নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: আলোর উৎসব দীপাবলি। কয়েক বছর আগেও চীনা আলোর দাপটে অস্তিত্ব হারাতে বসেছিল গ্রামবাংলার চিরাচরিত মাটির প্রদীপ। রকমারি চীনা আলোর রমরমা ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু প্রদীপের আলোতে উৎসবের সার্থকতা রয়েছে, এমনটাই মনে করেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। ইদানীং শহরে বিভিন্ন সাইজের মাটির প্রদীপের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে মোম ও সলতে দেওয়া রেডিমেড মাটির প্রদীপের বিক্রি এখন তুঙ্গে। দীপাবলির আগে প্রদীপ তৈরির সেই ব্যস্ততা দেখা গেল উত্তর হাওড়ার ফকিরবাগানের কুম্ভকার পাড়ায়। গত বছরের তুলনায় এবার বরাত বেশি এসেছে বলে জানালেন কারিগররা।
বেশ কয়েক প্রজন্ম আগে ফকিরবাগান এলাকায় এসে বসতি গড়েছিলেন বিহারের কুম্ভকার শ্রেণির মানুষজন। বংশানুক্রমে আজও সেখানকার কয়েকশো পরিবার মাটির প্রদীপ তৈরি করে আসছে। যদিও বছরভর তাঁরা চায়ের ভাঁড়, মিষ্টি ও দইয়ের ভাঁড় তৈরি করেই সালকিয়া, বড়বাজার, রাজাবাজার সহ শহরতলির বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সরবরাহ করেন। কিন্তু এলইডি’র রমরমার বাজারেও গত দু’-তিন বছরে মাটির প্রদীপ তৈরি করে বাড়তি লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন তাঁরা। সে কারণে কালীপুজোর আগে ফকিরবাগানের কুম্ভকার পরিবারগুলির খুদে সদস্যরাও মাটির প্রদীপ তৈরির কাজে লেগে পড়ে। এদিন দুপুরে সেখানে গিয়ে দেখা গেল, রোদে সারি সারি শুকোতে দেওয়া রয়েছে বিভিন্ন সাইজের প্রদীপ। বড় প্রদীপগুলিতে তুলির টানে রং চড়াচ্ছে ছোট ছোট শিশুরা। বিমল প্রজাপতি নামের এক কারিগর বলেন, ‘এবার প্রায় কুড়ি হাজার মাটির প্রদীপ তৈরি করছি। গত কয়েক বছর ধরে পাইকারি মার্কেট থেকে বড় অর্ডার আসছে। এবছর সব ঘরেই বরাত বেশি।’
মাটির প্রদীপ তৈরির কাঁচামাল অর্থাৎ ভালো মানের মাটি, কয়লা, কাঠের গুঁড়ো, ছাঁচের দাম আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। ডায়মন্ডহারবার থেকে এক ট্রাক মাটি নিয়ে আসতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা করে খরচ পড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় প্রদীপের দাম একই রয়েছে বলে আক্ষেপ কারিগরদের একাংশের। ছেদিলাল প্রজাপতি নামের এক অশীতিপর কারিগর বলেন, ‘যতই লাল-নীল লাইট আসুক, আলোর উৎসব মাটির প্রদীপ ছাড়া অসম্পূর্ণ।’ ১ টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত ছোট-বড় বিভিন্ন সাইজের প্রদীপ পাইকারি বাজারে বিক্রি করছেন এখানকার কারিগররা। তবে ইদানীং সলতে ও মোম দেওয়া রেডিমেড মাটির প্রদীপের চাহিদাই সবথেকে বেশি। বিভিন্ন সাইজের বাক্সে বিক্রি হয় এইসব প্রদীপ। ক্রেতাদের মন কাড়তে ছোট ছোট প্রদীপেও রয়েছে রং-বেরঙের ডিজাইন। নিজস্ব চিত্র