নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বিরল জিনগঠিত রোগে আক্রান্ত আট মাসের সন্তানকে নিয়ে উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে পরিবার। সিমলাপালের অড়রা গ্রামের বাসিন্দা পেশায় সিআরপিএফ জওয়ান মনোজ হাটির ছেলে ঈশান স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রফি(টাইপ-১ এসএমএ) রোগে আক্রান্ত। দিনদিন ছোট্ট ঈশানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। ইতিমধ্যেই চেন্নাই ও ভেলোরে তার চিকিৎসা চলেছে। কিন্তু পরিবারের পক্ষে চিকিৎসার বিপুল ব্যয়ভার বহন করা অসম্ভব। গ্রামবাসী ও আত্মীয়রা একজোট হয়ে চিকিৎসার খরচ তুলতে বিভিন্ন মহলে সাহায্য প্রার্থনা করছেন। মনোজবাবু বর্তমানে মণিপুরে কর্মরত। সেখান থেকে ফোনে বলেন, বছর ছয়েক আগে আমার বিয়ে হয়। আট মাস আগে ঈশানের জন্ম হয়। জন্মের তিন মাসের মাথায় ছেলের শরীরে নানা সমস্যা দেখা দেয়। চিকিৎসকরা নার্ভের রোগের কথা জানান। চেন্নাই ও ভেলোরের দু’টি হাসপাতালে ছেলেকে ভর্তি করিয়েছিলাম। সেখানে রোগ নির্ণয় হয়। সপ্তাহদুয়েক আগে ছেলের ‘টাইপ-১ এসএমএ’তে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি জানতে পারি। চিকিৎসার জন্য বিশেষ জিন থেরাপির প্রয়োজন। ১৬ কোটি টাকা খরচ হবে। আপাতত মাসে একটি করে সিরাপ খাওয়াতে হবে। তারজন্য মাসিক ছ’লক্ষ টাকা খরচ পড়বে। আমি ন’বছর আগে চাকরি পেয়েছি। আমরা কৃষক পরিবারের সন্তান। ফলে গত কয়েকমাসে ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ঋণে ডুবে গিয়েছি। এখন এই বিপুল টাকা খরচ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে সকলকে পাশে চাই। ভেলোর থেকে ফেরার পর ঈশান বাড়িতেই ছিল। এদিন অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ছেলের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোযুক্ত হাসপাতাল কলকাতায় রয়েছে। বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি অর্পণকুমার গোস্বামী বলেন, জিনঘটিত ওই রোগে আক্রান্ত শিশুদের শরীরের মাংসপেশি দিনদিন দুর্বল হতে থাকে। ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে শিথিলতা আসতে শুরু করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও হ্রাস পায়।



