সংবাদদাতা, বহরমপুর: রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ মা-মেয়ের ফোনে কথা হয়। তার এক ঘণ্টা পরেই মেয়ের মৃত্যুর খবর আসে। বৃহস্পতিবার রাতে বহরমপুর থানার কান্তনগর কালভার্ট এলাকার ওই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম পম্পা ঘোষ(৩১)। ঘটনায় তাঁর বাপেরবাড়ির লোকজন চারজনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিস অভিযোগের ভিত্তিতে মৃতার স্বামী সেন্টু ঘোষ ও সৎ ছেলে ভিকি ঘোষকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৬ বছর আগে সেন্টুর প্রথম পক্ষের স্ত্রী ছেলেকে স্বামীর কাছে রেখে অন্যজনের সঙ্গে পালিয়ে যায়। প্রায় ১৪ বছর আগে সেন্টু খড়গ্রাম থানার নগরের বাসিন্দা পম্পাকে বিয়ে করে। পম্পার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বছর বাইশের ভিকি প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে সৎ মাকে মারধর করত। ছেলেকে সমর্থন করত সেন্টু। মৃতার বাপেরবাড়ির লোকজনের অভিযোগ, স্বামী ও সৎ ছেলে দীর্ঘদিন ধরে পম্পার উপর নির্যাতন চালাত। পরিকল্পিতভাবে তাঁকে খুন করে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছে।
মৃতার মা কল্পনা ঘোষ বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ মেয়ের সঙ্গে আমার ফোনে কথা হয়। আমাকে বলল, ও লুচি তরকারি করেছে। মেয়েকে টিউশনি থেকে আনতে যাবে বলছিল। তখন মেয়ের কথা শুনে কিছুই অস্বাভাবিক লাগেনি। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ জামাইয়ের ভাগ্নি আমাদের ফোন করে জানায়, পম্পা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে। তখনই আমাদের সন্দেহ হয়।
বাপেরবাড়ির লোকজনের দাবি, তাঁরা মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসে জানতে পারেন মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকালে বহরমপুর থানায় খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন পম্পাদেবীর বাবা মিহির ঘোষ। মৃতার দাদা সাক্ষীগোপাল ঘোষ বলেন, বোন দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার সহ্য করে বেঁচে ছিল। কোনওদিন প্রতিবাদ করেনি। আমার বোনকে ওরা শেষমেশ পরিকল্পিতভাবে প্রাণে মেরে ফেলল। দোষীদের শাস্তি চাই।