সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বিরল রোগে আক্রান্ত একই মায়ের পেটের তিন বোন। কারওরই উঠে বসার ক্ষমতা নেই। অসহায় দিনমজুর বাবা বুকে পাথর চেপে শয্যাশায়ী তিন মেয়েকে দু’ দশকেরও বেশি সময় ধরে চামচে করে খাবার খাইয়ে প্রাণটুকু বাঁচিয়ে রেখেছেন। তালডাংরার মাজুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ষষ্ঠী সর্দার ও জয়ন্তী সর্দারের আক্ষেপ, তাঁদের তিন মেয়ে ১০০ শতাংশ প্রতিবন্ধী হলেও কেউই ভাতা পায় না। তাই সংসার চালাতে মাটির অন্ধকার ঘরে তিন মেয়েকে রেখে তাঁদের অন্যের জমিতে দিনমজুরি করতে যেতে হয়। তবে তাঁদের তিন মেয়ে শয্যাশায়ী হলেও অপর এক মেয়ে শর্বরী সুস্থ এবং স্বাভাবিক। তিনি এখন পাঁচমুড়া কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। তাঁকে নিয়েই সর্দার দম্পতির মনে যাবতীয় স্বপ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
Advertisement
স্থানীয় সাতমৌলি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অন্তু মণ্ডল বলেন, আঙুলের ছাপ না ওঠায় আগে আধার কার্ড হয়নি। পরে আমরা উদ্যোগ নিয়ে তিন বোনের আধার কার্ড এবং ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট খুলিয়ে দিয়েছি। তারপরেই ভাতার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে। আশা করি খুব শীঘ্রই তা চালু হয়ে যাবে।
সাতমৌলি পঞ্চায়েতের মেঠানা গ্রামের পরেই প্রত্যন্ত মাজুরিয়া গ্রাম। এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সেরকম নেই। কোথাও যাওয়ার জন্য বাস ধরতে গেলে ৮ কিলোমিটার দূরে সাবড়াকোনও অথবা ১০ কিলোমিটার দূরে বিষ্ণুপুর শহরে যেতে হয়। ষষ্ঠীবাবুর বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল মাটির বাড়ির উঠোনে রান্না করছেন স্ত্রী জয়ন্তী সর্দার। ষষ্ঠীবাবু ততক্ষণে অন্যের জমিতে খাটতে চলে গিয়েছেন। জয়ন্তীদেবীও কাজে যাবেন বলে তাড়াহুড়ো করে রান্না করছিলেন। আর তাঁদের সুস্থ একমাত্র কলেজপড়ুয়া মেয়ে শর্বরী বাড়ির কাজ করছেন। প্রতিবন্ধী তিন মেয়ের কথা বলতেই জয়ন্তীদেবীর চোখ কান্নায় ভিজে আসে। মেয়েদের দেখতে চাইলে অন্ধকার ঘর থেকে জয়ন্তীদেবী ও শর্বরী দু’জনে মিলে পরপর তিনজনকে উঠোনে মাদুর পেতে শুইয়ে দেন। তিন মেয়ে শুয়ে শুয়ে হাত পা নাড়লেও কথা বলা অথবা উঠে বসার ক্ষমতা তাঁদের নেই। এমনকী তাঁদের স্বাভাবিক জ্ঞানও নেই। মেয়েদের পাশে বসে জয়ন্তীদেবী বলেন, বড় মেয়ে শম্পা হওয়ার চার-পাঁচমাস পর তার মধ্যে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে। বিষ্ণুপুর ও বাঁকুড়ায় অনেক ডাক্তার দেখানো হয়। কিছু লাভ হয়নি। কলকাতায় যাওয়ার মতো আর্থিক অবস্থা আমাদের ছিল না। তারপর মেজ মেয়ে শর্বরী স্বাভাবিকভাবেই বড় হয়। কিন্তু তারপর আরও দুই মেয়ে পরপর হলেও তাদের অবস্থাও বড় মেয়ের মতো হয়ে যায়। কপালের লিখন ভেবে সবকিছু মেনে নিই। জন্ম দিয়েছি, ফেলে দিতে পারিনি। সেই থেকে ওরা কেবল ঘরের মধ্যে শুয়ে থাকে। চামচে করে খাওয়ানো হয়। কোনও রকমে বেঁচে আছে। মায়ের কথা শুনতে শুনতে শর্বরীর চোখে জল চলে আসে। তার কারণ বাবা ও মা কাজে চলে গেলে প্রতিবন্ধী দিদি ও দুই বোনের পরিচর্যা তাঁকেই করতে হয়। তাই অনেক সময় কলেজ কামাই হয়ে যায়।
সাতমৌলি পঞ্চায়েতের মেঠানা গ্রামের পরেই প্রত্যন্ত মাজুরিয়া গ্রাম। এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সেরকম নেই। কোথাও যাওয়ার জন্য বাস ধরতে গেলে ৮ কিলোমিটার দূরে সাবড়াকোনও অথবা ১০ কিলোমিটার দূরে বিষ্ণুপুর শহরে যেতে হয়। ষষ্ঠীবাবুর বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল মাটির বাড়ির উঠোনে রান্না করছেন স্ত্রী জয়ন্তী সর্দার। ষষ্ঠীবাবু ততক্ষণে অন্যের জমিতে খাটতে চলে গিয়েছেন। জয়ন্তীদেবীও কাজে যাবেন বলে তাড়াহুড়ো করে রান্না করছিলেন। আর তাঁদের সুস্থ একমাত্র কলেজপড়ুয়া মেয়ে শর্বরী বাড়ির কাজ করছেন। প্রতিবন্ধী তিন মেয়ের কথা বলতেই জয়ন্তীদেবীর চোখ কান্নায় ভিজে আসে। মেয়েদের দেখতে চাইলে অন্ধকার ঘর থেকে জয়ন্তীদেবী ও শর্বরী দু’জনে মিলে পরপর তিনজনকে উঠোনে মাদুর পেতে শুইয়ে দেন। তিন মেয়ে শুয়ে শুয়ে হাত পা নাড়লেও কথা বলা অথবা উঠে বসার ক্ষমতা তাঁদের নেই। এমনকী তাঁদের স্বাভাবিক জ্ঞানও নেই। মেয়েদের পাশে বসে জয়ন্তীদেবী বলেন, বড় মেয়ে শম্পা হওয়ার চার-পাঁচমাস পর তার মধ্যে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে। বিষ্ণুপুর ও বাঁকুড়ায় অনেক ডাক্তার দেখানো হয়। কিছু লাভ হয়নি। কলকাতায় যাওয়ার মতো আর্থিক অবস্থা আমাদের ছিল না। তারপর মেজ মেয়ে শর্বরী স্বাভাবিকভাবেই বড় হয়। কিন্তু তারপর আরও দুই মেয়ে পরপর হলেও তাদের অবস্থাও বড় মেয়ের মতো হয়ে যায়। কপালের লিখন ভেবে সবকিছু মেনে নিই। জন্ম দিয়েছি, ফেলে দিতে পারিনি। সেই থেকে ওরা কেবল ঘরের মধ্যে শুয়ে থাকে। চামচে করে খাওয়ানো হয়। কোনও রকমে বেঁচে আছে। মায়ের কথা শুনতে শুনতে শর্বরীর চোখে জল চলে আসে। তার কারণ বাবা ও মা কাজে চলে গেলে প্রতিবন্ধী দিদি ও দুই বোনের পরিচর্যা তাঁকেই করতে হয়। তাই অনেক সময় কলেজ কামাই হয়ে যায়।



