Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ষাকালীন পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের, দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ

বর্ষাকালীন পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের, দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ
  • ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: পূর্বস্থলী, কাটোয়ায় বর্ষাকালীন পিঁয়াজ চাষে উৎসাহ বাড়ছে চাষিদের। কয়েক বছর আগেই প্রশাসনের উদ্যোগে পূর্ব বর্ধমান জেলায় বর্ষাকালীন পিঁয়াজ চাষ শুরু হয়েছিল। এখন তার সুফল মিলছে। রাজ্যে পিঁয়াজ আমদানিতে ভিন রাজ্যের উপর নির্ভরতা কমাতেই এমন উদ্যোগ। চাষিদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। পিঁয়াজ সংরক্ষণের ‘গোলা’ তৈরিতেও সরকারি উদ্যোগে বাড়ানো হচ্ছে। 
Advertisement
পূর্ব বর্ধমানের জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের অফিসার সুদীপ ভকত বলেন, এখন কাটোয়া, মঙ্গলকোট, কালনা, পূর্বস্থলী এলাকায় বর্ষাকালীন পিঁয়াজ চাষ ভালোই হচ্ছে। তবে এর মূল সমস্যা বীজ আমদানির জন্য। প্রশাসনিক ভাবেই চাষিদের বীজ দিতে হয়। নাহলে চাষিরা বীজ সরাসরি আমদানি করতে পারে না। গতবারের তুলনায় এবারে ফলন ভালোই হবে বলে আশা করছি। 
পুজোর পর থেকেই বাজারে পিঁয়াজের দাম চড়তে থাকে। কারণ সে সময় স্থানীয় চাষিদের পিঁয়াজ শেষ হয়ে যায়। তাই বাইরে নাসিক বা অন্য জায়গা থেকে পিঁয়াজ আমদানি করতে হয়। তাই চাষিদের বর্ষাকালীন পিঁয়াজ চাষে কয়েক বছর আগেই পরামর্শ দিয়েছিল জেলার উদ্যান পালন দপ্তর। এখন সেটা বাড়ছে। জেলার সব থেকে বেশি পিঁয়াজ চাষ হয় পূর্বস্থলী-১ ও ২,  কালনা-২ ব্লকে। মূলত সুখসাগর প্রজাতির পিঁয়াজ চাষ হয়। এখন এর পরিধি বাড়ছে। মঙ্গলকোটের একাংশ ও কাটোয়া-১ ও ২ ব্লকেও বর্ষাকালীন পিঁয়াজ চাষ হচ্ছে। এবারে শুধু পূর্বস্থলী-২ ব্লকে প্রায় ৩০০ হেক্টরের বেশি জমিতে পিঁয়াজ চাষ হয়েছে। কালেখাঁতলা, রামকৃষ্ণপল্লি, মাজিদা, লক্ষ্মীপুর এলাকায় চাষ হয়েছে। 
এতদিন পিঁয়াজ সংরক্ষণের অসুবিধার জন্যই চাষিরা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হতেন। তাই তাঁরা ফসলের ন্যায্য দামও পেতেন না। তাই সরকারি উদ্যোগে পিঁয়াজ সংরক্ষণের ‘গোলা’ তৈরিতে সাহায্যে করেছে। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, একটা গোলা তৈরিতে খরচ পড়ে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা। এরমধ্যে সরকার চাষিদের দিচ্ছে ৮৭ হাজার ৫০০ টাকা। জেলায় আগে ২৭টি গোলা ছিল। এখন আরও ৩৭টি গোলা তৈরির প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। যারমধ্যে ২২টির কাজ প্রায় শেষের দিকে। গোলায় রেখে চাষিরা এখন পিঁয়াজের ভালো দাম পাচ্ছেন।
প্রশাসনের দাবি, বর্ষাকালীন পিঁয়াজ সুফল বাংলার স্টলে বিক্রি করতে পারছেন চাষিরা। উদ্যান পালন দপ্তরের দাবি, চাষিরা যেহেতু এই চাষে ততটা রপ্ত এখনও করে উঠতে পারেনি। তাই তাঁদের জমির তলাটা ভালো করে করতে হবে। সম্প্রীতি পূর্বস্থলী-২ ব্লক, কাটোয়া-১ ব্লকে চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে উদ্যান পালন দপ্তরের উদ্যোগে। জুন মাসে বর্ষাকালীন পিঁয়াজ চাষের জন্য বীজ ফেলতে হয় জমিতে। আর জুলাই মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে জমিতে চারা রোপণ করতে হয়। ডিসেম্বর মাস ফসল তোলার সময়। 
পূর্বস্থলীর পিঁয়াজ চাষি জিয়ারুল শেখ বলেন, আমাদের এলাকায় এখন এই চাষে সবার উদ্যোগ বাড়ছে। কয়েক বছর পর আশা করছি আমরাও ভালো জায়গায় পৌঁছতে পারব৷ তখন সরকারকে আর ভিন রাজ্যের উপর নির্ভর করতে হবে না। আসলে ভালো দাম পেলে সবাই চাষ করতেও উদ্যোগ নেবে। ধীরে ধীরে পরিধি আরও বাড়বে। 
সম্পর্কিত সংবাদ