Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পানার চাপে ভাঙতে পারে সেতু, নদীগুলিকে কচুরিপানা মুক্ত করতে যন্ত্র কিনছে হুগলি জেলা পরিষদ

সঙ্কটের নাম কচুরিপানা। নদী ঘেরা হুগলিতে কচুরিপানার ঝাড় বিপাকে ফেলছে সেতুগুলিকে

পানার চাপে ভাঙতে পারে সেতু, নদীগুলিকে কচুরিপানা মুক্ত করতে যন্ত্র কিনছে হুগলি জেলা পরিষদ
  • ২৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: সঙ্কটের নাম কচুরিপানা। নদী ঘেরা হুগলিতে কচুরিপানার ঝাড় বিপাকে ফেলছে সেতুগুলিকে। জলজ জীব এবং জলপথ পরিবহণে তৈরি করছে প্রবল সঙ্কট। সমস্যা সমাধানে কচুরিপানা সাফ করার বিশেষ যন্ত্র কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে হুগলি জেলা পরিষদ। পাশাপাশি কেটে ফেলার পর সংগ্রহ করা কচুরিপানা অর্থকরী কাজে ব্যবহারের উদ্যোগও নিতে উদ্যোগ নিয়েছেন পরিষদ কর্তারা। এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। টেন্ডার ডেকে যন্ত্র কিনতে শুরু হয়েছে তৎপরতা।

Advertisement

খালগুলিতেই মূলত কচুরিপানার জন্ম হয়। এ সমস্ত খাল হুগলির মুণ্ডেশ্বরী, দ্বারকেশ্বর, দামোদরের মতো মুখ্য নদ-নদীগুলির সঙ্গে যুক্ত। ফলে সহজেই কচুরিপানা নদীতে চলে আসে। এই আগাছা খুব তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি পায়। ফলে নদীর বা জলাশয়ের বড় অংশ দ্রুত দখল করে ফেলে। জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পানা নদীবাঁধের বিভিন্ন জায়গায় জমাট বেঁধে থাকার কারণে স্রোতের গতিপথ বদলে যায়। বাঁধের নীচের অংশে তৈরি হয় বিপুল চাপ। ফলে স্থায়ী এবং অস্থায়ী বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিষদের আধিকারিকরা বলেন, ‘একই পরিস্থিতি হয়েছিল বাংলাদেশের ঝিনাই নদীতে। ২০২৪ সালে কচুরিপানার কারণে ভেঙে পড়েছিল সেখানকার বাঁধ। হুগলিতে সেরকম কোনও বিপর্যয় আটকাতে নেওয়া হয়েছে উদ্যোগ।’ হুগলি জেলা পরিষদের সেচ কর্মাধ্যক্ষ মদনমোহন কোলে বলেন, ‘সেচদপ্তরের বাস্তুকাররা পরিস্থিতি দেখে গিয়েছেন। তারপর আমরা আধুনিক যন্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কচুরিপানার জন্য জলপথ পরিবহণও সঙ্কটে। জলজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ জেলা পরিষদের মেন্টর সুবীর মুখোপাধ্যায় ও সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া বলেন, ‘উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে সেচ স্থায়ী সমিতি। পরিকল্পনা রূপায়ণে জেলা পরিষদ সর্বোতভাবে কাজ করবে।’ পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই জাপান ও জার্মানি সহ একাধিক সংস্থার তৈরি কচুরিপানা সাফাই মেশিন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেগুলির দাম খুব বেশি। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত টেন্ডার ডেকে পরিস্থিতি যাচাই করে নিতে চাইছেন আধিকারিকরা। পাশাপাশি সিদ্ধান্ত হয়েছে, কচুরিপানা কাটার পর তা দিয়ে বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করা হবে। সংগৃহীত কচুরিপানা থেকে সার ও হস্তশিল্প তৈরি করা হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ