Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘আমার সন্তানকে এনে দিন’, কোর্টে আর্জি ধর্ষণের শিকার কুমারী মায়ের

‘হুজুর আমার সন্তানকে এনে দিন’—আদালতে করুণ আর্তি কুমারী মায়ের

‘আমার সন্তানকে এনে দিন’, কোর্টে আর্জি ধর্ষণের শিকার কুমারী মায়ের
  • ১২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বনগাঁ: ‘হুজুর আমার সন্তানকে এনে দিন’—আদালতে করুণ আর্তি কুমারী মায়ের। তার প্রেক্ষিতে আদালত জানতে চায়, সন্তানের পরিচয় কী হবে? উত্তরে আদালতে দাঁড়িয়ে বিচারকের সামনে ওই মা বলেন, ‘আমার পরিচয় নিয়েই সমাজে বড় হবে সন্তান। আমি কুমারী মা (সিঙ্গল মাদার) হয়ে থাকতে চাই।’ এক নাবালিকাকে ধর্ষণের মামলায় বুধবার নির্যাতিতার (বর্তমানে ১৮ বছর হয়েছে) সাক্ষ্যগ্রহণে এমনই এক ঘটনার সাক্ষী থাকল বনগাঁ বিশেষ পকসো আদালত।

Advertisement

২০২৩ সালে দশমীর দিনের ঘটনা। গাইঘাটা থানায় ঠাকুরনগরের বাসিন্দা অমিত বিশ্বাস তার পূর্বপরিচিত এক নাবালিকাকে তার বাড়িতে ডেকে নেয়। মেয়েটির বাড়ি কলকাতায় আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা এলাকায়। সেইসময় অমিতের বাড়িতে কেউ ছিল না। সেই সুযোগে মেয়েটিকে অমিত ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই পেটে ব্যথা নিয়ে কলকাতার এক সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মেয়েটি। পরদিন শৌচাগারে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন তিনি। এই ব্যাপারে হাসপাতালের অভিযোগ পেয়ে পুলিস একটি ‘জিরো এফআইআর’ করে। তদন্তের ভার পড়ে বনগাঁ মহিলা থানার উপর। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে এখন বিচার বিভাগীয় হেফাজতে। 
মায়ের সম্মতি নিয়ে বাচ্চাটি প্রথমে কলকাতার একটি হোমে রাখা হয়। কিন্তু ১১ দিন পর সন্তানকে কাছে পাওয়ার আর্জি জানান তিনি। কিন্তু হোম কর্তৃপক্ষ তাঁর কাছে বাচ্চাকে দেয়নি। এই ঘটনার সাক্ষ্য দিতেই বুধবার ওই মা বনগাঁ আদালতে আসেন। বিশেষ পকসো আদালতের বিচারক কল্লোল দাসের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আবেদন জানান তিনি। 
আদালতে দাঁড়িয়ে শিশুটির মা বলেন, ‘আমি সেইসময় চাপে পড়ে সন্তানকে হোমে রাখতে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু এখন সন্তানকে ফিরে পেতে চাই। নিজের পরিচয়েই ওকে মানুষ করব।’ 
পকসো আদালতের বিশেষ সরকারি আইনজীবী সমীর দাস বলেন, ‘নির্যাতিতা তাঁর সন্তানকে ফিরে পেতে চান। বিচারকের সামনে একথা জানিয়েছেন তিনি। কুমারী মা হিসেবেই সন্তানকে তিনি বড় করতে চান।’ 
যদিও এই নির্যাতিতার শিশুসন্তানের খোঁজ পাওয়া যায়নি! এই বিষয়ে সমীরবাবু বলেন, ‘ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আদালত আগেও শিশুটিকে হাজির করতে বলেছিল। কিন্তু পুলিস তার খোঁজ পায়নি। তাই হোম কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে আদালত।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ