Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমানের নান্দুরে তরুণী খুনের ঘটনায় ধৃতের জামিন বাতিল

বর্ধমানের নান্দুরে তরুণী খুনের ঘটনায় ধৃতের জামিন বাতিল
  • ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বর্ধমান: চলতি বছরের আগস্ট মাসে বর্ধমানের নান্দুরে তরুণী খুনের ঘটনায় ধৃতকে শর্তাধীন জামিন দিয়েছিলেন পূর্ব বর্ধমানের জেলা জজ সুজয় সেনগুপ্ত। মঙ্গলবার সেই জামিন বাতিল করে দিলেন জেলা জজ। আইনজীবীদের দাবি, ওই ঘটনার দু’মাসের মধ্যে চার্জশিট জমা দিলেও প্রমাণ্য নথি হিসেবে ফরেন্সিক তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাতে ছিল না। জামিনের নির্দেশের পরেই তদন্তকারী অফিসার আদালতে ‘সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট’ দিয়ে ওইসব নথি জমা দেন। তা দেখেই তরুণী খুনে ধৃত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরার বাসিন্দা অজয় টুডুর জামিন বাতিল করে দেন জেলা জজ। ইতিমধ্যেই তদন্তকারী অফিসার চার্জ গঠনের জন্য আদালতে আবেদন জানিয়ে রেখেছেন। মৃতার বাবা সুকান্ত হাঁসদার আইনজীবী পার্থ হাটি বলেন, জামিন দেওয়ার পর সেই এজলাস থেকেই তা বাতিলের নির্দেশ দেওয়ার ঘটনা বিরল। মঙ্গলবার দীর্ঘ শুনানির পরে জেলা জজ সেই সিদ্ধান্তই নিয়েছেন। 
Advertisement
এর ফলে, ‘কাস্টডি ট্রায়াল’ বা জেলে থেকেই অভিযুক্তের বিচার-প্রক্রিয়ায় বাধা রইল না বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। তাঁরা জানান, জেলা জজ গত ১২ নভেম্বর ধৃতকে শর্তাধীন জামিন দিয়েছিলেন। ওইদিনের শুনানিতে বিশেষ সরকারি আইনজীবী হাজির ছিলেন না। তাঁর অনুপস্থিতিতে জেলা আদালতের প্যানেলভুক্ত এক সরকারি আইনজীবী শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন। সেই সরকারি আইনজীবী জামিনের আবেদনের বিরোধিতায় সব তথ্য তুলে ধরতে পারেননি। তদন্তে বেশকিছু অগ্রগতি হয়েছে উল্লেখ করে জামিন বাতিল করা হল বলে নির্দেশে জানিয়েছেন জেলা জজ। খুনিকে ধরতে জেলা পুলিসের সর্বোচ্চ কর্তা বাছাই করা ২২জন পুলিস অফিসারকে নিয়ে যে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছিলেন তাও নির্দেশে উল্লেখ করেছেন বিচারক। 
মামলায় স্পেশাল পিপি নিয়োগের কথাও জামিন মঞ্জুরের শুনানিতে গোপন রাখা হয়েছিল বলেও নির্দেশে উল্লেখ করেছেন জেলা জজ। আইনজীবীরা আরও জানান, জেলা জজই আবার জামিন বাতিলের শুনানি গ্রহণ করতে পারবেন কি না, সেনিয়ে সরকারি আইনজীবী দেবরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় ও পার্থ হাটির সঙ্গে অভিযুক্তের আইনজীবীর দীর্ঘক্ষণ তর্ক–বিতর্ক হয়। প্রায় দেড়-দু’ঘণ্টা ধরে শুনানি চলার পরে জেলা জজ জামিন বাতিলের নির্দেশ দেন। ধৃতের আইনজীবী গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এটা মিডিয়া-ট্রায়াল। শুনানি চলাকালীন পুলিসের বড় কর্তারা পর্যন্ত হাজির ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১৪ আগস্ট বাড়ির কাছেই খুন হয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা হাঁসদা। সেই ঘটনায় ২৪ আগস্ট পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া থেকে অজয়কে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তার দু’মাসের মধ্যেই চার্জশিট দেন তদন্তকারী অফিসাররা। তারপরেই জামিন চেয়ে আদালতে আবেদন করেন ধৃতের আইনজীবী গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আদালতকে জানিয়েছিলেন, এই মামলায় তদন্ত শেষ হয়ে গিয়েছে। তাঁকে জেলে আটকে রাখার কোনও মানে হয় না। জেলা জজ শর্তসাপেক্ষে জামিন দেন। কিন্তু, সেই শর্ত পূরণ করতে পারেনি বলে তিনি জেল থেকে ছাড়া পাননি। এর মধ্যে গত ২০ নভেম্বর তদন্তকারী অফিসার আদালতে জামিন-বাতিলের জন্য আবেদন করেন। ২৩ নভেম্বর ‘সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট’ জমা দিয়েছে পুলিস। সেখানে ফরেন্সিক ল্যাবরেটরির নথি, আঙুলের ছাপ, বিশেষজ্ঞের মতামত, টাওয়ার লোকেশনের রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়।
আইনজীবী পার্থ হাটি বলেন, ওই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে যে ছুরি দিয়ে প্রিয়াঙ্কাকে খুন করা হয়েছিল, সেই ছুরিতে অভিযুক্তের আঙুলের ছাপ ও রক্তের নমুনা মিলেছে। এছাড়াও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে ‘গেইট প্যাটার্ন’ পদ্ধতি করেছিল ফরেন্সিক। তাতেও নান্দুরে অজয়ের উপস্থিতি প্রমাণ হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ