নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পরিবেশবান্ধব হওয়ায় টোটো চলাচল শুরুর পরই স্বাগত জানিয়েছিলেন বাসিন্দারা। এই টোটোই এখন বর্ধমান শহরের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। টোটোর দৌরাত্ম্যে শহরের খোসবাগান, বিসি রোড, স্টেশন চত্বর, হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় নিত্য যানজট হচ্ছে। আমজনতার পথচলা দায় হয়ে উঠেছে। সমস্যার সমাধানে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় একাধিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল। যদিও বাস্তবে তার প্রতিফলন হয়নি। যার মাশুল দিতে হচ্ছে বর্ধমান শহরের আমজনতাকে। সকলেই চাইছেন টোটোর দৌরাত্ম্যে দ্রুত রাশ টানা হোক। কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হোক। এবিষয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার বলেন, বহু টোটোচালক নিয়ম মানছেন না। বিষয়টা আমাদের নজরে আছে।
Advertisement
বর্ধমান শহরের জিটি রোড থেকে অলিগলিতে যাত্রী নিয়ে ছুটছে টোটো। প্রথম ধাপেই টোটোর গতিতে রাশ টানতে তত্পর হয় স্থানীয় প্রশাসন। ধাপে ধাপে টিন, নীল এবং সবুজ ভিন্ন দুই রঙের টোটো চিহ্নিতকরণের কাজ হয়েছিল। তাতেও সুরাহা না হওয়ায় পরবর্তীতে টোটোতে সাঁটানো হয় কিউআর কোড। যদিও সব চেষ্টাই বিফলে যায়। শহরে ক্রমশ দৌরাত্ম্য বাড়তে থাকে টোটোর। স্বাভাবিকভাবেই শহরের একাধিক এলাকায় বাড়ছে যানজট। শহরের খোসবাগান, বড়বাজার, হাসপাতাল এলাকা, বিসি রোড, রানিগঞ্জ বাজার মোড় সহ বিভিন্ন জায়গায় যানজট লেগেই থাকে। খোসবাগানের রাস্তায় টোটোয় জন্য অ্যাম্বুলেন্সের গতি আটকে যায়। হাসপাতালের ইমার্জেন্সি গেটে টোটো দাঁড়িয়ে থাকায় সমস্যা হয়। স্টেশন চত্বরের পালিকা বাজার এলাকায় রাস্তা দখল করে টোটো দাঁড়িয়ে থাকায় বাইক, গাড়ি বা হেঁটে চলাচলে সমস্যা হয়। ট্রাফিক পুলিস মাঝেমধ্যে সক্রিয় হলে যানজট কমে। নজরদারি কমলেই ফের টোটোচালকদের দৌরাত্ম্য শুরু হয়।
জিটি রোড সহ শহরের বড় রাস্তায় টোটো চলায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। দ্রুত টোটোর রাশ টানা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকেই। শহরের বাসিন্দা নাসির আলি খান বলেন, নম্বরবিহীন টোটোর দৌরাত্ম্যে পথ চলা দায় হয়ে ওঠে। শহরের এক ব্যবসায়ী সৈকত শেখ বলেন, বিভিন্ন সময় নানা নিয়ম চালু করেছিল পুরসভা। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। এর পাকাপাকি সমাধান দরকার। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে আসা এক রোগীর পরিজন বলেন, টোটো চালকদের একাংশ অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করে। মেডিক্যাল কলেজে আসব বলে চেপেছিলাম। কিন্তু রাজ কলেজের সামনে নামিয়ে দিল। এতে ভোগান্তির শিকার হতে হল। হেঁটে এতটা রাস্তা আসতে হল। টোটোচালক সালাউদ্দিন খান বলেন, একসময় নিয়মের কড়াকড়ি ছিল। কিন্তু এখন সেসব নেই। শহরের বাবুরবাগের বাসিন্দা তাপস দাস বলেন, খোসবাগানের রাস্তা ওয়ান ওয়ে করায় কিছুদিন যানজট কম হচ্ছিল। কড়াকড়ি কমতেই আবার আগের মতো যানজট হচ্ছে। রোগী ও পরিজনরা সমস্যায় পড়েন। স্কুল ও অফিসটাইমে খুব সমস্যা হয়। পুলিসের দেখা দরকার। বিধায়ক খোকন দাস বলেন, যারা অবৈধভাবে টোটো চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরসভা যে নিয়ম বেঁধে দিয়েছিল তা সকলকেই মানতে হবে।



