Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমানে রমরমিয়ে চলছে ভ্রূণহত্যা, স্বাস্থ্যদপ্তর নীরব, বাড়ছে কারবার  

বর্ধমানে রমরমিয়ে চলছে ভ্রূণহত্যা, স্বাস্থ্যদপ্তর নীরব, বাড়ছে কারবার
 
  • ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ভ্রূণহত্যার হাব হয়ে উঠেছে বর্ধমান। হামেশাই শহরের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রূণ উদ্ধার হচ্ছে। গতবছর বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচটি ভ্রূণ উদ্ধার হয়েছিল। শনিবার সকালে ফের তেলিপুকুরে একটি ভ্রূণ উদ্ধার হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, স্বাস্থ্যদপ্তর নীরব থাকায় অবৈধ কাজের রমরমা বেড়েছে। কোথাও ভ্রূণ পড়ে থাকলে সেটা উদ্ধার করা ছাড়া প্রশাসন আর কিছুই করছে না। কোথা থেকে তা আসছে? কারা ভ্রূণ ফেলে যাচ্ছে তা নিয়ে তদন্ত না এগনোর জন্যই অবৈধ কারবারের রমরমা বেড়েছে বলে অভিযোগ। ভ্রূণ নষ্ট করার জন্য অন্য রাজ্য থেকেও মহিলাদের আনা হচ্ছে। তেলিপুকুর এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভ্রূণ বর্ধমান শহরের আশেপাশে উদ্ধার হয়েছে। গত  চার-পাঁচ বছর ধরে এই প্রবণতা বেড়েছে। কোনও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য জায়গায় ভ্রূণ নষ্ট করা সম্ভব নয়। সেখান থেকে রাতের অন্ধকারে তা বিভিন্ন জায়গায় ফেলা হচ্ছে। এদিন সকালে তেলিপুকুর থেকে তেজগঞ্জ যাওয়ার রাস্তায় ভ্রূণটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিসকে খবর দেন। তারা সেটি উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, সেটি কে বা কারা ফেলে গিয়েছে তা চিহ্নিত করার জন্য সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা হচ্ছে। স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে তেমন তথ্য দিতে পারেন না। এর আগেও তেলিপুকুর এলাকায় ভ্রূণ উদ্ধার হয়েছিল। এছাড়া নবাবহাট এলাকাতেও তা উদ্ধার হয়েছে। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার বলেন, অবৈধ কাজ যারা করছে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। অতীতেও এধরনের ঘটনা হয়নি। আগে এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করলে এধরনের অবৈধ কাজের প্রবণতা বাড়ত না। নিশ্চয়ই কোনও না কোনও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এসব হচ্ছে। চিকিৎসকদেরও কেউ কেউ নিশ্চয়ই জড়িত রয়েছেন। তাছাড়া এই কাজ হওয়া সম্ভব নয়। 
Advertisement
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় বলেন, বিষয়টি উদ্বেগের। এই অবৈধ কারবার বন্ধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দরকার হলে বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে আমরা অভিযান চালাব। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, কারবারে যুক্ত থাকা লোকজনদের চিহ্নিত করার জন্য আগে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনও প্রমাণ রেখে কাজ করছে না। অ্যাবরশন করার সময় তারা রেজিস্টারে রোগীর নাম নথিভুক্ত করছে না। তবে এই কারবার বন্ধ করার জন্য অন্য কৌশল নেওয়া হবে। তা বন্ধ করতে না পারলে আগামী দিনে এই প্রবণতা আরও বেড়ে যাবে। কোনও চিকিৎসক এর সঙ্গে যুক্ত থাকলে তাঁকে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়া হবে।  
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ