সংবাদদাতা, কান্দি: ৯০ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েই এবার মাধ্যমিক দিচ্ছে খড়গ্রামের ঝিল্লির বৃষ্টি মাল। প্রায় একই প্রতিবন্ধকতা নিয়ে সামনের বছরের জন্য মাধ্যমিকের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভাই অজিত। পরিবারের কর্তা কার্যত উপার্জনের ক্ষমতা হারিয়েছেন। স্ত্রী কোনোমতে হাটে মাছ বিক্রি করে সংসার টানছেন। এছাড়া রাজ্য সরকারের দেওয়া তিনজনের ভাতার টাকা পরিবারের মূল উপার্জন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঝিল্লি গ্রামের মালপাড়ার বাসিন্দা ওই ছাত্রী। ৯০ শতাংশ প্রতিবন্ধী শংসাপত্র রয়েছে তার। সে এবছর গ্রামের ঝিল্লি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক দিচ্ছে। বৃষ্টির পরীক্ষাকেন্দ্র শেরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। তবে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য রাইটার দেওয়া হয়েছে বৃষ্টিকে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, জন্মের ছ’মাসের মাথায় ওই ছাত্রীর অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠান হয়। সেই সময় মাথার চুল কেটে ন্যাড়া হয়েছিল বৃষ্টি। আর তারপরেই শরীরে কোনো এক বিরল রোগ ধরা পড়ে বৃষ্টির। এই বয়সেও মেয়ের মাথায় পরিষ্কার চুল বের হয়নি। বৃষ্টি চোখে কম দেখে, কানেও শোনে কম, কথাও ঠিকমতো বলতে পারে না। হাত পা ও ঠিকমতো কাজ করে না। পরিবার থেকে সাধ্যমতো ডাক্তারও দেখান হয়েছে।
ছাত্রীর মা সবিতা মালের কথায়, মেয়ে কিছুই করতে পারে না। ওকে খাইয়ে দেওয়া থেকে জামা পরিয়ে দেওয়া সবকিছুই আমাকে করতে হয়। লেখাপড়ার ঝোঁক থাকলেও ঠিকমতো পড়তেও পারে না। খুব কষ্ট করে ওকে মাধ্যমিকে বসানো গিয়েছে।
এদিকে ওই ছাত্রীর ভাই অজিত মালও একই রোগে ভূক্তভোগী। সেও দিদির মতো জন্মের সাতমাস পর একই রোগের শিকার। দিদির মতো ভাইও কথা বলতে পারে না। কানেও কম শোনে, হাঁটাচলাও তেমন করতে পারে না। তবে এবছর সে ঝিল্লি উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে উঠেছে। সামনের বছরও সেও মাধ্যমিক দেবে বলে প্রস্তুতি শুরু করেছে। সবিতা দেবী বলেন, ছেলে ও মেয়ে কাউকেই প্রাইভেট টিউশন দিতে পারিনি। স্বল্প রোজগার। তার উপর ওদের কেউ পড়াতেও চায় না। শুধু গ্রামের দু’জন একটু করে দেখিয়ে দেন।
পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পরিবারের কর্তা অসিত মাল অনিয়মিত দিনমজুরের কাজ করেন। শরীরে কাজ করার ক্ষমতা নেই বলেই পরিবারের দাবি। সবিতা দেবী সপ্তাহে একদিন গ্রামের হাটে মাছ বিক্রি করেন। তবে পরিবারটি বাংলার বাড়ি পেয়েছে। যদিও সেটি অসমাপ্ত অবস্থায় রয়েছে। বাড়ির প্লাস্টার এখনও হয়নি। তবে রাজ্য সরকারের দেওয়া তিনজনের ভাতার টাকাই পরিবারের প্রধান উপার্জন। বৃষ্টি ও অজিতের বাবা অসিত মালের কথায়, আর খাটতে পারি না। তবে ছেলে ও মেয়ে দু’জনেই রাজ্য সরকারের মানবিক ভাতা পাচ্ছে। স্ত্রীও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পায়। সরকারের এসব ভাতা না পেলে সংসার যে কী করে চলত, ভেবে পাই না। বৃষ্টি মাল। -নিজস্ব চিত্র