Bartaman Logo
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ব্রুটাস তুমিও? গড়াপেটার সঙ্গে যুক্ত ময়দানের প্রবীণ কোচ

গড়াপেটা ময়দানের পুরোনো রোগ। চোখের পলকে বদলে যায় সমীকরণ। বটতলার আলো-আঁধারিতে ফিসফাস। পয়েন্ট দেওয়া-নেওয়ার খেলা দানা বাঁধে। মোবাইল ফোন কিংবা নেটযুগের আগেও নিখুঁত অঙ্কে চলত অপারেশন। কেমন ছিল সেসব দিন? এই নিয়েই বর্তমানের অন্তর্তদন্ত।

ব্রুটাস তুমিও? গড়াপেটার সঙ্গে যুক্ত ময়দানের প্রবীণ কোচ
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গোটা মাঠে কাচের টুকরো। নিরুপায় রেফারি ম্যাচ স্থগিত রাখতে বাধ্য হলেন । ময়দানের অন্য মাঠে খেলা হল যথারীতি। এটাই তো চেয়েছিলেন গড়াপেটার মাস্টার মাইন্ড। তাঁর নিখুঁত হিসাবে পরদিন আরও একটি নির্লজ্জ গট-আপের সাক্ষী রইল গড়ের মাঠ।  ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কে? অভিযোগের আঙুল ছোট দলের এক বড় কোচের দিকে। ব্রুটাস তুমিও? অনেকেই অবাক। বাকিরা জেনেশেুনেও চুপ। আসলে লেনদেনের সমীকরণে কেউই ঘাঁটাতে চান তা তাঁকে। অনেক সাজানো ম্যাচের সাক্ষী তিনি। কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে যদি কেউটে বেরিয়ে পড়ে!

Advertisement

খেলোয়াড়ি জীবনে ডিফেন্ডার ছিলেন। তাঁর অভিধানে মারের বিকল্প নেই। বিপক্ষ স্ট্রাইকার তো বটেই,এমনকী সমঝে চলতেন রেফারিও। অবসরের পর শুরু কোচিং। মাথা গরম করলে মুশকিল। কুমারটুলি ক্লাবের পক্ককেশ এক প্রবীণ কর্তা তাঁর গডফাদার। তিনিই মুশকিল আসান। নিষ্কলঙ্ক ইমেজ নিয়ে  জীবনের ময়দান ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দেন সেই কর্তা। তবে ছাত্র ঠিক উল্টো। একই অঙ্গে কত রূপ। বিভিন্ন ডিভিশন মিলিয়ে প্রায় ১০-১২টি দলের কোচের দায়িত্ব পালন। ময়দানের আড্ডায় শোনা যায়,রিলে সিস্টেমে গড়াপেটার জনক তিনি। বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে? ধরুন, প্রিমিয়ারে তাঁর দল অবনমনের বাইরে। তখন বন্ধুকৃত্যে সমস্যা নেই। পয়েন্ট ছাড়ায় হাঁফ ছেড়ে বাঁচল প্রতিপক্ষ। এবার অন্য ডিভিশনে তাঁর দল বিপদে। বিনিময় প্রথার মতো এগিয়ে আসতেন গড়াপেটার বন্ধুরা। এটাই অলিখিত নিয়ম। বছরের পর বছর এভাবেই চলছে। ময়দানে আপশোস, গড়াপেটার খেলায় না মাতলে বড় দলের ডাগ-আউটেও দেখা যেত তাঁকে। জেলায় জেলায় দুর্দান্ত নেটওয়ার্ক। কেউ নজর কাড়লেই জেলা কর্তারা ফোন ঘোরাতেন সেই কোচের নম্বরে। কয়েক বছর আগে নিঃশব্দে ময়দানে খেলে গিয়েছেন ছত্রধর মাহাতোর ছেলে ধৃতিপ্রসাদ। জঙ্গলমহল থেকে তাকে তুলে এনেছিলেন ছোট দলের বড় কোচ। ম্যাচ বাঁচানোর অন্তত শ’খানেক ট্যাকটিক্স তাঁর মুখস্থ। তাঁর দল লিড নিলে সোনায় সোহাগা। সবাই জানেন, দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হবে সময় চুরির খেলা। ফুটবলাররা যথেচ্ছ চোট পাবেন, অহরহ কাতরাবেন। রেফারি, সমর্থক সবাই বিরক্ত। কিন্তু তিনি নির্বিকার। যা নিয়ে বিতর্ক কম নয়। যে করেই হোক পয়েন্ট চাই তাঁর। ময়দানের সব কঠিন অংক মিলিয়েই টিকে রইলেন এতদিন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ