সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বাম পায়ের সঙ্গে যুক্ত প্রায় আট কেজি ওজনের টিউমার। প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার লম্বা। এমন অবস্থায় অস্বস্তিতে বাড়ি থেকে বেরতে পারতেন না মুর্শিদাবাদের উত্তর গোপীনাথপুর গ্রামের বছর চল্লিশের মেহেরবানু বিবি। অস্ত্রোপচার করতে চাইলেও মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল থেকে ফিরতে হয় তাঁকে। বৃহস্পতিবার রামপুরহাট মেডিক্যালেই ‘সিটিভিএস’ সার্জেন ছাড়াই সেই বিরাট টিউমারের সফল অস্ত্রোপচার করলেন চিকিৎসকরা।
পায়ে ডাম্বেল আকৃতির টিউমার নিয়ে জীবনযাপনে খুব অসুবিধে হতো মেহেরবানুর। ক্রমশ টিউমারটি আকারে বৃদ্ধি পাচ্ছিল। সন্তানরাও সেভাবে দেখছিলেন না। আত্মীয়স্বজনরা তাঁকে নিয়ে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালের চিকিৎসকদের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু কেউই অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি নিতে চাননি বলে দাবি তাঁর।
সম্প্রতি রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজের আউটডোরে শল্য বিভাগের চিকিৎসক সৌরভ মাজিকে দেখাতে আসেন ওই বধূ। তিনি দেখে জানিয়ে দেন, দ্রুত অপারেশন করতে হবে। নইলে ক্যান্সার আক্রান্ত হতে পারে। তখন পা কেটে বাদ দেওয়া ছাড়া কোনও উপায় থাকবে না। এরপরই চিকিৎসক টিউমারটির অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই মতো বৃহস্পতিবার দুপুরে সফল অস্ত্রোপচার করা হয়। সৌরভ মাজি সহ শল্য বিভাগের দুই চিকিৎসক আবরে এলাহি, অমিভাত দত্ত, দুই হাউস স্টাফ আমির সিদ্দিকীল, কবির শেখ সহযোগী হিসেবে ছিলেন। এ ছাড়া অ্যানাস্থেটিস্ট ছিলেন রাজকুমার মণ্ডল।
সৌরভ বলেন, এই ধরনের টিউমার খুব তাড়াতাড়ি ক্যান্সারে পরিণত হয়। দশ বছর ধরে এই টিউমার নিয়ে অসুবিধায় ভুগছিলেন ওই মহিলা। হাতির পায়ের মতো হয়ে গিয়েছিল। তিনি জানান, অস্ত্রোপচার করা নিয়ে আমরা চিন্তায় ছিলাম। কারণ, প্রধান শিরা, ধমনী, নার্ভ, আর্টারি ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেক্ষেত্রে পা অকেজো হয়ে যায়। এসব অপারেশনের ক্ষেত্রে কার্ডিওথোরাসিক ভাস্কুলার সার্জন (সিটিভিএস) অবশ্যই লাগে। কিন্তু রামপুরহাট মেডিক্যালে সিটিভিস সার্জেন নেই। বাধ্য হয়ে রোগীর অবস্থা দেখে অন্য সহকারী চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরাই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিই। ফলে এক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার করা ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। অবশেষে এমন কঠিন অস্ত্রোপচার করে সাফল্য পেয়ে চিকিৎসকরা খুশি।
জানা গিয়েছে, কোনও বেসরকারি হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচার করতে এক লক্ষ টাকার কাছাকাছি খরচ হোত। সেখানে সরকারি মেডিক্যাল কলেজে নিখরচায় চিকিৎসা পরিষেবা পেয়ে খুশি মেহেরবানুর আত্মীয়রা। চিকিৎসকরা বলেন, খুব শীঘ্রই স্বাভাবিক জীবন ফিরতে পারবেন ওই মহিলা।