নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: প্রাতরাশের মেনুতে পড়ুয়াদের জন্য বরাদ্দ ব্রেড- বাটার, ডিমসিদ্ধ, দুধ, কর্নফ্লেক্স, আপেল সহ আরও নানা পুষ্টিকর খাবার। প্রতিদিনই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খাবারের মেনু বদল করা হয়। ডিজিটাল ক্লাসরুম। প্রতিটি ক্লাস ভিডিও রেকর্ডিং করা হয়। তা পাঠানো হয় অভিভাবকদের। স্কুলে রয়েছে বায়োমেট্রিক হাজিরার ব্যবস্থা। পড়ুয়া থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকা, সকলকেই আধুনিক পদ্ধতিতে হাজিরা দিতে হয়। না, এটা কর্পোরেট সংস্থা পরিচালিত কোনও স্কুল নয়। রাজ্য সরকারের অধীনেই রয়েছে বর্ধমানের এই স্কুল। শ্যামসায়রের শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সরকারি স্কুল সম্পর্কে ধারণাই বদলে দিয়েছেন। শিক্ষিকা লাবণ্য রায় ও প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী নিজেদের বেতন থেকে ছাত্রছাত্রীদের জন্য টাকা খরচ করেন। শুক্রবার স্কুলে ‘রাইটিং ক্লাব’ এর উদ্বোধন হয়েছে। পড়ুয়ারা নিজের মনের কথা তাতে লিখতে পারবে। তাদের লেখার ক্ষমতা বাড়ানোর জন্যই এমন উদ্যোগ। মহকুমা শাসক তীর্থঙ্কর বিশ্বাস এদিন স্কুলে হাজির হয়েছিলেন। তিনি বলেন, এটা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এমনটা শোনা যায় না। শিক্ষক-শিক্ষিকারা পড়ুয়াদের প্রতি কতটা আন্তরিক তা বোঝা যায়।
Advertisement
বর্ধমানের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কথা শুনে উচ্ছ্বসিত জেলাশাসক আয়েশা রানি এ। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। শিক্ষক-শিক্ষিকারা এভাবে এগিয়ে এলে শিক্ষা ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।
শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২১৪জন পড়ুয়া রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন ছ’জন। অধিকাংশ পড়ুয়া প্রতিদিন ক্লাসে হাজির থাকে। অভিভাবকদের নিয়েও আলোচনা হয়। কারও কোথাও কোনও সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমেই মেটানো হয়। প্রাতরাশে অভিনবত্বের সঙ্গে নিয়ম মেনে মিড ডে মিলও হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী বলেন, রাসবিহারী ধনী নামে এক চিকিৎসকও আর্থিক সহায়তা করেন। আগে আমরা দেখতাম বহু পড়ুয়া না খেয়েই স্কুলে চলে আসত। সবার আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। কোনও কোনও পড়ুয়া টিফিন আনত। অনেক অভিভাবক ইচ্ছে থাকলেও অর্থের অভাবে টিফিন দিতে পারতেন না। অন্যদের টিফিন খেতে দেখে তাদের মন খারাপ হতো। সেকারণেই আমরা প্রাতরাশ চালু করেছি। পাশাপাশি পড়াশোনার মানও উন্নত করা হয়েছে। আধুনিক পদ্ধতিতে পড়ুয়াদের পাঠ দেওয়া হয়। ডিজিটাল ক্লাসরুমের সঙ্গে তারা অনেক আগেই পরিচিত হয়েছে। কেউ কোনও বিষয়ে পিছিয়ে থাকলে তাকে তা নিয়ে বিশেষভাবে পড়ানো হয়। পড়ুয়াদের যাতে বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা হয় তারজন্য রাইটিং ক্লাব চালু করা হয়েছে। বেশিরভাগ পড়ুয়া মুখস্থ করে রচনা লেখে। স্কুল কর্তৃপক্ষ চাইছে তারা নিজেরাই নিজেদের পছন্দের মতো বিষয়ে লেখালেখি করুক।
অভিভাবকরা বলেন, মিড ডে মিল নিয়ে এখন বিভিন্ন স্কুলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেখানে শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজেদের বেতনের টাকা খরচ করে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন। মহকুমা শাসক বলেন, স্কুলের পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হয়ে যেতে হয়। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও ভূমিকা প্রশংসনীয়। সরকারি স্কুল কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে টেক্কা দিচ্ছে। এটা অভাবনীয়।
শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২১৪জন পড়ুয়া রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন ছ’জন। অধিকাংশ পড়ুয়া প্রতিদিন ক্লাসে হাজির থাকে। অভিভাবকদের নিয়েও আলোচনা হয়। কারও কোথাও কোনও সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমেই মেটানো হয়। প্রাতরাশে অভিনবত্বের সঙ্গে নিয়ম মেনে মিড ডে মিলও হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী বলেন, রাসবিহারী ধনী নামে এক চিকিৎসকও আর্থিক সহায়তা করেন। আগে আমরা দেখতাম বহু পড়ুয়া না খেয়েই স্কুলে চলে আসত। সবার আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। কোনও কোনও পড়ুয়া টিফিন আনত। অনেক অভিভাবক ইচ্ছে থাকলেও অর্থের অভাবে টিফিন দিতে পারতেন না। অন্যদের টিফিন খেতে দেখে তাদের মন খারাপ হতো। সেকারণেই আমরা প্রাতরাশ চালু করেছি। পাশাপাশি পড়াশোনার মানও উন্নত করা হয়েছে। আধুনিক পদ্ধতিতে পড়ুয়াদের পাঠ দেওয়া হয়। ডিজিটাল ক্লাসরুমের সঙ্গে তারা অনেক আগেই পরিচিত হয়েছে। কেউ কোনও বিষয়ে পিছিয়ে থাকলে তাকে তা নিয়ে বিশেষভাবে পড়ানো হয়। পড়ুয়াদের যাতে বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা হয় তারজন্য রাইটিং ক্লাব চালু করা হয়েছে। বেশিরভাগ পড়ুয়া মুখস্থ করে রচনা লেখে। স্কুল কর্তৃপক্ষ চাইছে তারা নিজেরাই নিজেদের পছন্দের মতো বিষয়ে লেখালেখি করুক।
অভিভাবকরা বলেন, মিড ডে মিল নিয়ে এখন বিভিন্ন স্কুলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেখানে শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজেদের বেতনের টাকা খরচ করে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন। মহকুমা শাসক বলেন, স্কুলের পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হয়ে যেতে হয়। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও ভূমিকা প্রশংসনীয়। সরকারি স্কুল কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে টেক্কা দিচ্ছে। এটা অভাবনীয়।



