Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ব্রিটিশ বধ, বিশ্বজয়ী টিম ইন্ডিয়া

বেপরোয়া বৈভবে বিধ্বস্ত ব্রিটিশরা। শুধু বিধ্বস্তই নয়, সূর্যবংশীর তেজে রীতিমতো জ্বলে-পুড়ে খাক ইংল্যান্ড।

ব্রিটিশ বধ, বিশ্বজয়ী টিম ইন্ডিয়া
  • ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

হারারে: বেপরোয়া বৈভবে বিধ্বস্ত ব্রিটিশরা। শুধু বিধ্বস্তই নয়, সূর্যবংশীর তেজে রীতিমতো জ্বলে-পুড়ে খাক ইংল্যান্ড। শুক্রবার যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ১৪ বছর বয়সির অবিশ্বাস্য ইনিংসের সামনে নতজানু দেখাল একদা সাম্রাজ্যবাদের পতাকা ওড়ানো দেশকে। ষষ্ঠবারের জন্য অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের মুহূর্ত এল ১০০ রানে জিতে। টার্গেট আকাশছোঁয়া ৪১২ দেখেই ঘাবড়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত তাদের সংগ্রহ ৩১১। খেতাবি লড়াইয়ে এমন দাপট অভূতপূর্ব ছাড়া আর কী!

Advertisement

৮০ বলে ১৭৫! ১৫টা ছক্কা ও ১৫টা চার। নিছক পরিসংখ্যানে অবশ্য বৈভবের রাজকীয় আগ্রাসনকে ফুটিয়ে তোলা মুশকিল। ইংরেজদের নিয়ে যেন ছেলেখেলা করলেন বছর ১৪’র বিহারবাসী। কপিল দেবের ১৭৫’কে স্পর্শ করার দিনেই ক্রিকেটবিশ্ব সাক্ষী থাকল আগামীর মহাতারকার গনগনে প্রতিভার। অদ্ভুত সমাপতনও থাকল। ইংল্যান্ডের মাটিতে কপিলের অবিশ্বাস্য ইনিংস এসেছিল জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে। বৈভবের কালজয়ী ইনিংসের সঙ্গেও জড়িত এই দুই দেশ। এক্ষেত্রে ভেন্যু জিম্বাবোয়ের রাজধানী হারারে। আর প্রতিপক্ষ ব্রিটিশরা। ভারতীয় ক্রিকেটে ১৭৫ সংখ্যাটা এমনিতেই চিরকালের আবেগের। ওভারের ক্রিকেটে কপিল ছাড়াও সংখ্যাটা জড়িয়ে রয়েছে শচীন তেন্ডুলকর, বীরেন্দ্র সেওয়াগের ধুন্ধুমারের সঙ্গে। এবার সেই আবেগেই বাড়তি রং জুড়ল। বাহারি শটের রংমশালই জ্বালল যে বৈভব!

হারারে স্পোর্টস ক্লাবে ইংরেজরা শুধু কেঁদে-কঁকিয়ে হারলই না, বরং বৈভবের ধুমধাড়াক্কার সামনে হামাগুড়ি দিল। কী সব শট দেখা গেল ব্যাটে! চোখজুড়নো তো বটেই, ভয়ঙ্কর পাওয়ারফুলও তা। বৈভব যেন ছেলেখেলায় মাতল ব্রিটিশ-সিংহকে পোষ মানিয়ে। ৩২ বলে পঞ্চাশ, ৫৫ বলে সেঞ্চুরি, ৭১ বলে দেড়শো। অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে এটাই দ্রুততম দেড়শো। আইসিসি টুর্নামেন্টের ফাইনালেও এত রান কারও নেই। মনে হচ্ছিল, একদা শাসকের বিরুদ্ধে অতীতের অপরাধের শোধবোধই যেন করতে চাইছে একমাথা চুলের টগবগে কিশোর।

সেমি-ফাইনালের শতরানকারী অ্যারন জর্জ (৯) রান পাননি। ক্যাপ্টেন আয়ুষ মাত্রের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৯০ বলে উঠল ১৪২। তাতে বৈভবেরই ৮৭। এরপর তৃতীয় উইকেটে বেদান্ত ত্রিবেদির সঙ্গে ৩৯ বলে এল ৮৯। এরমধ্যে বেদান্ত করেন মাত্র ১০। বৈভবের অবদান ৭৮। ২৫.৩ ওভারে বৈভব ফেরার সময় স্কোর ২৫১-৩। সেখান থেকে দলের রান চারশো পার করেন অভিজ্ঞান (৪০), কণিষ্করা (অপরাজিত ৩৭)।

প্রায় অসম্ভব দেখানো টার্গেটের বিরুদ্ধেও ইংল্যান্ড শুরুটা খারাপ করেনি। তাদের একশো আসে ৮২ বলে। ২০.৪ ওভারে আয়ুষের বলে বেন ডকিংস ফিরতেই নামে ধস। ১৪২-৩ থেকে মুহূর্তে ১৭৭-৭ হয়ে পড়ে তারা। ওখানেই চুরমার ইংরেজদের জেতার আশা। ক্যালেব ফ্যালকোনার অবশ্য একক লড়াই চালান। ৬৩ বলে শতরানও পূর্ণ করেন। তবে তা জেতানোর পক্ষে যথেষ্ট ছিল না। ইংল্যান্ড যে আগেই বৈভব-ঝড়ে নাস্তানাবুদ! দুরন্ত এই জয়ে গোটা দলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংক্ষিপ্ত স্কোর: ভারত ৪১১-৯ (বৈভব ১৭৫, আয়ুশ ৫৩, অভিজ্ঞান ৪০, জেমস ৩-৬৩)। ইংল্যান্ড ৪০.২ ওভারে ৩১১ (ফ্যালকোনার ১১৫, ডকিন্স ৬৬, অম্বরীশ ৩-৫৬, কনিষ্ক ২-৬৩, দীপেশ ২-৬৪)।

 ভারত ১০০ রানে জয়ী।

 ম্যাচ ও টুর্নামেন্টের সেরা বৈভব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ