Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমান শহরে মাংসের দোকানের আড়ালে দেদার সাট্টা, অভিযানে পর্দাফাঁস পুলিসের

বর্ধমান শহরে মাংসের দোকানের আড়ালে দেদার সাট্টা, অভিযানে পর্দাফাঁস পুলিসের
  • ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বধর্মান: মুরগির মাংস বিক্রির দোকান। এলাকায় আরও কয়েকটি দোকান রয়েছে। নির্দিষ্ট সময় ছাড়া ওই দোকানগুলিতে তেমন ভিড় হয় না। কিন্তু বর্ধমান শহরের নার্স কোর্য়াটারের কাছে একটি দোকানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লোকজনের আনাগোনা লেগেই থাকত। অনেকেই তার কারণ খুঁজে পেত না। বুধবার দুপুরে পুলিসের অভিযানের পর রহস্য উন্মোচন হয়। পুলিস দোকান থেকে কম্পিউটার সহ বেশকিছু সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে। সেই দোকানে অনলাইন সাট্টা চলত বলে পুলিস জানতে পারে। বহিরাগত যুবক, অনেক পড়ুয়া এখানে এসে টাকা খুইয়েছে। এছাড়া বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করতে আসা বহু রোগীর পরিবারও তাদের খপ্পরে পড়েছে। 
Advertisement
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই মাংস বিক্রির দোকানে সাট্টা চলত। অল্পবয়সিদের ভিড় লেগেই থাকত। এতদিন তাঁরা বিষয়টি না বুঝলেও পুলিসের অভিযানের পর সব পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। পুলিস তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে, চক্রের নেটওয়ার্ক জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে। একটি কম্পিউটার থাকলেই এধরনের সাট্টা চালানো যায়। তা‌ই জনবহুল এলাকায় এই কারবার চললেও কেউ টের পায় না। অনলাইনে প্রতি মাসে কয়েক কোটি টাকার খেলা চলত। অনেকে তাতে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। প্রথমদিকে কেউ কেউ টাকা জিতেছে। তারপর মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করে অনেকেই সর্বস্বান্ত হয়েছে। একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি চলে। কয়েক বছর আগে অনলাইন সাট্টার রমরমা বেড়েছিল। পুলিসের ধরপাকড়ে তা বন্ধ হয়ে যায়। ফের এই চক্রটি মাথা তোলার চেষ্টা করছে। 
পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, ওই দোকানে অভিযান চালিয়ে বেশকিছু সামগ্রী বা঩জেয়াপ্ত করা হয়েছে। দোকানে অনলাইন জুয়া চলত বলে জানা গিয়েছে। 
পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, নার্স কোয়ার্টার ও ডাক্তারি পড়ুয়াদের হস্টেলের কাছে ওই মুরগির দোকানে কয়েক মাস ধরেই এই কারবার চলত। মাংস বিক্রেতাই সাট্টা চালাত। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, ওই মাংস বিক্রেতা এই নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা কয়েকজনের নাম জানিয়েছে। তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। অল্পবয়সিরাই সাট্টার নেশায় আসক্ত হয়েছে। নার্স কোয়ার্টারের কাছে ওই এলাকায় ডাক্তারি পড়ুয়াদের যাতায়াত ছিল। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে এই দোকানটি বেশি দূরে নয়। মাংস কিনতে আসা ক্রেতাদের মধ্যে থেকেই অভিযুক্ত শিকার বেছে নিত। বিভিন্ন কৌশলে নেশা ধরিয়ে সে ফায়দা তুলত। ওই বিক্রেতা কমিশনের বিনিময়ে জুয়ার ঠেক চালাত বলে পুলিস জানতে পেরেছে।
সম্পর্কিত সংবাদ