নয়াদিল্লি: আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ব্রিকস গোষ্ঠীর শীর্ষ সম্মেলন। ১২-১৩ সেপ্টেম্বর, দু’দিনের সেই সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে আসতে পারেন চীন, রাশিয়া ও ইরান সহ ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির শীর্ষ নেতৃত্ব। তার ফাঁকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে বলে সরকারি সূত্রে খবর। ভারতে আসতে পারেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে এবারের ব্রিকস সম্মেলন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই গোষ্ঠীর দুই নতুন সদস্য ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে চলতি যুদ্ধের কারণে মতবিরোধ তুঙ্গে। যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে উদ্ভূত সংকট নিরসনে এবারের সম্মেলন কতটা কার্যকরী হয়ে উঠতে পারে, সেই দিকে নজর থাকছে কূটনৈতিক মহলের।
২০১৯ সালের অক্টোবরের পর এটাই হতে চলেছে চীনা প্রেসিডেন্ট জিনপিং দ্বিতীয় ভারত সফর। সেবার তামিলনাড়ুর মামাল্লাপুরমে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল তাঁর। কিন্তু এর মাস ছ’য়েক পরেই লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর দুই দেশের সেনার সংঘর্ষের জেরে ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকে। সেই সূত্রে সাত বছর পর চীনা প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য এই সফর ঘিরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। গত সাত বছরে বিদেশের মাটিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁর দু’বার সাক্ষাৎ হয়েছে। লাদাখ সংঘর্ষের পর সেনা স্তরে দীর্ঘ আলোচনায় মতান্তর কাটিয়ে ওঠার পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার কাজানে মোদি-জিনপিং বৈঠক হয়েছিল। গত বছর আগস্টে তিয়ানজিনে এসসিও সম্মেলন উপলক্ষ্যেও কথা হয়েছিল দুই নেতার।
ভারত-ইরান সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এই সম্মেলন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। ইরানের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জেরে ২০১৯ সাল থেকে তেহরানের কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ রেখেছিল নয়াদিল্লি। তবে বর্তমানে সেই নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় মিলেছে। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকটের ধাক্কা এসে পড়েছে ভারতেও। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন সম্মেলনে ইরানের অংশগ্রহণ ভারতের জ্বালানি ক্ষেত্রে কোনো সুরাহা আনতে পারে কি না, নজর থাকবে সেদিকেও।