
সীমান্তে পাচার রুখতে এই সামাজিক উন্নয়নকেই হাতিয়ার করতে চাইছে সরকার। বহুক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষজন মাত্র ৫০০-৬০০টাকার বিনিময়ে পাচার চক্রের ক্যারিয়ার হিসেবে কাজ করে। এই চক্র ভাঙা সহজ নয়। স্থানীয়রা যুক্ত থাকায় পাচারকারীদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রেক্ষিতে সীমান্তের মানুষদের মূল স্রোতে ফেরাতেই এবার সামাজিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক বিকাশ ও সচেতনতার উপরে জোর দিচ্ছে প্রশাসন। বিএসএফের তরফে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়ে তোলার উদ্যোগ। তাঁদের প্রশিক্ষণ এবং বিক্রির জন্য আউটলেট তৈরি করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে সীমান্তকে নিরাপদ ও আত্মনির্ভর করে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ