Bartaman Logo
১৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কাজ চলে যাওয়ার আক্রোশে মৌড়িগ্রাম স্টেশনে নৃশংস খুন

মৌড়িগ্রাম স্টেশনের শৌচালয়ের সামনে খুন হলেন সঞ্জয় গিরি। পুরানো আক্রোশের কারণে ঘটেছে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। বিস্তারিত পড়ুন।

কাজ চলে যাওয়ার আক্রোশে মৌড়িগ্রাম স্টেশনে নৃশংস খুন
  • ১৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ভরদুপুরে প্ল্যাটফর্মে যাত্রীর সংখ্যা হাতেগোনা। সেই সময় দক্ষিণ-পূর্ব রেলের মৌড়িগ্রাম স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম লাগোয়া শৌচালয়ের সামনে কয়েক মিনিটের বচসা, তারপরেই রক্তারক্তি কাণ্ড। ধারালো ছুরির এলোপাথাড়ি কোপে খুন হলেন নলপুর সারেঙ্গার বাসিন্দা সঞ্জয় গিরি (৫০)। রক্তমাখা ছুরি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও যাত্রীদের তৎপরতায় ধরা পড়ে যায় অভিযুক্ত রাজু দাস। তাঁরাই তাকে উত্তম মধ্যম দেয়। পরে নাজিরগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে জিআরপির হাতে তুলে দেয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পুরানো আক্রোশের কারণেই এই খুন।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৌড়িগ্রাম স্টেশনের শৌচালয়ের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি সংস্থায় দীর্ঘদিন কাজ করত রাজু। পরে তাকে সরিয়ে নিয়োগ করা হয় সঞ্জয় গিরিকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ হারানোর ক্ষোভে মাঝেমধ্যেই সঞ্জয়ের সঙ্গে ঝামেলা করত রাজু, এমনকি হুমকিও দিত। মঙ্গলবার বেলা ১২টা নাগাদ শৌচালয়ের সামনে বসেছিলেন সঞ্জয়। সেই সময় রাজু সেখানে এলে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় সঞ্জয়ের। মুহূর্তে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। অভিযোগ, সঞ্জয়কে শৌচালয়ের ভিতরে টেনে নিয়ে গিয়ে পকেট থেকে ধারালো ছুরি বের করে বুকে ও হাতে পরপর কোপ মারে রাজু। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সঞ্জয়। পুলিশের দাবি, বুকে ও হাতে তিন থেকে চারটি গভীর ক্ষতের জেরেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং তার জেরেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।
খুনের পর ছুরি হাতে প্ল্যাটফর্ম ধরে পালানোর চেষ্টা করে রাজু। তার শরীরে রক্ত দেখে সন্দেহ হয় প্রত্যক্ষদর্শী পৃথ্বীশ সারথি ধরের। তাঁর কথায়, ‘শৌচালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় রক্ত বেরতে দেখি। সামনে ছুরি হাতে একজনকে দ্রুত চলে যেতে দেখে সন্দেহ হয়। চিৎকার করে আমি ওকে ধরে ফেলি।’ এরপর অন্য যাত্রীরাও ঝাঁপিয়ে পড়ে অভিযুক্তকে পাকড়াও করে গণপিটুনি দেয়। খুনে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, জেরার সময় কাজ চলে যাওয়ার ক্ষোভ থেকে খুনের কথা স্বীকার করেছে রাজু। পুলিশের অনুমান, ঘটনাটি পূর্ব পরিকল্পিত। নাহলে রাজু ধারালো ছুরি সঙ্গে নিয়ে আসত না।
এই ঘটনার পর যাত্রীদের প্রশ্নের মুখে মৌড়িগ্রাম স্টেশনের নিরাপত্তা। নিত্যযাত্রী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামলেই প্ল্যাটফর্ম কার্যত অরক্ষিত হয়ে পড়ে। রেল পুলিশের নজরদারির অভাবে বসে নেশার আসর। অবাধে ঘোরাফেরা করে সমাজবিরোধীরা। নিত্যযাত্রী সুনিতা সরকার বলেন, ‘প্রতিদিন এই স্টেশন দিয়েই যাতায়াত করি। শৌচালয়ের পাশে ওই মাঝবয়সি মানুষটিকে প্রায়ই বসে থাকতে দেখতাম। শুনলাম তিনি খুন হয়েছেন। সন্ধ্যার পর ট্রেন থেকে নামলে ধূ ধূ প্ল্যাটফর্মে রীতিমতো ভয় লাগে।’ দিনের আলোয় এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর রেলের দক্ষিণ-পূর্ব শাখার ছোটো স্টেশনগুলিতে নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদারের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ