নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল শ্বশুরের বিরুদ্ধে। গুণধর শ্বশুরকে সোমবার গ্রেফতার করেছে পার্ক স্ট্রিট থানা। মঙ্গলবার ধৃতকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তাঁকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ইতিমধ্যে অভিযোগকারিণী গৃহবধূ ব্যাঙ্কশাল কোর্টের একজন বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের (জেএম) কাছে গোপন জবানবন্দি পেশ করেছেন। প্রাথমিকভাবে তাঁর মেডিকেল পরীক্ষাও করানো হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর মেডিকো লিগ্যালও হওয়ার কথা।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি অভিযোগকারিণী গৃহবধূ পার্ক স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ৬৮ বছর বয়সি ব্যবসায়ী শ্বশুরের বিরুদ্ধে। গৃহবধূর অভিযোগ, কিছুদিন আগে এক রাতে স্বামীর অনুপস্থিতিতে তাঁর শ্বশুর ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করে। তিনি চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করতেই শ্বশুর তাঁর ঘর থেকে দ্রুত বের হয়ে যান। এদিন আদালতে মামলাটি উঠলে সরকারি কৌঁসুলি রাধানাথ রং ধৃতের জামিনের জোরালো আপত্তি জানান। তিনি তাঁর সওয়ালে বলেন, অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাই এই ক্ষেত্রে তদন্তের স্বার্থে ধৃতকে হেপাজতে নিয়ে জেরা করার দরকার আছে। সরকারি কৌঁসুলি বলেন, ধৃত শ্বশুরের বিরুদ্ধে নির্যাতনেরও অভিযোগ রয়েছে। তাই সেই বিষয়টিও পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে দেখছে। এই অবস্থায় তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত জামিন পেলে মামলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অভিযুক্ত মামলাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাতে পারেন। তাই ধৃতের জামিন বাতিল করা হোক।
অন্যদিকে, এদিন আদালতে ধৃতের দুই কৌঁসুলি অরুণকুমার ভকত ও স্বাগত বিশ্বাসের অভিযোগ, এটি একটি সম্পূর্ণ পারিবারিক গন্ডগোল। তা থেকেই বিষয়টি অন্যদিকে ‘মুখ’ ঘোরাতেই আমাদের মক্কেলের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের। ওই আইনজীবীদের আরও অভিযোগ, ঘটনার দীর্ঘ সময় পরে কেন ওই গৃহবধূ পুলিশে অভিযোগ করলেন, সেটাই আমাদের কাছে সব থেকে আশ্চর্য লাগছে। আমাদের মক্কেলকে অহেতুক মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমবা চাই, আসল সত্য সামনে আসুক। তাই যে কোনও শর্তে আমাদের মক্কেলকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হোক। তিনি তদন্তে সবরকমভাবে পুলিশকে সহযোগিতা করবেন। আর তা ছাড়া জামিন পেলেও তো তদন্ত চলতেই পারে। তাই সে ক্ষেত্রে জামিন পেতে অসুবিধা কোথায়? বিচারক মামলার নথিপত্র ও কেস‑ডায়েরি খতিয়ে দেখে ধৃতের জামিনের আর্জি নাকচ করে দেন।