মেলবোর্ন: ন’বছর বয়সেই মনের গভীরে আঁকা হয়েছিল ঘণ্টায় ১৬০ কিমি গতিতে বল করার স্বপ্ন। বাকি জীবন সেই স্বপ্নই তাড়া করেছেন ব্রেট লি। উইকেট পাওয়া নয়, বিশ্বসেরাদের স্টাম্প ছিটকে দেওয়াও নয়, ওই গতি স্পর্শ করাই ছিল তাঁর পাখির চোখ। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের হল অব ফেম-এ অন্তর্ভুক্ত হওয়া ডানহাতি পেসার দু’বার পৌঁছনও সেই লক্ষ্যে। প্রথমবার ২০০৩ ওডিআই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। সেবার শ্রীলঙ্কার ব্যাটার মারভান আটাপাত্তুকে আউট করেছিলেন ঘণ্টায় ১৬০.১ কিমি গতির ডেলিভারিতে। এরপর ২০০৫ সালের ৫ মার্চ নেপিয়ারে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘণ্টায় ১৬০.৮ কিমি গতির ঝলকে দ্রুততম ডেলিভারির রেকর্ড গড়েন তিনি।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ওয়েবসাইটে ব্রেট বলেছেন, ‘ছোট থেকেই বিদ্যুৎবেগে বল করার স্বপ্ন দেখতাম। সত্যি বলতে কী, আমার কাছে ঘণ্টায় ১৬০ কিমি গতি ছিল উইকেট নেওয়ার চেয়েও বেশি তৃপ্তির। তবে দলই সবার আগে। ২০০৩ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া, টানা ১৬টি টেস্ট ম্যাচ জেতা চিরদিন মনে রাখার মতো। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে উইকেট নেওয়াটা তত আনন্দদায়ক ছিল না। বরং ঘণ্টায় ১৬০ কিমির উপর বল করা স্বপ্নের মতো মনে হত।’ কেরিয়ারের তেমন দু’টি মুহূর্ত সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য, ‘প্রথমবার ঘণ্টায় ১৬০ কিমি টপকানোর সময় আমরা চাপে ছিলাম। সেরাটা নিংড়ে দেওয়া জরুরি ছিল। যতটা সম্ভব জোরে বল করেছিলাম। স্কোরবোর্ডের দিকে তাকিয়ে দেখি আমি ঘণ্টায় ১৬০ কিমির চেয়ে জোরে বল করেছি। পরেরবার যখন তা করি তখন নিজেকে সবচেয়ে বেশি ফিট লাগছিল। নেপিয়ারে ওই কীর্তির আগে দীর্ঘ ১৮ মাস আমি টেস্ট টিমের বাইরে ছিলাম।’
লম্বা কেরিয়ারে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোট ৭১৮ উইকেট নিয়েছেন ব্রেট লি। সাফল্যের নেপথ্য কারণ কী? তাঁর ব্যাখ্যা, ‘আমার রান-আপই ছিল সবচেয়ে বড় সম্পদ। পা শক্তিশালী ছিল, যা জন্মগতভাবেই এসেছে। এজন্যই জোরে বল করতে পেরেছি। পাশাপাশি বাঁ-হাত দ্রুত নামার ফলে ডান হাত থেকে চকিতে বেরত বল।’