নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাতে আর একেবারেই সময় নেই। পুজোর বাজার করার জন্য আর অপেক্ষা সম্ভব নয়। কারণ হাতে পড়ে রইল মাত্র দু’টি রবিবার। এর মধ্যে আশঙ্কা, কখন আবার বৃষ্টি চলে আসে, কখন আবার নিম্নচাপ শুরু হয়ে যায়, তখন সব প্ল্যান যায় ভেস্তে। এমন ভয় থেকেই রবিবার পুজোর বাজার করতে রাস্তা ভরিয়ে ফেলল মানুষ।
রবিবার বৃষ্টিমুক্ত দিনে উত্তর থেকে দক্ষিণ সর্বত্র ঝলমলে রোদ। দুপুর থেকেই রাস্তায় ঢল বাঙালির। কোন দিন কোন জামা পরা হবে, সেই তালিকা হাতে তরুণীদের ঘুরতে দেখা গেল গড়িয়াহাট বাজারে। দোকানদাররা বললেন, ‘কলেজের মেয়েরা এখন ইন্টারনেট ঘেঁটে পছন্দ করে জামা-কাপড়ের ছবি নিয়ে আসে। তা দেখিয়ে বলে, এরকম ড্রেসই দরকার। তা পেলে তো ভালো, না হলেই আর বিক্রি নেই।’ শুধু যে তরুণ-তরুণীরা একা আসছেন তা নয়, বাঙালির সেই চিরাচরিত ছবিও চোখে পড়েছে। মা-বাবার হাত ধরে ছেলে-মেয়েদের দেখা গিয়েছে বাজার করতে। শাড়ির দোকানের বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে বিরক্তি প্রকাশ করলেন বাবারা। তাঁরা বললেন, ‘এটা তো ফি বছরের যন্ত্রণা। কিছু করার নেই। বিরক্তি লাগে ঠিকই। কিন্তু কি বা করার আছে বলুন। বাড়িতে তো থাকতে হবে।’
গড়িয়াহাটের মতোই একই দৃশ্য নিউ মার্কেট কিংবা হাতিবাগানে। রবিবাসরীয় বাজারে নিউ মার্কেটে উপচে পড়া ভিড়। ঘেমে নেয়ে পুজোর বাজার করেছে মানুষ। কিন্তু তাতেও ক্লান্তির কোনো চিহ্ন চেহারায় ফুটে ওঠেনি। শুধু কি কলকাতা, আশপাশের জেলা থেকেও বাজার করতে চলে এসেছিলেন অনেকে। চুঁচুড়া থেকে জামা-কাপড় কিনতে আসেন একদল তরুণ-তরুণী। তাঁরা বললেন, ‘রবিবার তো ভিড় হবেই। আমরা তা জেনেই তো এসেছি। গরমে তো কষ্ট হবেই, কিন্তু পুজোর বাজার না করলে কি চলবে?’
শুধু জামা-কাপড় কেনা নয়, পুজোর আগে হেয়ার স্টাইল কিংবা মেকওভারেরও ঝোঁক যায় বেড়ে। তাই সকাল থেকেই সালোঁ কিংবা বিউটি পার্লারে ভিড় চোখে পড়ল রবিবার। পুজোর সময় নিজেকে সেরা দেখানোর জন্য বাঙালি এতটুকু খামতি রাখতে চায় না। ভবানীপুরের একটি সালোঁতে আসা এক তরুণীর কথায়, ‘শুধু ভালো দেখতে হলে তো হবে না, যাতে ছবি ভালো ওঠে সেদিকটাও দেখতে হবে।’ ফলত ফ্যাশনের সঙ্গে হেয়ার স্টাইল –মেকওভারটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘এমনিতেই হাতে আর সময় নেই। তাই এখনই সব দ্রুত শেষ করে ফেলতে হবে,’ রবিবার সমস্বরে এ কথাই বলে গেল কলকাতা।