Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিরল এইচএলএইচ রোগে আক্রান্ত কৃষ্ণগঞ্জের দেড়মাসের শিশুকন্যা

বিরল এইচএলএইচ রোগে আক্রান্ত কৃষ্ণগঞ্জের দেড়মাসের শিশুকন্যা
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুকে বাঁচাতে সাহায্যের আর্জি নিয়ে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরছে মণ্ডল পরিবার। অস্থি মজ্জার স্থানান্তরিত করার মাধ্যমে এই চিকিৎসা করতে খরচ ৩০ লক্ষ টাকা। যা দেওয়ার সামর্থ্য নেই সীমান্ত কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের বাগানপাড়ার এই কৃষক পরিবারের। তাই দেড় মাসের শিশুকন্যাকে বাঁচাতে পঞ্চায়েত থেকে সকলের কাছে সাহায্যের জন্য ঘুরছেন মারণ রোগে আক্রান্ত ওই শিশুর পরিবার। জানা গিয়েছে, হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফো হিস্টিওসাইটোসিস(এইচএলএইচ) একটি বিরল ও মারাত্মক রোগ। এই রোগে শরীরের ইমিউন সিস্টেম অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে রক্ত কোষ ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিকে আক্রমণ করে। এতে লিভার, প্লীহা, হাড়ের মজ্জা, মস্তিষ্ক ও ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 
Advertisement
এই রোগটা জেনেটিক। সাধারণত শিশুদের মধ্যে দেখা যায়। এর পারিবারিক ইতিহাস থাকতে পারে। ক্যান্সার বা রিউমাটোলজিক ডিজিজের কারণে হতে পারে। অনেক দিন ধরে উচ্চ জ্বর এই রোগের লক্ষণ। এতে প্লীহা ও লিভার বড় হয়ে যায়। রক্তে প্লেটলেট, হিমোগ্লোবিন ও শ্বেত কণিকার মাত্রা কমে যায়। শ্বাসকষ্ট ও মস্তিষ্কে প্রদাহ, লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 
জানা গিয়েছে, কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের মাটিয়ারি বার্নপুর পঞ্চায়েতের বাগানপাড়ায় কৃষক মহম্মদ বুলরাজ মণ্ডলের টিন ও টালির চালার বাড়ি রয়েছে। তাঁর নাততি এই বিরল রোগে আক্রান্ত। এই বাড়িতে ঢুকলেই দেখা যায় উঠোনে প্রতিবেশীদের আনাগোনা। এলাকায় একটাই আলোচনা, কীভাবে দেড়মাসের একরত্তি শিশুকন্যাকে বাঁচানো যায়! 
প্রসঙ্গত বছর চারেক আগে বুলরাজ সাহেবের ছেলে সাহিন মণ্ডলের প্রথম শিশুকন্যাও এই বিরল রোগে আক্রান্ত হয়। ওই শিশুকন্যা মাত্র ৭ মাস বেঁচে ছিল। এ প্রসঙ্গে বুলরাজ সাহেব বলেন, আমার ওই নাতনিও এইচএলএইচ রোগে আক্রান্ত ছিল। এখন সাহিনের পরের শিশুকন্যাও এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। আমার ছেলে মাস ছয়েক আগেই সৌদি আরবে কাজে গিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে সে দেশে ফিরে মেয়েকে নিয়ে চেন্নাইয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা জন্য গিয়েছে। আমার নাতনিটা যাতে ভালো হয় তার জন্য সকলের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি। এ বিষয়ে চেন্নাই থেকে সাহিন মণ্ডল বলেন, আমার মেয়ের মারণ রোগ হয়েছে। তার চিকিৎসা অস্থিমজ্জার স্থানান্তরিত হওয়ার মাধ্যমেই সম্ভব। সেজন্য খরচ হবে ৩০ লক্ষ টাকা। কিন্তু আমাদের যেটুকু জমি আছে তাও বিক্রি করেও এই টাকা পাব না। তাই সরকার ও সকলের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি। যাতে আমার মেয়েটাকে বাঁচাতে পারি।› শিশুকন্যার মা পিউ খাতুন বলেন, আমার আগের মেয়ে মারা গিয়েছে। তাই সকলের কাছে মেয়েকে বাঁচানোর জন্য আবেদন জানাচ্ছি। 
শিশুটির পিসি পারমিনা খাতুন বলেন, আমরা প্রথমে কল্যাণী এইমসে চিকিৎসা করাতে যায়। সেখান থেকে কলকাতার হেলথ অব ইন্সটিটিউটে গিয়ে জানতে পারি ভাইঝি মারণ রোগে আক্রান্ত।
মাটিয়ারি-বার্নপুর পঞ্চায়েতের প্রধান বিশ্বজিৎ হালদার বলেন, আমার কাছে ওঁরা বিষয়টি জানিয়েছেন। আমি বিভিন্ন জায়গায় জানানোর চেষ্টা করছি, যাতে শিশুটির চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্য পাওয়া যায়।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ