বেঙ্গালুরু ও মুম্বই: কর্ণাটকের বেলাগাভি জেলায় মারাঠি যাত্রীর কথা বুঝতে পারেননি বাসের কন্নড়ভাষী কন্ডাকটর। তার জেরে হেনস্তার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। এই নিয়ে তৈরি হয় ভাষা-বিতর্ক। তার রেশ কাটার আগেই হামলার মুখে পড়ে মহারাষ্ট্রের সরকারি বাস। এই সংঘাতের ছায়া পড়েছে কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রের সম্পর্কে। বন্ধ হয়ে গেল দু’রাজ্যের মধ্যে বাস পরিষেবা। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, বেলাগাভি জেলা নিয়ে কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত বহু পুরনো। এই জেলাটি কর্ণাটকের মধ্যে হলেও মারাঠি ভাষাভাষীর সংখ্যা প্রচুর। তাই সেটি মহারাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করতে বহুবার দাবি উঠেছে। যদিও কর্ণাটক সরকার ও স্থানীয়রা তা মানতে চায়নি। এবার বেলাগাভিতে কন্নড়ভাষী কন্ডাকটরকে মারধরকে কেন্দ্র করে পুরনো সংঘাত নয়া মাত্রা পেয়েছে।
Advertisement
নতুন করে সংঘাতে সূত্রপাত গত শুক্রবার। কর্ণাটকের বেলগাভি জেলায়। মারাঠি ভাষায় কথা বলতে না পারায় সরকারি বাসের কন্নড়ভাষী কন্ডাকটরকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ওই ঘটনার চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। পাল্টা ওই কন্ডাকটরের বিরুদ্ধে নাবালিকা যাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগে পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। পাল্টা শনিবার চিত্রদুর্গা জেলায় মহারাষ্ট্রের একটি সরকারি বাসকে নিশানা করেছে কয়েকজন দুষ্কৃতী। হিরিউর তালুকের গুইলাল এলাকায় মহারাষ্ট্র স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের বাসটি আটকে দেওয়া হয়। সেটিতে ভাঙচুরের পাশাপাশি বাসচালক ভাস্কর যাদবের মুখে কালি লাগিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। হামলায় যুক্ত থাকার অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিস। এরপরই মুম্বই থেকে বেঙ্গালুরু বাস পরিষেবা বন্ধের ঘোষণা করেন মহারাষ্ট্রের পরিবহণমন্ত্রী প্রতাপ সারনিক। এরমধ্যে রবিবার কর্ণাটক সরকারের একটি আল্ট্রা-লাক্সারি বাস হামলার মুখে পড়ে। কালো কালি দিয়ে তাতে ‘জয় মহারাষ্ট্র’, ‘মারাঠা’, ‘মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা’ লিখে দেওয়া হয়। তারপর মহারাষ্ট্রের সঙ্গে বাস পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে কর্ণাটকও।
বেঙ্গালুরুতে পরিবহণ দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আপাতত কর্ণাটক থেকে মহারাষ্ট্রে কোনও বাস যাচ্ছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মহারাষ্ট্রের পরিবহণ দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বেঙ্গালুরুতে পরিবহণ দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আপাতত কর্ণাটক থেকে মহারাষ্ট্রে কোনও বাস যাচ্ছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মহারাষ্ট্রের পরিবহণ দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।



