নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। জয়দেবে অজয় নদের উপর সেতুর উদ্বোধন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। সব কিছু পরিকল্পনা মাফিক চললে জুন মাসেই মুখ্যমন্ত্রী জেলা সফরে আসবেন। তখনই তিনি এই সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। স্থানীয়দের দাবি মেনে বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমানের দুই খ্যাতনামা সাধক শিল্পী কবি জয়দেব ও নীলকণ্ঠ মুখোপাধ্যায়ের নাম অনুসারে সেতু নাম ‘জয়দেব-নীলকণ্ঠ সেতু’ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শুধু সেতুর উদ্বোধন নয়, পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক অফিস ও আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেট ভবনের উদ্বোধনও হতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে।
দীর্ঘদিন পর মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফর প্রায় চূড়ান্ত। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত জেলা প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা। বুধবার ছিল ডিস্ট্রিক্ট লেভেল মনিটরিং কমিটির বৈঠক। তৎপর্যপূর্ণ ভাবে কয়েক ঘণ্টা চলে বৈঠক। সেখানে শেষ তিন বছরে জেলায় কী কী উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে তাঁর তালিকা প্রস্তুত করা হয়। নতুন কী কী কাজের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা সম্ভব, তার তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। যে প্রকল্পগুলির কাজ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করে দেওয়া সম্ভব সেগুলির গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই মুখ্যমন্ত্রী জেলা সফরে আসতে পারেন। যদিও জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি নিশ্চিত হওয়ার পরই কিছু বলতে পারব।
উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ইলামবাজার সেতু। বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমানের সংযোগকারী আরও একটি সেতুর দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। কারণ এই দু’টি জেলায় অজয় নদের উপর সেতু হলে শুধু দু’টি জেলাকে সংযুক্ত করবে না, উত্তরবঙ্গের সবক’টি জেলার সঙ্গে পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুরকেও সংযুক্ত করবে। এমনকী এই রুট দিয়ে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণ ভারত পর্যন্ত গাড়ি চলাচল করে। বাংলা সাহিত্যে কবি জয়দেবের গুরুত্ব অপরিসীম। গীত গোবিন্দমের রচয়িতা কবির জন্মভিটেতে প্রতি বছর মকরসংক্রান্তিতে লক্ষ লোকের সমাগম হয়। দীর্ঘকাল ধরে এখানে অস্থায়ী বাঁশের সাঁকোই নদী পারাপারে ভরসা। বর্ষায় তা ভেঙে পড়ে। এই সমস্যা মেটাতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জয়দেবের সঙ্গে পশ্চিম বর্ধমানের সংযোগকারী সেতু তৈরির ঘোষণা করেন। কয়েকশো কোটি টাকা দিয়ে বহু জটিলতা কাটিয়ে সেতু নির্মাণ হয়েছে। এবার সেতুর নামকরণের পালা। কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানী ভট্টাচার্য বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেতুর নাম প্রস্তাব হিসেবে চাওয়া হয়েছিল। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে অজয়ের দুই পারের দুই শ্রেষ্ঠ শিল্পী কবি জয়দেব ও নীলকণ্ঠ মুখোপাধ্যায়ের নাম অনুসারে সেতুর নামের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।