নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অবৈধ সম্পর্ক হাতেনাতে ধরা পড়তেই হুলস্থুল কাণ্ড দত্তপুকুরে। এমনকী বউমার প্রেমিকের ধাক্কায় মৃত্যু হল প্রৌঢ় ভাসুরের। ঘটনাটি দত্তপুকুরের নিবাদুই এলাকার। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম শওকত আলি (৫০)। অভিযুক্ত জসিমউদ্দিন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে তোলা হলে পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
বুধবার রাত। ঘড়িতে ১১টা। ঘরের ভিতর ঘুমিয়ে ছিলেন স্বামী। বাইরে বেরিয়ে এসে দরজায় শিকল তুলে দেন স্ত্রী। বারান্দায় তখন প্রেমিক। ঘুম থেকে উঠে বাইরে বেরতে না পেরে ঘরের ভিতর থেকে দরজায় ধাক্কা দিতে শুরু করেন স্বামী। কিন্তু কেউ দরজা খুলছিল না। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দরজায় ধাক্কা দেওয়ার শব্দ শুনতে পান তাঁর দাদা শওকত। ভাইয়ের বাড়িতে ঢুকে তিনি ঘনিষ্ঠ অবস্থায় বউমা ও তাঁর প্রেমিককে দেখতে পান। চিৎকার শুরু করেন শওকত। তাঁকে দেখেই লুকিয়ে পড়ে প্রেমিক জসিমউদ্দিন। পরে পরিস্থিতি বেগতিক হওয়ায় দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে সে। পালাতে গিয়ে শওকতকে ধাক্কা মারে জসিমউদ্দিন। সেখানেই পড়ে গুরুতর আঘাত পান শওকত।
হইচই শুনে স্থানীয়রা এসে অভিযুক্তকে ধরে ফেলে। খবর দেওয়া হয় দত্তপুকুর থানায়। পুলিস এসে রক্তাক্ত অবস্থায় শওকতকে বারাসত মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে মহিলার স্বামী বলেন, অবৈধ সম্পর্ক হাতেনাতে ধরা পড়তেই যুবকটি দাদাকে ধাক্কা মারে। তার জেরে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে দাদার। আমি চাই, অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি। ওদের সম্পর্কের ব্যাপারে আমার কিছু জানা ছিল না। কতদিন ধরে সম্পর্ক বুঝতে পারিনি। রাতে আমাকে বাইরে থেকে তালা দিয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। দত্তপুকুর থানার পুলিস জানিয়েছে, জসিমউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।