নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি এবং অবৈধভাবে পুকুর ভরাট বন্ধের দাবিতে এবার পোস্টার পড়ল বর্ধমান পুরসভার দেওয়ালে। ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে শহরে। শনিবার রাতে কেউ বা কারা ওই বেনামি পোস্টার সাঁটিয়ে দিয়ে যায়। রবিবার তা স্থানীয়দের চোখে পড়ে। নবাবহাট থেকে কেশবগঞ্জচটি পর্যন্ত এলাকায় সিন্ডিকেট রাজ চলছে বলে ওই পোস্টারে অভিযোগ করা হয়েছে। পোস্টারে এক ব্যক্তির ছবি দিয়ে বলা হয়েছে, এক কাউন্সিলারের মদতে তিনি তোলাবাজি করছেন। প্রভাবশালীদের হাত মাথায় থাকায় কেউ তাঁর বিরুদ্ধে যাওয়ার সাহস দেখায় না। পোস্টারে লেখা রয়েছে, ওই ব্যক্তি নয়ানজুলি বন্ধ করে নবাবহাট এলাকায় রাস্তা তৈরি করেছেন। তিনি তোলাবাজি, সরকারি জায়গা দখল এবং পুকুর ভরাট করলেও কেউ বাধা দেয় না। এক কাউন্সিলারের হাত তাঁর মাথার উপর থাকায় তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, পোস্টারে যার ছবি দেওয়া হয়েছে তিনি শাসক দলের ঘনিষ্ঠ। তাঁর সঙ্গে একাধিক প্রভাবশালীর যোগাযোগ রয়েছে। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, পোস্টারের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। তবে কারো বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ পুরসভায় করা হলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে আমরা একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছি। পুকুর ভরাট বন্ধ করা হয়েছে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, দল অসামাজিক কাজে কাউকে মদত দেয় না। কেউ দলে নাম ভাঙ্গিয়ে অবৈধ কাজ করার চেষ্টা করলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Advertisement
শহরের বাসিন্দারা বলেন, বর্ধমানের বিভিন্ন এলাকাতেই অবৈধ নির্মাণ এবং সিন্ডিকেটরাজ চলছে। বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে সরাসরি অবৈধ কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। শহর লাগোয়া পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতেও একই অবস্থা। সম্প্রতি শহরে আটটি পুকুর ভরাটের অভিযোগ পুরসভায় জমা পড়ে। জেলাশাসক আয়েশা রানি এ অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। এলাকার বাসিন্দারা আরও বলেন, নবাবহাট এলাকায় নির্মাণকাজ সিন্ডিকেটকে বাদ রেখে করা যায় না। ইমারতি সামগ্রী থেকে রাজমিস্ত্রি সব কিছুই তারাই সরবরাহ করে। তাদের এড়িয়ে কেউ কাজ করার চেষ্টা করলে তাঁকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয়। বিজেপি নেতা রাজু পাত্র বলেন, শাসক দলের প্রভাবশালীদের মদতে এসব চলছে। প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্যই তারা বেপরোয়া হয়ে গিয়েছে। নবাবহাট, কেশবগঞ্জচটি, গোদা এলাকায় কেউ সম্পত্তি বিক্রি করতে গেলেও আগে সিন্ডিকেটকে সন্তুষ্ট করতে হয়। জমির কী দাম হবে সেটা তারাই ঠিক করে। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন হওয়া দরকার। তৃণমূল অবশ্য তা মানতে নারাজ। তাদের দাবি, থানায় কারও বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ করলে পুলিস কড়া পদক্ষেপ নেয়। শাসক দলের কেউ এসবে যুক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দল কখনওই প্রশাসনের কাজে হস্তক্ষেপ করে না।



